তাসখন্দ মিশনের আগে শক্তি বাড়াচ্ছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০

তাসখন্দ মিশনের আগে শক্তি বাড়াচ্ছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০

ফন্ট সাইজ:

এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ ও অনূর্ধ্ব-১৭ এশিয়ান কাপ বাছাইপর্ব সামনে রেখে জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। যশোরের শামস-উল-হুদা ফুটবল একাডেমিতে চলছে বয়সভিত্তিক দুই দলের আবাসিক ক্যাম্প। একের পর এক প্রবাসী ফুটবলারের অন্তর্ভুক্তি দলে বাড়াচ্ছে শক্তিমত্তা।

আগস্টের শেষ সপ্তাহ ও সেপ্টেম্বরে বাছাইপর্ব খেলতে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলকে যেতে হবে উজবেকিস্তানের তাসখন্দে। আগামী ৩১শে আগস্ট থেকে ৬ই সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠেয় এই বাছাইপর্বের ‘বি’ গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ স্বাগতিক উজবেকিস্তান, সিরিয়া ও ভারত। আর নভেম্বরে শুরু হবে অনূর্ধ্ব-১৭ দলের বাছাইপর্ব। এই দুই দলের প্রস্তুতি এবং সামনে অনূর্ধ্ব-২৩ দলের স্কোয়াড তৈরি নিয়ে সোমবার রাজধানীর মতিঝিলে বাফুফে ভবনে ডেভেলপমেন্ট কমিটির দশম সভা হয়। সভা শেষে কমিটির চেয়ারম্যান নাসের শাহরিয়ার জাহেদী বলেন, ‘সামনে অনূর্ধ্ব-২০ ও অনূর্ধ্ব-১৭ দলের যে দুটো এশিয়া কোয়ালিফাইং ম্যাচ আছে, সেটি নিয়ে আজকের সভায় মূলত আলোচনা হয়েছে। আগস্টের শেষ সপ্তাহ ও সেপ্টেম্বরে অনূর্ধ্ব-২০ বাছাইপর্বের জন্য আমাদের যেতে হচ্ছে তাসখন্দ।’ যশোরের ক্যাম্পে অনূর্ধ্ব-২০ দলের সঙ্গে কাজ করছেন তিনজন বিদেশি কোচ।

একজন হেড কোচ, একজন ফিটনেস কোচ ও একজন গোলকিপিং কোচ। জাহেদী বলেন, ‘সেই সঙ্গে সেখানে আমাদের ফেডারেশনের এবং বাংলাদেশের যারা কোচবৃন্দ, সহকারী আছেন, ফিজিওথেরাপিস্ট ও অন্যান্য সাপোর্ট টেকনিশিয়ানস সবাই আছেন, ওখানে পুরোদমে আমাদের প্রস্তুতি চলছে।’ প্রস্তুতির অংশ হিসেবে অনূর্ধ্ব-২০ দল ইতিমধ্যে সেনাবাহিনীর দুটি দলের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলেছে। এই প্রসঙ্গে জাহেদী বলেন, ‘আমরা আশাবাদী, এবার আমরা অনূর্ধ্ব-২০ এএফসিতে কোয়ালিফাই করতে পারব। আমাদের ছেলেরা সেখানে ভালোই করেছে। সেনাবাহিনীর যারা ছিলেন টিমে, তারাও অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ এবং সহযোগিতামূলকভাবেই আমাদের সঙ্গে ছিলেন।’ ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে মোট পাঁচজন খেলোয়াড় ক্যাম্পে যোগ দেয়ার প্রক্রিয়ায় আছেন। এই তালিকার সবশেষ সংযোজন ইংল্যান্ড প্রবাসী ১৯ বছর বয়সী উইঙ্গার অ্যাডাম আব্বাস।

তিনি ৭ বা ৮ই আগস্ট ঢাকায় পৌঁছাবেন। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের যুবদল ও বার্নলি অনূর্ধ্ব-১৮ দলের হয়ে খেলা অ্যাডামকে নিয়ে গত এপ্রিল থেকেই কাজ শুরু করেছিল বাফুফে। আর প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে এবার তার দলভুক্তির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। ইতিমধ্যে ক্যাম্পে যোগ দিয়েছেন ইংল্যান্ড প্রবাসী ডিফেন্ডার জিদান ইউসুফ ও মাহি খান। অপেক্ষায় আছেন অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী ঈশান মালিক ও যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ফারজাদ আফতাবও। ক্যাম্পে একটা দুশ্চিন্তার খবরও আছে। সেনাবাহিনীর দলের বিপক্ষে ম্যাচ খেলার সময় হাতের কব্জিতে চোট পেয়েছেন দলের সম্ভাবনাময় স্ট্রাইকার মাহিম। এই প্রসঙ্গে জাহেদী বলেন, ‘আমাদের একটা খুব ভালো স্ট্রাইকার মাহিম, ও আর্মির টিমের সাথে খেলার সময় যশোরে একটু পড়ে যেয়ে হাতে তার রিস্ট ফ্র্যাকচার হয়।

ফ্র্যাকচারটা অত জটিল না, সাথে সাথে ফিক্স করা গেছে। ওকে আমরা ঢাকায়ও নিয়ে এসেছিলাম। ঢাকায় কনসালট্যান্টরা তাকে দেখেছেন এবং বলেছেন যে তিন সপ্তাহের ভেতরে সে রিকভার করে ফেলবে এবং আশা করছি যে ও আল্টিমেটলি আমাদের অনূর্ধ্ব-২০ টিমের সাথে থাকবে।’ এদিকে অনূর্ধ্ব-১৭ দলের প্রস্তুতিও এগিয়ে নিচ্ছে বাফুফে। জাহেদী বলেন, ‘অত্যন্ত আন্তরিক এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনূর্ধ্ব-১৭ নিয়ে আমাদের প্রস্তুতি চলছে। এবার আমরা যেটি করব—অনূর্ধ্ব-১৭ দলে আমরা প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ জনকে ক্যাম্পে নেবো।

প্রথম পর্যায়ে আমাদের ওখানে ৩৫ জন অনূর্ধ্ব-১৭ খেলোয়াড় যশোর শামস-উল-হুদা ফুটবল একাডেমিতে ক্যাম্প করছেন।’ তিনি আরও জানান, বাকি ৩০-৩৫ জন খেলোয়াড় আগামী ১৬-১৭ আগস্টের পর ক্যাম্পে যোগ দেবেন। এরপর ধাপে ধাপে বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নভেম্বরের জন্য চূড়ান্ত করা হবে অনূর্ধ্ব-১৭ দলের স্কোয়াড।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন