কিশোরগঞ্জে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের এক বিচারকের সামনে ২৪ হাজার ৮টি মামলার নথির স্তূপ। প্রেষণে থাকা মাত্র ৪ জন কর্মচারী নিয়ে চলছে ট্রাইব্যুনালের বিচার কার্যক্রম। এমন বিপুলসংখ্যক মামলার কারণে নিষ্পত্তিতে বাড়ছে নজিরবিহীন দীর্ঘসূত্রিতা। মামলা করে অধিকাংশ বিচারপ্রার্থীই অবর্ণনীয় দুর্ভোগ-ভোগান্তি ও দীর্ঘসূত্রিতার শিকার হলেও নিজ জীবনে রায় দেখে যাওয়ার সুযোগ হারাচ্ছেন। হতাশার কাফন জড়িয়ে মামলা লড়ে যাচ্ছেন তাদের উত্তরপুরুষগণ। আর এমন পরিস্থিতির মধ্যে মাত্র ৬ মাসে রেকর্ড ৮৪২টি মামলা নিষ্পত্তি করে বর্তমান বিচারক এ এস এম আনিসুল ইসলাম অন্ধকার গুহার শেষে যেনো আলোর ঝিলিক দেখালেন। আর এমন সুযোগ আইনজীবীদের মাধ্যমে কৌশল করে কাজে লাগাতে কিশোরগঞ্জের ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে প্রতিদিন হামলে পড়ছেন অসংখ্য বিচারপ্রার্থী। তবে, মামলা নিয়ে এমন ভোগান্তি ও দীর্ঘসূত্রিতা দূর করতে একাধিক বিচারকের পাশাপাশি স্থায়ী জনবল নিয়োগের তাগিদ কিশোরগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতি নেতৃবৃন্দের।
কিশোরগঞ্জের ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম দেখতে গিয়ে কথা হয় ভুক্তভোগী রেকর্ড সংশোধন মামলার বাদী মিঠামইন উপজেলার গোপদীঘি ইউনিয়নের শরীফপুর গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের ছেলে সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধ দুলাল মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, প্রায় এক যুগ আগে রেকর্ড সংশোধন মামলা রুজু করেন তিনি। এখনো কূল-কিনারা পাচ্ছেন না। কারণ অনেক মামলার কারণে অনেক লম্বা লম্বা তারিখ। নিজের জীবনে মামলার রায় দেখা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন তিনি। সেখানেই কথা হয় কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লতিবাবাদ ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামের মৃত আবদুল কুদ্দুছের ছেলে চল্লিশোর্ধ্ব আবদুস সাত্তারের সঙ্গে। তিনি বলেন, তার বাবা আবদুল কুদ্দুছ ও চাচা সোরাফ মিয়া, মুসলিম মিয়া বাদী হয়ে বাড়ির জমির রেকর্ড সংশোধন মামলা রুজু করেছিলেন ২০১৩ সালে। ইতিমধ্যেই তার বাবাসহ ওই দুই চাচা মারা গেছেন। মামলার রায় তারা দেখে যেতে পারেননি।
এখন তিনি খোঁজখবর নিতে এসেছেন। অবশ্য এ সময় এ দু’জনই বলেন, শুনেছি ৫-৬ মাস ধরে খুব তাড়াতাড়ি অনেক মামলার রায় অইতাছে। কিশোরগঞ্জ ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের সেরেস্তা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সাল থেকে ২০১৬ সালের মার্চ পর্যন্ত কিশোরগঞ্জ ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুালে ৪৫ হাজার মামলা রুজু হয়। কিছুটা চাপ কমাতে ২০২৬ সালের জুলাই মাসে জেলার অন্য ১৩টি উপজেলা আদালতে এখান থেকে ১ হাজার করে মোট ১৩ হাজার মামলা স্থানান্তর করা হয়। তারপর থেকে যায় ২৪ হাজার ৮টি মামলা। এর মধ্যে গত ছয় মাসে রেকর্ড ৮৪২টি মামলা নিষ্পত্তি হয়।
এ নিয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মো. আমিনুল ইসলাম রতনের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, গত ৬ মাসে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের বর্তমান বিচারক এ এস এম আনিসুল ইসলাম জনভোগান্তির বিষয়টি আমলে নিয়ে অতিরিক্ত সময় দিয়ে রেকর্ড পরিমাণ মামলা নিষ্পত্তি করেছেন সত্য। এমন ঘটনা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। তবে এখানে নিজস্ব জনবলসহ অন্তত পৃথক দু’জন বিচারক নিয়োগ করা না হলে অধিকাংশ বিচারপ্রার্থীই নিজ জীবনে নিজে রুজু করা মামলার রায় দেখে যেতে পারবেন না। এমন সমস্যা সমাধানে তিনি সরকার ও আইন মন্ত্রণালয়ের জরুরি পদক্ষেপ কামনা করেছেন।
