সিরাজগঞ্জ জাতীয় জুট  মিলস বেসরকারি  বিনিয়োগে ফিরবে প্রাণ

সিরাজগঞ্জ জাতীয় জুট মিলস বেসরকারি বিনিয়োগে ফিরবে প্রাণ

ফন্ট সাইজ:

একসময় সিরাজগঞ্জ শহরের শিল্প নগরীর প্রাণকেন্দ্র ছিল কওমী জুটস মিলস; যা বর্তমানে জাতীয় জুট মিলস নামে পরিচিত। যেখানে ছিল শুধুই মেশিনের শব্দ আর হাজারো মানুষের কর্মব্যস্ততা। আজ সেখানেই এক ভৌতিক নীরবতা। তবুও নতুন প্রাণের আশায় আজও বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন হাজারো মানুষ।

৫৯ বছর বয়সী আব্দুল করিম কওমী জুট মিলে ১৫ বছর শ্রমিক হিসেবে কাজ করেছেন। কিন্তু কখনো স্থায়ী হতে পারেননি। যখন মিল বন্ধ হয়ে যায়, তার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। করিম তার স্ত্রী-সন্তান নিয়ে শহরের রায়পুরেই বসবাস করেন। সন্তানদের লেখাপড়া শেখাতে পারেননি। তার অর্থনৈতিক অবস্থা ও বয়সের ভার দেখে ছেলে রিকশা চালিয়ে এখন সংসার চালায়। একটা মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন অল্প বয়সেই।

আব্দুল করিম বলেন, ২০০৭ সালে মিল বন্ধ হওয়ার সময় ৭০ হাজার টাকা পেয়েছিলাম। সেই টাকা আর কতোদিন চলে? এখন ছেলে রিকশা চালিয়ে কোনোরকমে সংসার চালায়।

সরজমিন ঘুরে জানা গেছে, ১৯৬০ সালে সিরাজগঞ্জ শহরের রায়পুরে ৭৫ দশমিক ২১ একর জায়গা নিয়ে একেএম হাফিজ উদ্দিনসহ ১৪ জন ব্যক্তি কওমী জুট মিলস প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে এটিকে জাতীয়করণ করা হয়। এরপর ২০০৭ সালে অলাভজনক দেখিয়ে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠানটিকে বন্ধ করে দেয়। পুনরায় ২০১১ সালের ৯ই এপ্রিল নির্বাচনী অঙ্গীকার হিসেবে আওয়ামী লীগ সরকার এটিকে জাতীয় জুট মিলস নামে চালু করে। কিন্তু ক্রমাগত লোকসান ও অত্যধিক উৎপাদন ব্যয় হওয়ায় ২০২০ সালের ১লা জুলাই থেকে মিলটি আবারো বন্ধ করা হয়। পরবর্তীতে ২০২২ সালের ২৭শে জুলাই কুষ্টিয়ার রশিদ অটোমেটিক রাইস মিল নামক বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠান লিজ নিয়ে পাটজাত পণ্য উৎপাদন শুরু করেন। এরপর চব্বিশের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ৯ই আগস্ট যন্ত্রপাতি ও মালামাল বুঝে দিয়ে তারা উৎপাদন ছেড়ে চলে যান।

তবে সম্প্রতি বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম বলেছেন, শুধু সিরাজগঞ্জ নয়, দেশের সব বন্ধ ফ্যাক্টরি বেসরকারি বিনিয়োগে চালু করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। সেই প্রেক্ষিতে সিরাজগঞ্জ জাতীয় জুট মিলস দ্রুত সময়ের মধ্যেই চালু হবে। দেশের সুনামধন্য একটি বহুজাতিক কোম্পানি এখানে বিনিয়োগ করবে। আমরা সকল কার্যক্রম শেষ করে প্রধানমন্ত্রীর টেবিলে এই প্রস্তাবটি দিয়েছি। আশা করি, এটি দ্রুত সময়ের মধ্যে চালু হবে এবং বহু মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। পরিদর্শনকালে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

কথা হয় সিরাজগঞ্জ জাতীয় জুট মিলের মহা-ব্যবস্থাপক সাজ্জাদ হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, বেসরকারি বিনিয়োগে মিলটি নতুন করে আবার চালুর চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠান উৎপাদন কাজ শুরু করবে। এতে আবারো এ অঞ্চলের শ্রমিকদের কর্মচাঞ্চল্যতা ফিরবে। মিল চালু হওয়ার আশা ব্যক্ত করে সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট ও জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, জাতীয় জুট মিলস সিরাজগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী একটি প্রতিষ্ঠান। এটি বন্ধ হওয়ায় হাজারো মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। আমরা বরাবরই চেয়েছি মিলটি চালু হোক।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন