ইনফান্তিনোকে মসনদে টিকিয়ে রাখতে ‘সবকিছু করবেন’ ট্রাম্প

ইনফান্তিনোকে মসনদে টিকিয়ে রাখতে ‘সবকিছু করবেন’ ট্রাম্প

ফন্ট সাইজ:

বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা- ফিফার মসনদ বাঁচাতে এবার সরাসরি ময়দানে নামছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রির একটি বিতর্কিত পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার পর ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ওপর পদত্যাগের চাপ চরম আকার ধারণ করেছে। তবে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরের খবর, বন্ধু ইনফান্তিনোকে রক্ষা করতে ‘সম্ভাব্য সবকিছুই’ করবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

যুক্তরাষ্ট্রের সফল আয়োজনে সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপ ফুটবলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় ট্রাম্পের কাছে অত্যন্ত আস্থাভাজন হয়ে উঠেছেন ইনফান্তিনো। হোয়াইট হাউসের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট তাকে খুব পছন্দ করেন। আমি নিশ্চিত, প্রেসিডেন্ট তাকে সহায়তার জন্য সম্ভাব্য সবকিছুই করবেন। ট্রাম্প এমন একজন মানুষ যিনি বিশ্বস্ততা মূল্যায়ন করতে জানেন। আর ইনফান্তিনো আমাদের দারুণ একটি বিশ্বকাপ উপহার দিয়েছেন।’
বিপাকে ইনফান্তিনো

মূলত প্রায় ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা করেন ইনফান্তিনো। তবে এই গোপন ও একতরফা উদ্যোগের খবর ফাঁস হতেই বিশ্বজুড়ে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়।

ইউরোপসহ (উয়েফা) এশিয়া (এএফসি) এবং অন্য ফুটবল ফেডারেশনগুলোর কড়া হুঁশিয়ারি এবং বয়কটের হুমকির মুখে পড়ে গত শনিবার নিজের এই বিতর্কিত পরিকল্পনা থেকে সরে আসতে বাধ্য হন ইনফান্তিনো। এই ঘটনার পর থেকেই তাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে কোমর বেঁধে নেমেছে ইংলিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ), ওয়েলসসহ ইউরোপের বেশ কয়েকটি শক্তিশালী ফুটবল বোর্ড।

বৈশ্বিক রাজনীতির নতুন সমীকরণ
ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোট আয়োজনের প্রস্তুতি নিলেও, আফ্রিকা এবং এশিয়ার দেশগুলোর ১০০টিরও বেশি ভোট এখনো তার পক্ষেই রয়েছে। কাতার, মরক্কো, শ্রীলঙ্কা ও লেবাননের মতো দেশগুলো ইতোমধ্যে ফিফা প্রধানের প্রতি নিজেদের সমর্থন ব্যক্ত করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ফিফার এই ক্ষমতার লড়াই এখন শুধু ক্রীড়াঙ্গনেই সীমাবদ্ধ নেই, এটি বৈশ্বিক ভূরাজনীতির অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের সরাসরি সমর্থন ইনফান্তিনোকে এই সংকট থেকে রক্ষা করতে পারে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

ইউরোপিয়ান ফুটবল বোর্ডের এক মুখপাত্র কঠোর ভাষায় বলেছেন, ‘যথাযথ সুশাসন, স্বচ্ছতা এবং সঠিক নেতৃত্বের অভাব আজ বিশ্ব ফুটবলকে গভীর সংকটে ফেলেছে। ফুটবলের স্বার্থে এই একনায়কসুলভ মনোভাব কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

এদিকে ফিফা প্রধানের পক্ষে সাফাই গেয়ে গ্লোবাল পার্টনারশিপের বিশেষ দূত পাওলো জাম্পোলি একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি জোরালোভাবে বলেছেন, ‘জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর রেকর্ড ফুটবলের সবচেয়ে ধনী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কোনো বন্ধ ক্লাব রক্ষা করার নয়, বরং খেলাটিকে আরও বেশি জাতি, সম্প্রদায় এবং শিশুদের জন্য উন্মুক্ত করার।’ এই উক্তিটি মূলত ইনফান্তিনোর একচ্ছত্র সমর্থক গোষ্ঠীর অবস্থানকে স্পষ্ট করে।

তাদের দাবি, ফিফা প্রধানের মূল লক্ষ্য ছিল ফুটবলের সম্পদ ও সুযোগ কেবল হাতে গোনা কিছু উন্নত বা বিত্তশালী দেশের মধ্যে কুক্ষিগত না রেখে বিশ্বের সমস্ত সদস্য রাষ্ট্রে সমানভাবে ছড়িয়ে দেয়া, যা এই সংকটময় মুহূর্তে তার টিকে থাকার বড় একটি রাজনৈতিক হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন