পাবনায় জুলাই হত্যা মামলার মূল আসামিরাই অধরা

ফন্ট সাইজ:

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় পাবনায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মিছিলে হামলা ও গুলিবর্ষণে দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনার দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো শুরু হয়নি বিচার কার্যক্রম। আলোচিত এ ঘটনায় দায়ের হওয়া দু’টি মামলার একটির অভিযোগপত্র আদালতে জমা হলেও অন্যটির তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। গ্রেপ্তার হওয়া অনেক আসামিই ইতিমধ্যে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। অন্যদিকে অভিযোগে থাকা কয়েকজন মূল আসামি এখনো গ্রেপ্তারের বাইরে রয়েছেন। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আন্দোলনের সহযোদ্ধা, নিহতদের স্বজন ও সচেতন নাগরিকরা। তাদের দাবি, দ্রুত বিচার কার্যক্রম শুরু করে প্রকৃত দায়ীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।

২০২৪ সালের ৪ঠা আগস্ট সকালে পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ ও পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ছাত্র-জনতা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শহরের আব্দুল হামিদ সড়কের ট্রাফিক মোড়ে জড়ো হন। একপর্যায়ে সেখানে হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। সেদিন গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম ও মাহাবুব হোসেন নিলয়। আহত হন শতাধিক শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ। ঘটনার পর ১১ ও ৩০শে আগস্ট পাবনা সদর থানায় পৃথক দু’টি মামলা দায়ের করা হয়।

মামলার অভিযোগে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের একাধিক নেতার বিরুদ্ধে হামলা ও গুলিবর্ষণের অভিযোগ আনা হয়। তদন্ত শেষে একটি মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হলেও অন্য মামলাটির তদন্ত এখনো জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অধীনে রয়েছে। মামলা-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দু’টি মামলায় এ পর্যন্ত ২০৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে গ্রেপ্তার হওয়া অনেক আসামিই ইতিমধ্যে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। অভিযোগে থাকা কয়েকজন আলোচিত ও প্রভাবশালী আসামি এখনো গ্রেপ্তারের বাইরে রয়েছেন। মামলার অভিযোগ ও তদন্ত-সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, আন্দোলনের সময় শহরের দুই প্রান্ত থেকে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এক প্রান্তে তৎকালীন সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক প্রিন্সকে পিস্তল হাতে গুলি ছুড়তে দেখা যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্য প্রান্তে যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক শিবলী সাদিক ও তার অনুসারীরা শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে গুলি চালানোর চেষ্টা করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

আন্দোলনকারীদের ধাওয়ায় তারা পিছু হটলেও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। এর কিছুক্ষণ পর ভাঁড়ারা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ খান এবং তার সহযোগীরা সশস্ত্র অবস্থায় হামলায় অংশ নেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। এরপর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক কামিল হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান মিন্টু, আব্দুল আহাদ বাবু, তৎকালীন পৌর মেয়র শরীফ উদ্দিন প্রধান, আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল্লাহ আল মামুন, রুহুল আমিনসহ আরও কয়েকজনকে পিস্তল ও শর্টগান হাতে শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি চালাতে দেখা যায় বলে মামলার অভিযোগ ও ভিডিও ফুটেজে উঠে এসেছে। দুই বছর পেরিয়ে গেলেও সেই রক্তাক্ত দিনের স্মৃতি এখনো তাড়া করে বেড়ায় পাবনাবাসীকে।

বিচার কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সহযোদ্ধারা। নিহতদের স্বজনদের অভিযোগ, সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বিচার প্রক্রিয়া ধীর হয়ে পড়ছে। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে এ ঘটনার বিচার দীর্ঘসূত্রিতায় হারিয়ে যেতে পারে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, শুধু তদন্ত শেষ করাই নয়, দ্রুত বিচার কার্যক্রম শুরু করে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তাদের ভাষায়, জুলাই আন্দোলনে প্রাণ হারানো দুই শিক্ষার্থীর আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন হবে তখনই, যখন এই হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন হবে এবং প্রকৃত দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন