কক্সবাজারে অনুমতি ছাড়াই চলছিল প্যারাসেলিং

কক্সবাজারে অনুমতি ছাড়াই চলছিল প্যারাসেলিং

ফন্ট সাইজ:

কক্সবাজারে প্যারাসেলিং করতে গিয়ে পর্যটক অক্ষর শৌভিক রায়ের মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান ‘ফ্লাই এয়ার সি স্পোর্টস প্যারাসেইলিং’-এর মালিক ফরিদ আহমদসহ অজ্ঞাত ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গত রোববার বিকালে নিহতের ছোট বোন মেধা মৃত্রিকা রায় কক্সবাজার সদর মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

এদিকে নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমের ওপর যথাযথ নজরদারি না থাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করেই প্যারাসেলিং পরিচালনা করায় এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে বলেও তারা দাবি করেন। এদিকে প্যারাসেইলিং করতে গিয়ে উপর থেকে সমুদ্রে ছিটকে পড়ে এক পর্যটকের মৃত্যুর পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। পাশাপাশি পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়টিও সামনে এসেছে। এ দুর্ঘটনার আগেও প্যারাসেইলিং করতে গিয়ে একাধিকবার দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন পর্যটকেরা। এরপরও প্রশাসন থেকে শক্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। জানা গেছে, সৈকতে তিনটি প্রতিষ্ঠান প্যারাসিইলিং পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের কোনোটিরই যথাযথ অনুমোদন নেই। নিরাপত্তামূলক শর্ত পূরণ না করেই ইজারার ভিত্তিতে এসব প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম চালাচ্ছিল। এসব প্রতিষ্ঠানে প্যারাসেইলিং করতে গিয়ে গত ১০ বছরে অন্তত অর্ধশত জন আহত হয়েছে।

বিভিন্ন সময় সমুদ্রের পানিতে পড়ে, ঝাউবাগানের গাছের ডগায় আটকে এবং বালুচরে পড়ে এসব পর্যটক আহত হয়েছেন। গত শনিবার পর্যটক অক্ষর শৌভিক রায়ের মৃত্যুর ঘটনার পর থেকে প্যারাসেইলিং এর বিষয়টি সামনে আসে। চুল-ছেঁড়া বিশ্লেষণে একের পর এক বেরিয়ে আসতে থাকে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ঘটনার প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্যারাসেইলিং প্রতিষ্ঠান গুলোর বিরুদ্ধে একাধিক নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। খোদ জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, অনুমতি ছাড়াই কার্যক্রম পরিচালনা করছিল ফ্লাই এয়ার সি স্পোর্টস প্যারাসেইলিং’সহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। জেলা প্রশাসনের দাবি, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত না করে অনুমোদনহীন ফ্লাই এয়ার সি স্পোর্টস প্যারাসেইলিং প্রতিষ্ঠান প্রতিকূল আবহাওয়ায় কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি প্যারাসেইলিংয়ের জন্য সাধারণত সর্বোচ্চ ৯০ থেকে ৯৫ কেজি ওজনের সীমা নির্ধারিত থাকলেও প্রায় ১১০ কেজি ওজনের শৌভিক রায়কে উড্ডয়নের অনুমতি দেয়। জেলা প্রশাসন সূত্র আরও জানায়, প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে প্রতিকূল আবহাওয়ার সতর্কতা উপেক্ষা, উপযুক্ত লাইফ জ্যাকেট না দেয়া, উদ্ধারকারী জেট স্কি বা রেসকিউ বোট প্রস্তুত না রাখা এবং অন্যান্য নিরাপত্তা বিধি পালন না করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান বলেন, ২০২৫ সালের পর থেকে জেলার কোনো প্রতিষ্ঠানকে প্যারাসেইলিং পরিচালনার অনুমতি দেয়া হয়নি। অনুমোদন ছাড়াই প্রতিষ্ঠানটি কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হাসান সিয়াম বলেন, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নির্দেশনা অনুযায়ী ঘণ্টায় ২০ কিলোমিটারের বেশি বেগে বাতাস প্রবাহিত হলে প্যারাসেইলিং বন্ধ রাখতে হয়। কিন্তু দুর্ঘটনার দিন কক্সবাজারে বাতাসের গতি ছিল প্রায় ৪০ কিলোমিটার। এ অবস্থাতেও পর্যটকদের নিয়ে উড্ডয়ন চালানো হয়। এছাড়া অতিরিক্ত ওজন থাকা সত্বেও তাকে উড়তে দেওয়া হয় এবং ওজন অনুযায়ী উপযুক্ত লাইফ জ্যাকেটও ছিল না বলে অভিযোগ প্রশাসনের। ফ্লাই এয়ার সি স্পোর্টস’ ছাড়াও হিমছড়ি ও প্যাঁচারদ্বীপ সৈকতে ‘ফানফেস্ট প্যারাসেইলিং’ এবং ‘স্যাটেলাইট ভিশন প্যারাসেইলিং’ নামের আরও দু’টি প্রতিষ্ঠান কক্সবাজারে প্যারাসেইলিং পরিচালনা করে বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনার পর থেকে ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। কক্সবাজার সদর থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, সৌভিক রায়ের মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান ‘ফ্লাই এয়ার সি স্পোর্টস প্যারাসেইলিং’-এর মালিক ফরিদ আহমদসহ অজ্ঞাত ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন