ধামরাইয়ে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে হত্যা এলাকাবাসীর ধাওয়ায় স্বামী আটক

ধামরাইয়ে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে হত্যা এলাকাবাসীর ধাওয়ায় স্বামী আটক

ফন্ট সাইজ:

ঢাকার ধামরাইয়ে পারিবারিক কলহের জেরে তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ পপি রাণী সরকার ওরফে সোমা (২৭)কে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী লিটন সরকারের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর স্থানীয়রা অভিযুক্তকে ধাওয়া দিয়ে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। গত রোববার রাত ১১টার দিকে উপজেলার যাদবপুর ইউনিয়নের গোমগ্রাম এলাকা থেকে পপি রাণীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সোমবার আটক লিটন সরকারকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকার শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গোমগ্রাম এলাকার মৃত নরেশ সরকারের ছেলে অটোরিকশাচালক লিটন সরকার প্রায় আট বছর আগে একই ইউনিয়নের দেলুটিয়া গ্রামের পরিমল সরকারের মেয়ে পপি রাণীকে ভালোবেসে বিয়ে করেন। তাদের দুই সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর লিটন মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন এবং প্রায়ই স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। রোববার দুপুরে পারিবারিক কলহের একপর্যায়ে তাদের সাত বছরের সন্তানের সামনেই লিটন লাঠি দিয়ে পপি রাণীকে মারধর করেন। একপর্যায়ে তিনি অচেতন হয়ে পড়লে তাকে বাথরুমের সামনে ফেলে রেখে লিটন বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। পরে সন্ধ্যায় পপির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে লিটন স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে কালামপুর হলি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। রাত ১১টার দিকে লাশ বাড়িতে নিয়ে এলে স্থানীয়রা লিটনকে ধাওয়া দিয়ে আটক করে পুলিশে খবর দেন। নিহতের বাবা পরিমল সরকার অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই তার মেয়ের ওপর নির্যাতন চালাতেন লিটন। প্রতিবার ক্ষমা চেয়ে মেয়েকে আবার বাড়িতে নিয়ে যেতেন। এবার অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় মারধর করে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি এ ঘটনার বিচার ও অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন। ধামরাই থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, প্রাথমিকভাবে নিহতের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। নিহতের বাবা থানায় মামলা করেছেন। আটক লিটনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন