চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে মো. নুরুল আজম (৫৪) নামে পরোয়ানাভুক্ত এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানোর ঘটনায় রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আদালতে দাখিল করা পুলিশি প্রতিবেদনে তাকে ফটিকছড়ি পৌর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হিসেবে দেখানো হলেও অনুসন্ধানে ওই দাবির সঙ্গে দলীয় নথির মিল পাওয়া যায়নি। বরং প্রাপ্ত নথি ও স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্র বলছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি’র রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক কর্নেল (অব.) আজিমুল্লাহ বাহারের অনুসারী।
ফটিকছড়ি থানা পুলিশ রোববার রাতে পৌরসভার বিবিরহাট বাজারের ফটিক প্লাজার সামনে থেকে নুরুল আজমকে গ্রেপ্তার করে। সোমবার তাকে একটি রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আদালতে দাখিল করা পুলিশি প্রতিবেদনে বলা হয়, নুরুল আজম ফটিকছড়ি পৌর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে সংঘটিত সহিংস ঘটনায় জড়িত ছিলেন। তবে প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে এলাকায় এই রাজনৈতিক পরিচয় যাচাই করতে গিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। অনুসন্ধানে ফটিকছড়ি পৌর আওয়ামী লীগের প্রচারিত কমিটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সহ-সভাপতি পদে মো. নুরুল আজম নামে কোনো ব্যক্তির নাম নেই। ওই পদের কমিটিতে ৬নং নম্বরে মো. নুরুল আলম হাকিম নামে একজন নেতার নাম দেখা যায়। ফলে পুলিশ আদালতে যে রাজনৈতিক পরিচয় উল্লেখ করেছে, তার সঙ্গে দলীয় কমিটির তথ্যের সামঞ্জস্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, অনুসন্ধানে নুরুল আজমের নামে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে ইস্যুকৃত সদস্যপদের রসিদ ও সদস্য নিবন্ধনের নথি পাওয়া গেছে। এসব নথিতে তার নাম, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, ঠিকানা এবং সদস্যপদের তথ্য উল্লেখ রয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্র জানায়, নুরুল আজম দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি’র রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়। তিনি উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক কর্নেল আজিমুল্লাহ বাহারের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কর্নেল আজিমুল্লাহ বাহারের সঙ্গে তার একাধিক ছবি ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থিতির ছবি পাওয়া গেছে। নুরুল আজমের পরিবারের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয় ভুলভাবে উপস্থাপন করে তাকে একটি স্পর্শকাতর মামলায় জড়ানো হয়েছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের জবাবদিহি এবং প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন। ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল আলম খান বলেন, ‘মামলার ঘটনার সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন, এমন কিছু তথ্য-প্রমাণ পুলিশের হাতে এসেছে। সে কারণেই তাকে মামলায় আসামি করা হয়েছে।’
