পিএসএলে বিদেশি খেলোয়াড় হিসেবে খেলতে হবে আমিরকে!

পিএসএলে বিদেশি খেলোয়াড় হিসেবে খেলতে হবে আমিরকে!

ফন্ট সাইজ:

যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব লাভ করায় আসন্ন পাকিস্তান সুপার লীগের (পিএসএল) আসরে বড় এক জটিলতার মুখে পড়েছেন মোহাম্মদ আমির। সম্প্রতি বৃটিশ পাসপোর্ট পাওয়ার কারণে ইংল্যান্ডের ঘরোয়া ক্রিকেটে দেশীয় বা স্থানীয় খেলোয়াড় হিসেবে খেলার সুযোগ পান পাকিস্তানের এই অভিজ্ঞ পেসার। একই কারণে পিএসএলে তাকে একজন ‘বিদেশি খেলোয়াড়’ হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে, যা তার আগামী মৌসুমের চুক্তি নিয়ে বড় ধরনের ধোঁয়াশা তৈরি করেছে।
সম্প্রতি উইজডেনের পডকাস্ট ‘দ্য স্কুপ এক্সটেন্ডেড’-এ নিজেই বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন ৩৪ বছর বয়সী এই পেসার।

গত জুনে কাউন্টি দল নটিংহ্যামশায়ার তাকে সই করানোর পর তার বৃটিশ নাগরিকত্ব নিশ্চিত হয়। এর সুবাদে চলতি বছরের ভাইটালিটি ব্লাস্ট এবং ‘দ্য হান্ড্রেড’ টুর্নামেন্টে ট্রেন্ট রকেটসের হয়ে স্থানীয় ক্রিকেটারের কোটায় মাঠে নামেন তিনি।
তবে পাকিস্তানি ফ্র্যাঞ্চাইজি লীগে এই পরিবর্তনটি উল্টো জটিলতা তৈরি করেছে। পিএসএলের নিয়ম অনুযায়ী, এতদিন আমিরকে স্থানীয় ক্রিকেটার হিসেবে রেজিস্টার্ড করা হলেও, নতুন নাগরিকত্বের কারণে তাকে এখন বিদেশি খেলোয়াড়ের কোটায় ফেলতে হবে। গত পিএসএল নিলামে রেকর্ড ৫.৪ কোটি পাকিস্তানি রুপিতে রাওয়ালপিন্ডি ফ্র্যাঞ্চাইজি তাকে দুই বছরের চুক্তিতে দলে ভেড়ায়, যা ২০২৭ মৌসুম পর্যন্ত বলবৎ থাকার কথা।

এখন প্রশ্ন উঠেছে, রাওয়ালপিন্ডি দল তাকে এই চুক্তির অধীনে ধরে রাখতে পারবে কি না। কারণ, পিএসএলের নিয়ম অনুযায়ী প্রতি দলের স্কোয়াডে নির্দিষ্ট সংখ্যক বিদেশি খেলোয়াড়ের কোটা থাকে। যদি আমিরকে বিদেশি খেলোয়াড় হিসেবে গণ্য করা হয়, তবে ফ্র্যাঞ্চাইজিটিকে হয় তাকে দল থেকে ছেড়ে দিতে হবে, নয়তো নতুন করে চুক্তি পুনর্র্নিধারণ করতে হবে কিংবা তাদের নির্ধারিত বিদেশি কোটার একটি স্লট তার জন্য ছাড়তে হবে।

এ বিষয়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) বা রাওয়ালপিন্ডি ফ্র্যাঞ্চাইজির পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছি জানানো হয়নি। এদিকে কিছু গণমাধ্যমে গুঞ্জন উঠেছে যে, পিএসএল ২০২৭ সালই হতে পারে আমিরের ক্যারিয়ারের শেষ আসর। যদিও এর কোনো নির্ভরযোগ্য ভিত্তি বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়া যায়নি।

ইংল্যান্ডে দেশীয় ক্রিকেটারের সুবিধা পেলেও নিজ দেশের লীগে বিদেশি খেলোয়াড়ের তকমা পাওয়ায় আমিরের দলবদল বা স্কোয়াডে থাকা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এখন পিসিবি এই জটিল পরিস্থিতি নিরসনে কী সিদ্ধান্ত নেয়, তার দিকেই তাকিয়ে আছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা। ফ্র্যাঞ্চাইজিটি তাদের স্কোয়াড গুছিয়ে নিতে পিসিবি-র চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে। সব মিলিয়ে, আমিরের এই নাগরিকত্ব পরিবর্তন আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ক্রিকেটের নিয়মের বৈপরীত্যকে আরও একবার স্পষ্টভাবে সামনে নিয়ে এসেছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন