বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা প্রস্তাব মূল্যায়নে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে নতুন পদ্ধতি চালু করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। হায়ার এডুকেশন অ্যাক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট) প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপে গবেষণা প্রস্তাব মূল্যায়নের ক্ষেত্রে রিভিউয়ার নির্বাচন হবে লটারির মাধ্যমে এবং মূল্যায়নের নির্ধারিত সময়ের আগে কোনো রিভিউয়ার জানতে পারবেন না কোন গবেষণা প্রস্তাব তার কাছে যাচ্ছে। প্রতিটি গবেষণা প্রস্তাবের জন্য থাকবে একটি স্বতন্ত্র কোড, যাতে আবেদনকারীর পরিচয়ও গোপন থাকে।
ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেছেন, হিট প্রকল্পের প্রথম ধাপে উপ-প্রকল্প নির্বাচন নিয়ে কিছু নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছিল। বাস্তবতার সঙ্গে সেই ধারণার যথেষ্ট পার্থক্য থাকলেও গবেষক ও শিক্ষক সমাজে এমন ধারণা আর তৈরি হোক, ইউজিসি তা চায় না। এ কারণে দ্বিতীয় ধাপের মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। শুক্রবার রাজধানীর বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমিতে হিট প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত ‘উপ-প্রকল্প মূল্যায়ন পরিচিতি’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ইউজিসি চেয়ারম্যান জানান, গবেষণা প্রস্তাব মূল্যায়নের জন্য তিনটি উৎস থেকে সম্ভাব্য রিভিউয়ারদের তালিকা করা হয়েছে। আবেদনকারীদের প্রস্তাবিত বিশেষজ্ঞ, গুগল ফর্মের মাধ্যমে আগ্রহ প্রকাশকারী গবেষক এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট থেকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে প্রাথমিক প্যানেল গঠন করা হয়।
পরে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গবেষকদের প্রকাশনা, গবেষণা অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতা যাচাই করে চূড়ান্ত প্যানেল নির্ধারণ করে। তিনি বলেন, প্রতিটি প্রকল্পের জন্য ছয় থেকে আটজন সম্ভাব্য রিভিউয়ার রাখা হলেও লটারির মাধ্যমে তাদের মধ্য থেকে দু’জনকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচন করা হয়েছে। মূল্যায়নের সময়ের আগে কোনো রিভিউয়ার জানবেন না কোন গবেষণা প্রস্তাব তার কাছে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে মূল্যায়ন প্রক্রিয়াকে বাহ্যিক প্রভাব, ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও পক্ষপাত থেকে মুক্ত রাখা সম্ভব হবে।
অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, প্রকল্প নির্বাচনে ব্যক্তিগত পরিচয় নয়, গবেষণার গুণগত মান, নতুনত্ব এবং সম্ভাব্য প্রভাবই হবে মূল বিবেচ্য। শুধু অর্থায়ন বাড়ালেই গবেষণা সংস্কৃতির উন্নয়ন সম্ভব নয়, অর্থায়নের যোগ্যতা নির্ধারণ ও প্রস্তাব মূল্যায়নের প্রক্রিয়াও বিশ্বাসযোগ্য হতে হবে। গবেষকদের আস্থা অর্জন এবং আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা পরিবেশ গড়ে তুলতে স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক মূল্যায়ন ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও জানান, গত বছর অর্থায়ন পাওয়া ১৮০টি গবেষণা প্রকল্প নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রয়েছে। কোনো প্রকল্পে অনিয়ম, অর্থের অপব্যবহার বা নির্ধারিত লক্ষ্য
কর্মশালায় ইউজিসি’র সদস্য অধ্যাপক ড. মাছুমা হাবিব, অধ্যাপক ড. মো. আসলাম হোসেন, অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ চৌধুরী এবং হিট প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. আসাদুজ্জামানসহ ইউজিসি ও প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
