বিজয়ের আনন্দে বেরিয়ে আর ফেরা হয়নি রায়হানের

বিজয়ের আনন্দে বেরিয়ে আর ফেরা হয়নি রায়হানের

ফন্ট সাইজ:

২০২৪ সালে গণ-অভ্যুত্থানের চূড়ান্ত বিজয়ের দিন বিজয় মিছিলে অংশ নিয়েই আর ঘরে ফেরা হয়নি নোয়াখালীর তরুণ মো. রায়হানের। পুলিশের গুলিতে নিহত হন তিনি। দুই বছর পেরিয়ে গেলেও পরিবারের কাছে সময় যেন থমকে আছে সেই দিনেই। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে বাবা-মা ও ছোট বোনের জীবনে এখনো নেমে এসেছে শোকের ছায়া। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে রাজধানী ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন স্থানে নিহত নোয়াখালীর ২৬ জন শহীদের একজন মো. রায়হান। তার জন্ম সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব দুর্গানগর গ্রামের আমজাদ হাজী বাড়িতে। মধ্যবিত্ত পরিবারের মেধাবী সন্তান রায়হান। এসএসসি পাসের পর পরিবারের আর্থিক কষ্ট দূর করার স্বপ্ন নিয়ে তিনি রাজধানীর গুলশান কমার্স কলেজে ভর্তি হন। বাবা মো. মোজাম্মেল হোসেন রাজধানীর বাড্ডায় একটি বাড়িতে কেয়ারটেকারের চাকরি করতেন। রায়হান কাছেই একটি মেসে থেকে লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় এইচএসসি পরীক্ষার্থী রায়হান পরিবারের অজান্তেই নিয়মিত অংশ নিতেন। এমনকি সহপাঠী ও বন্ধুদেরও বলে রাখতেন, আন্দোলনে যাওয়ার বিষয়টি যেন পরিবারের কাউকে না জানানো হয়। ৫ই আগস্ট সরকার পতনের মধ্যদিয়ে গণ-অভ্যুত্থানের বিজয় এলে চারদিকে উৎসবের আবহ তৈরি হয়। সেই আনন্দে ঘরে থাকতে পারেননি রায়হানও। রাজধানীর বাড্ডায় বিজয় মিছিলে যোগ দেন তিনি। মিছিল চলাকালে পুলিশের গুলিতে ঘটনাস্থলেই শহীদ হন। দুই বছর পরও ছেলের স্মৃতি ভুলতে পারেননি মা আমেনা বেগম। কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, দুই বছর হয়ে গেল, রায়হান নেই। ঘরটা অন্ধকার হয়ে আছে।

ছেলে থাকলে ‘মা’ বলে ডাকতো। এখন ছেলের কথা মনে পড়লেই পৃথিবীটা অন্ধকার হয়ে আসে। তিনি ছেলের হত্যাসহ আন্দোলনে নিহত সব শহীদের হত্যার বিচার দাবি করেন। রায়হানের স্বজন, বন্ধু ও সহপাঠীদের ভাষ্য, তিনি ছিলেন শান্ত, ভদ্র, বিনয়ী ও মিশুক স্বভাবের একজন তরুণ। তার মৃত্যু শুধু পরিবারের নয়, পুরো এলাকার জন্যই অপূরণীয় ক্ষতি। তারা চান, সরকার শহীদ রায়হানের স্মৃতি সংরক্ষণে উদ্যোগ নিক। তার নামে নামকরণ করা এলাকার সড়কটি দ্রুত পাকাকরণ এবং তার স্মৃতি ধরে রাখতে স্থায়ী উদ্যোগ নেয়ার দাবিও জানান তারা। বর্তমানে শোকাহত বাবা-মা ও একমাত্র ছোট বোন উর্মি আক্তারকে নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে পরিবারটির।

মাত্র এক শতাংশ জমির উপর ছোট্ট একটি ঘরেই তাদের বসবাস। সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে কিছু সহায়তা পেলেও তা পরিবারের প্রয়োজনের তুলনায় খুবই সীমিত বলে জানান স্বজনরা। তাদের প্রত্যাশা, রাষ্ট্র শহীদ পরিবারের পাশে আরও কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা নিয়ে দাঁড়াবে। গুলশান কমার্স কলেজ সূত্রে জানা গেছে, শহীদ মো. রায়হান ২০২৪ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। একই বছরের অক্টোবরে প্রকাশিত ফলাফলে তিনি জিপিএ-২.৯২ পেয়ে উত্তীর্ণ হন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন