সরকারের চর হাজী রহিমুদ্দিন শেখ ওয়াক্‌ফ এস্টেট আত্মসাতের পাঁয়তারা

সরকারের চর হাজী রহিমুদ্দিন শেখ ওয়াক্‌ফ এস্টেট আত্মসাতের পাঁয়তারা

ফন্ট সাইজ:

মাদারীপুর শিবচর থানার সরকারের চর গ্রামের হাজী রহিমুদ্দিন শেখ ওয়াক্‌ফ এস্টেট আত্মসাতের চেষ্টা চলছে। অভিযোগ আছে, একটি মহলের যোগসাজশে হাজী রহিমুদ্দিন শেখ ওয়াক্‌ফ এস্টেট (ইসি নং- ১৩২৯০) দখলের পাঁয়তারা করছে কালাম হওলাদার ও এমদাদ হাওলাদার গং। শত বছরের পুরনো ওয়াক্‌ফ এস্টেটের বর্তমান মোতাওয়াল্লি বেহাতকৃত, অবৈধ বিক্রীত জমি উদ্ধার ও উন্নয়নমূলক কাজ যখন নতুন উদ্যমে নানান সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আলোচনায় আসে ঠিক তখনই তাদের নজর পড়ে এই ওয়াক্‌ফ এস্টেটের ওপর। এসব নিয়ে ওয়াক্‌ফ প্রশাসক বরাবর অবহিত করা হয়েছে।

ওয়াক্‌ফ প্রশাসক ২০২২ সালে এই এস্টেটের মোতাওয়াল্লির দায়িত্ব দেন রহিমুদ্দিন শেখের প্রথম পুত্র মদন শেখের নাতি ও ওয়াকিফের চতুর্থ বংশধর রেজাউল করিমকে। তিনি দায়িত্ব নেয়ার পর ওয়াক্‌ফ প্রশাসকের অনুমোদনে ইতিমধ্যেই এস্টেটে বেশ কিছু উন্নয়নমূলক কার্যক্রম হাতে নিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে বংশধর, এলাকার ভূমিহীন ও সর্বসাধারণের জন্য গণকবরস্থান নির্মাণ। যা ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ওয়াকিফের ইচ্ছা ও দলিলে শর্ত অনুযায়ী ইতিমধ্যেই একটি মসজিদ ও ঈদগাহ নির্মাণের কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। কিন্তু কালাম হাওলাদার গংয়ের বাধার কারণে তা বিলম্বিত হচ্ছে। বেহাতকৃত সম্পত্তি উদ্ধার ও উন্নয়ন কাজ অব্যাহত রাখাই কাল হয়ে দাঁড়ায় মোতাওয়াল্লি রেজাউল করিমের জন্য। ওয়াকিফের যে সকল বংশধর শুরু থেকেই সম্পত্তি ভোগ দখল এবং অবৈধভাবে নামে বেনামে বিক্রয়, বন্ধক ও ব্যক্তি নামে রেকর্ড রেখে এস্টেটকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছেন সেই কালাম হওলাদার, এমদাদ হাওলাদার গংরা ফের তৎপর এস্টেট আত্মসাতে।

উল্লেখ্য, ৯ই এপ্রিল ১৯১৯ সালে হাজী রহিম উদ্দিন শেখ তার নিজ মালিকানাধীন প্রায় ৩২ একর ভূমি ২৫২১নং দলিলে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য মসজিদের নামে ওয়াক্‌ফ করেন। ওয়াকিফের দ্বিতীয় পুত্র আমিনউদ্দিন শেখকে মোতাওয়াল্লি নিযুক্ত করেন। আমিনুদ্দিন শেখ মোতাওয়াল্লি নিযুক্ত হওয়ার পর থেকে আমিনুদ্দিনের চতুর্থ পুরুষ পর্যন্ত এস্টেটের সমস্ত সম্পত্তি নিজেদের সম্পত্তি হিসেবে গণ্য করে অন্য ওয়ারিশদের সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত, বসতবাড়ি থেকে বিতাড়ন ও প্রয়াত দলিলউদ্দিন হাওলাদারের লাশ দাফন করতে না দিয়ে উপরন্তু যাবতীয় সম্পত্তি ভোগ দখল, হস্তান্তর, বিক্রি করতে থাকে।

হাজী রহিমুদ্দিন শেখ তার সমস্ত সম্পত্তি জনগণের হিতার্থে মসজিদ, মাদ্রাসা, চিকিৎসালয়, স্কুল, রাস্তা, পুকুর খনন এবং বিভিন্ন দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে ব্যয় করার জন্য দলিলে উল্লেখ করে যান। কিন্তু বিগত ১০৭ বছর ধরে আমিনুদ্দিন শেখ, তার পুত্রগণ ও চতুর্থ পুরুষ পর্যন্ত নিয়মবহির্ভূতভাবে নিজেদের মোতাওয়াল্লি বলে এলাকায় প্রচার করে এই সম্পত্তি তাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি বলে এস্টেটটিকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে আসছে। ওয়াক্‌ফ এস্টেট যখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে প্রায় তখন হাজী রহিমুদ্দিন শেখের ওয়ারিশ রেজাউল করিমকে ওয়াক্‌ফ প্রশাসক তিন বছরের জন্য মোতাওয়াল্লি নিযুক্ত করেন। এবং রেজাউল করিম মোতাওয়াল্লি নিযুক্ত হওয়ার পর এস্টেট রক্ষার স্বার্থে বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম হাতে নেন। এ বিষয়ে বহেরাতলা দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল বারি উকিল বলেন, এস্টেটের বেহাতকৃত সম্পত্তি উদ্ধারসহ বর্তমান মোতাওয়াল্লি আন্তরিকভাবে কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, এর আগে কোনো মোতাওয়াল্লি এস্টেটের উন্নয়নে কাজ করেনি। পূর্বের দায়িত্বপ্রাপ্তরা এস্টেটের সম্পত্তি ভোগ ও বিক্রি করেছেন। উপযুক্ত মোতাওয়াল্লির অভাবে বেহাল অবস্থায় ছিল যার পরিস্থিতি বর্তমানে অনেকটাই পরিবর্তন হয়েছে। তিনি এস্টেটের সুরক্ষা চান।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন