নাটোর চিনিকলের কোনো কর্মকর্তা নিয়মিত মিলের কোয়ার্টারে বসবাস করেন না। শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর শিল্প উপদেষ্টা ও বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ পরিদর্শনে এসে চিনিকলের কোনো কর্মকর্তাকে পাননি। তাকে মিলে স্বাগত জানিয়েছেন দু’জন ক্যাশিয়ার ও সিবিএ সাধারণ সম্পাদক।
ফলে উপস্থিত বিএনপি নেতাকর্মীসহ সকলেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি খোঁজ নিলে অন্যরা এ সময় তাকে জানান, চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আখলাছুর রহমান প্রতি বৃহস্পতিবার ঠাকুরগাঁয়ের বাসায় চলে যান আর আসেন রোববার। জিএম (অর্থ) লতিফা খানম, জিএম (প্রশাসন) আনোয়ার হোসেন ও জিএম (কারখানা) শরীফ উদ্দিন নিয়মিত বিভাগীয় শহর রাজশাহী থেকে চিনিকলে যাতায়াত করে অফিস করেন। কেউ চিনিকলে রাত্রীযাপন করেন না। গত বছর চিনিকলে এত বড় ডাকাতির ঘটনার পরও তাদের এমন কাণ্ডের কোনো পরিবর্তন হয়নি। জাতীয় সংসদের হুইপ ও নাটোর-২ সদর আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, প্রধানমন্ত্রীর শিল্প উপদেষ্টা চিনিকলে এসে কাউকে না পাওয়ার বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে মিলের সাধারণ শ্রমিক-কর্মচারীরা জানান, কোনো কর্মকর্তা চিনিকলে রাত্রীযাপন না করার সুযোগ কাজে লাগিয়ে গত বছরের ৩রা আগস্ট ডাকাতরা নিরাপত্তারক্ষীদের বেঁধে রেখে প্রায় কোটি টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনার এক বছর অতিবাহিত হওয়ার পরও কোনো মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। চিনিকলে ডাকাতির ঘটনায় ২০ জনকে আটক করা হয়েছে। তিন ডাকাত আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। ডাকাতিতে ব্যবহৃত ট্রাক চালক হেলপারকে আটক করা হলেও লুণ্ঠিত কোনো মালামাল উদ্ধার না হওয়ায় জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
তবে তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি পুলিশের নাটোরের পুলিশ সুপার মো. রায়হানুল ইসলাম জানান, চিনিকলের ডাকাতি হওয়া ৯৩ লাখ টাকার মালামালের প্রায় পুরোটাই তামার তার জাতীয় দ্রব্য। ডাকাতরা এগুলো দ্রুত গলিয়ে অন্য আকার ধারণ করার ফলে লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে উদ্ধারের চেষ্টা এখনো অব্যাহত রয়েছে। জানা যায়, গত বছরের ৩রা আগস্ট রাত দেড়টার দিকে নাটোর চিনিকলের ১২ জন নিরাপত্তারক্ষীকে অস্ত্রের মুখে বেঁধে রেখে ট্রাক ভিড়িয়ে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এতে ৯৩ লাখ ৪০ হাজার টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে ডাকাত দল। এ সময় ডাকাতরা নাটোর চিনিকলের বিভিন্ন দপ্তরের ফাইলপত্রও তছনছ করে। পরদিন বিকালে এ ঘটনায় মিলের সহকারী ব্যবস্থাপক অঞ্জন কুমার রায় বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে নাটোর থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলায় বলা হয়, রাত দেড়টার দিকে একদল ডাকাত চিনিকলের পেছনের ভাঙা দরজা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর তারা অস্ত্রের মুখে মিলের ১২ জন নিরাপত্তারক্ষীকে জিম্মি করে বেঁধে ফেলে। পরে তারা বিভিন্ন ধরনের ধাতব মালামাল লুট করে ট্রাকে তুলে পালিয়ে যায়। নাটোর সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আখলাছুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ভোরের দিকে একজন নৈশপ্রহরী কৌশলে তার বাঁধন খুলে মিলের হুইসেল বাজিয়ে দেয় এবং অন্য প্রহরীদের বাঁধন খুলে দিয়ে মসজিদের মাইক থেকে ডাকাতির ঘটনাটি সবাইকে জানায়। পুলিশ এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তিন প্রহরীকে কারাগারে পাঠায়। ডাকাতিতে ব্যবহৃত ট্রাক জব্দ করে পুলিশ তার চালক ও সহকারীকে গ্রেপ্তার করে। ডাকাত সন্দেহে পুলিশ মোট ২০ জনকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করলে তিন ডাকাত ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। তারপরও আজ পর্যন্ত নাটোর চিনিকলের লুণ্ঠিত কোনো মালামাল উদ্ধার হয়নি।
