ঢাকায় বড় বোনের বিয়ে খেতে গিয়ে আন্দোলনে নেমে শহীদ হন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের মোনায়েল আহমেদ ইমরান। মাদ্রাসাছাত্র ইমরানের মৃত্যুর ২ বছর পর সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান তার বাবা ছোয়াব মিয়া (৫৫)। এরপর বিপাকে পড়ে পরিবারটি। ইমরানের বাবার হিসাবে আসা ভাতার টাকা তুলতে পারছেন না। ইমরানের মা ইয়াসমিন আক্তার জানান, তার বড় ছেলে তোফায়েল আহমেদ ও মেয়ে জিনিয়া আক্তার নারায়ণগঞ্জে পলিটেকনিকে পড়াশুনা করতো। সে কারণে তাদেরকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ডে বাসা ভাড়া করে থাকতেন। তার স্বামী ছোয়াব মিয়া বেগুনবাজারে কাঁচা মালের ব্যবসা করতেন। ২০২৪ সালের ২১শে জুন তার বড় মেয়ে জিনিয়া নাসরীনের বিয়ে হয়। সে বিয়েতে যোগ দিতে নাসিরনগর থেকে ঢাকায় যান ইমরান।
এরপর আন্দোলন শুরু হলে ২০২৪ সালের ২১শে জুলাই শহীদ হন সতেরো বছর বয়সী ইমরান। আন্দোলনে যেতে নিষেধ করতেন তার মা। তারপরও চলে যেতো ইমরান। ওইদিন গরম থাকায় দুপুরে ঠাণ্ডা খাওয়ার কথা বলে ঘর থেকে বের হয়ে যায় সে। এরপর পুলিশের গুলিতে তার মৃত্যু হয়। রাতে লাশ পায় তার পরিবার। তার মা জানান, নাসিরনগরে গোকর্ন গ্রামের একটি মাদ্রাসায় হেফজ পড়া শেষ করে পার্শ্ববর্তী হবিগঞ্জের লাখাইয়ে আলীয়া মাদ্রাসায় ভর্তি হয়েছিল ইমরান। বোনের বিয়ে ঠিক হলে সেখান থেকে ঢাকায় যায়। ছোয়াব মিয়ার ২ ছেলে ও ২ মেয়ের মধ্যে সবার ছোট ছিল ইমরান। ইমরান ছাড়াও তার আরেক বোন জেবিন নাসিরনগরের রামপুরে গ্রামের বাড়িতে থাকতো দাদা-দাদির সঙ্গে। শহীদ পরিবার হিসেবে এককালীন ১০ লাখ টাকা পান ইমরানের বাবা। আর মাসে ১০ হাজার টাকা করে ভাতা দেয়া হয়। তবে ইমরানের পিতা মারা যাওয়ার পর সেই ভাতা উত্তোলন বন্ধ রয়েছে।
তবে তা উত্তোলনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান ইয়াসমিন আক্তার। এখন তিন ছেলে মেয়ে নিয়ে ঢাকাতেই বসবাস করেন। বড় ছেলে তোফায়েল প্রাইম ইউনিভার্সিটিতে পড়াশুনা করছে। তোফায়েলও আন্দোলনে আহত হন। তিনি বলেন, আল্লাহ যেভাবে চালায় চলি। এদিকে এ বছরের জানুয়ারিতে ইমরানের বাবা-মা গ্রামের বাড়িতে এলে সরাইলের কুট্টাপাড়া খেলার মাঠে বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানের নির্বাচনী সভায় জুলাইয়ে শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য ডাক পান তার পিতা ছোয়াব মিয়া। গত ২৩শে জানুয়ারি নির্বাচনী জনসভায় যাওয়ার পথে মোটরসাইকেলসহ ট্রাকের নিচে পিষ্ট হয়ে মারা যান তিনি। সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই আঞ্চলিক মহাসড়কের কুন্ডা ব্রিজের কাছে এ দুর্ঘটনা হয়। দুর্ঘটনায় তার মৃত্যুর খবর জানার পর দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান জেলা বিএনপি ও নাসিরনগর উপজেলা বিএনপিকে নিহতের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর এবং তাৎক্ষণিক সহায়তা করার নির্দেশ দেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ১৮ শহীদ: জুলাই আন্দোলনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ১৮ জন ঢাকায় মারা যান।
তারা হলেন- ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের বাসুদেব ইউনিয়নের বরিশল পশ্চিমপাড়ার মো. হোসাইন, নাসিরনগর গোয়ালনগরের মোনায়েল আহমেদ ইমরান, সরাইল অরুয়াইলের বড়পাইকা গ্রামের জসিম, ফতেপুর মাস্টার বাড়ির মাহমুদুল হাসান, শাহজাদাপুরের মলাইশ মোবারক হোসেন, তেলিকান্দির গাঙ্গলহাটির মো. রায়হান উদ্দিন, আখাউড়ার তুলাইশিমুল গ্রামের জাবির ইব্রাহীম, বিজয়নগরের পত্তনের মো. সাজিদুর রহমান ওমর, কসবার সৈয়দাবাদের জোবায়ের ওমর খান, নবীনগর বড়িকান্দির থোল্লাকান্দি গ্রামের রফিকুল ইসলাম, গৌরনগরের কামরুল মিয়া, বিটঘরের তানজিল মাহমুদ সুজয়, শিবপুরের মো. জাহিদ হোসেন, রতনপুর ভিটিবিশাড়া গ্রামের জাহিদুজ্জামান তানভীন, বাঞ্ছারামপুরের সোনারামপুর মো. তুহিন আহমেদ, উজানচর উত্তরপাড়ার মো. ইসমাইল, ফরদাবাদ দক্ষিণপাড়ার মো. ইমরান, দরিকান্দি গকুলনগরের আশিকুর রহমান।
