কুষ্টিয়ায় মামলা বাণিজ্য ও তদন্ত নিয়ে ক্ষোভ

ফন্ট সাইজ:

কুষ্টিয়ায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া আটজনের পরিবারের সদস্যরা হত্যাকাণ্ডের দুই বছর পরও বিচার না পাওয়ায় গভীর হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা নিতে গড়িমসি করা হয়েছে, মামলায় নির্দোষ ব্যক্তিদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, আবার নাম বাদ দেওয়ার নামে বাণিজ্যও হয়েছে। তারা সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত অপরাধীদের বিচার এবং নির্দোষদের অব্যাহতির দাবি জানিয়েছেন। ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট কুষ্টিয়া শহরে আন্দোলন চলাকালে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকের কর্মী ইউসুফ শেখ। তার মেয়ে ও মামলার বাদী সীমা খাতুন অভিযোগ করেন, এসআই সাহেব আলী ও মুস্তাফিজ প্রকাশ্যে তার বাবাকে গুলি করলেও প্রথমে পুলিশ মামলা নেয়নি।

হত্যার ১০ দিন পর মামলা হলেও এতে নির্দোষ ব্যক্তিদের নাম যুক্ত করা হয়েছে এবং পরে নাম বাদ দেয়ার নামে অর্থ বাণিজ্য হয়েছে। দুই বছর পেরিয়ে গেলেও তারা বিচার পাননি বলে দাবি করেন। একই দিনের ঘটনায় শহরের থানার মোড় এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন গামছা ও লুঙ্গি বিক্রেতা বাবলু ফারাজী। তার ছেলে সুজন মাহমুদ জানান, থানা মামলা না নেওয়ায় আদালতে মামলা করতে হয়েছে। বর্তমানে মামলাটি পিবিআই তদন্ত করছে। তিনি দোষী পুলিশ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। শহীদ ওসামার বাবা জয়নুল আবেদীন বলেন, আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে তার ছেলে নিহত হলেও তারা মামলা করেননি। তিনি বলেন, ‘আমরা আল্লাহ্‌র কাছেই বিচার দিয়েছি।’

শহীদ সুরুজ আলীর স্ত্রী ফাহিমা খাতুনের অভিযোগ, তারা মামলা করার আগেই অন্য একজন মামলা করেছেন। ওই মামলায় কী আছে, তা তারা জানেন না। তিনি বলেন, মামলাকে কেন্দ্র করে অর্থ বাণিজ্য হয়েছে। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তি এবং নির্দোষদের অব্যাহতির দাবি জানান তিনি। শহীদ আশরাফুল ইসলামের স্ত্রী লাবণী আক্তার ইতি বলেন, তার স্বামীকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হলেও মামলায় পুলিশের নাম অন্তর্ভুক্ত করতে দেওয়া হয়নি। দুই বছর পরও বিচার না পাওয়ায় তারা হতাশ।

জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুষ্টিয়া শহরে পুলিশের গুলিতে ছয়জন, টিয়ারশেলের আঘাতে একজন এবং যুবলীগের হামলায় একজন নিহত হন। কুষ্টিয়ায় জুলাই আন্দোলনে শহীদ আটজন হলেন- আব্দুল্লাহ, ইউসুফ শেখ, ওসামা, বাবলু ফারাজী, সুরুজ আলী, আশরাফুল ইসলাম, সবুজ আলী ও মাহিম হোসেন। এছাড়া দেশের বিভিন্ন জেলায় আন্দোলনে প্রাণ দেন কুষ্টিয়ার আরও সাতজন। শহীদ পরিবারগুলোর দাবি, দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত হত্যাকারীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, সম্মানজনক পুনর্বাসন এবং শহীদ পরিবারের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন