সকাল থেকেই মাঠে নেমেছেন কৃষকরা। কেউ কাস্তে হাতে পাট কাটছেন, কেউ কাটা পাটের আঁটি বাঁধছেন। পাশেই জাগ দেয়ার জন্য পানিতে নামানো হচ্ছে পাটের আঁটি। কোথাও আবার জাগ দেয়া পাট থেকে আঁশ ছাড়িয়ে রোদে শুকানো হচ্ছে। কয়েক মাসের শ্রম আর পরিচর্যার পর এখন মাঠ জুড়ে চলছে ‘সোনালি আঁশ’ ঘরে তোলার ব্যস্ততা। ভালো ফলনের সঙ্গে বাজারে সন্তোষজনক দাম পাওয়ায় নাটোরের লালপুরে পাটচাষিদের মুখেও ফুটেছে স্বস্তির হাসি। সম্প্রতি উপজেলার দুড়দুড়িয়া, বিলমাড়িয়া, আড়বাব ও ওয়ালিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়। কৃষকরা বলছেন, অনুকূল আবহাওয়া ও রোগবালাই তুলনামূলক কম থাকায় এবার ফলন ভালো হয়েছে। বর্তমানে প্রতি মণ পাট ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
এ দাম অব্যাহত থাকলে পাট চাষে ভালো লাভ হবে বলে আশা করছেন তারা। তাদের হিসাবে এ বছর প্রতি বিঘা জমিতে পাট চাষে খরচ হয়েছে প্রায় ২০ হাজার টাকা। পাট ও পাটকাঠি বিক্রি করে প্রতি বিঘায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় হচ্ছে। ফলে উৎপাদন খরচ বাদ দিয়েও ভালো লাভের সম্ভাবনা দেখছেন তারা। বড়বড়িয়া গ্রামের কৃষক মো. বেলাল হোসেন (৪০) এবার পাঁচ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। তিনি মানবজমিনকে বলেন, গত দুই মৌসুমে পাটের ভালো দাম পেয়েছি। এবারো আবহাওয়া অনুকূলে ছিল। রোগবালাই কম হওয়ায় তেমন সমস্যায় পড়তে হয়নি। ফলন ভালো হয়েছে, দামও ভালো পাচ্ছি। উধনপাড়া গ্রামের সাংবাদিক ও কৃষক মো. আলাউদ্দিন জালাল (৪৩) বলেন, ডিজেলের দাম বেশি হলেও রোগবালাই কম ছিল।
প্রতি বিঘায় ভালো ফলন হয়েছে। তবে পাটের বাজার ব্যবস্থাপনা কার্যকর করা, বন্ধ পাটকল চালু এবং পাটের বহুমুখী ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে। পাট ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হক মানবজমিনকে বলেন, গতবারের মতো এবারো পাটের ভালো দাম আছে। মানভেদে প্রতি মণ পাট সাড়ে তিন থেকে চার হাজার টাকায় ক্রয় করছেন তিনি। এমন দাম অব্যাহত থাকবে বলে আশা করছেন তিনি। উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে লালপুরের ১০টি ইউনিয়ন, একটি পৌরসভা ও পদ্মার চরাঞ্চলে ৮ হাজার ৬৬৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। গত মৌসুমের তুলনায় আবাদ বেড়েছে ১ হাজার ৯৫ হেক্টর। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ১৮ হাজার ৭৯১ বেল। সরকারি প্রণোদনার আওতায় ১ হাজার কৃষকের মধ্যে উন্নত পাটবীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রীতম কুমার হোড় মানবজমিনকে বলেন, এবার পাটের আবাদ গত বছরের তুলনায় ১ হাজার ৯৫ হেক্টর বেড়েছে। উপজেলা কৃষি অফিস কৃষকদের পরামর্শ ও প্রশিক্ষণের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে তদারকি করে আসছে।
