খাল খননে ১ কোটি ৮২ লাখ টাকা অনিয়মের অভিযোগ

খাল খননে ১ কোটি ৮২ লাখ টাকা অনিয়মের অভিযোগ

ফন্ট সাইজ:

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার কানমনা-হারাবতী খাল পুনঃখনন প্রকল্পে একই খালের জন্য দুই দফায় ১ কোটি ৮২ লাখ ১৫ হাজার টাকা সরকারি বরাদ্দ দেয়া হলেও অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী কাজ না করা, শ্রমিকের পরিবর্তে ভেকু (এক্সাভেটর) ব্যবহার, কার্যাদেশে উল্লেখিত রেফারেন্স বেড ব্লক (জইই) ও টেম্পোরারি বেঞ্চ মার্ক (ঞইগ) নির্মাণ না করা এবং কাগজে ১৮০ শ্রমিক দেখানোর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, নিম্নমানের কাজের কারণে সরকারি অর্থব্যয় হলেও প্রকল্পের উদ্দেশ্য পূরণ হয়নি।

জানা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ‘টেকসই ক্ষুদ্রাকার পানিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প’-এর আওতায় রোয়াইর সøুইসগেট থেকে বানদীঘি পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের জন্য ১ কোটি ১১ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। প্রকল্পটির উদ্বোধন হয় ২০২৪ সালের ৩১শে মার্চ। পরবর্তীতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে একই খালের আরও ৫ দশমিক ৯০৫ কিলোমিটার অংশ পুনঃখননের জন্য কানমনা-হারাবতী পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির মাধ্যমে ৭১ লাখ ১৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এরমধ্যে কানমনা খালের সাঁতাহার গ্রামের হারাবতী খালের সংযোগ থেকে ইন্দাহার গ্রাম পর্যন্ত ৪ হাজার ৬৮০ মিটার অংশের প্রাক্কলিত ব্যয় ৫৩ লাখ ৩৪ হাজার ১৫০ টাকা এবং হারাবতী খালের বানদীঘি ব্রিজ থেকে গোবিন্দগঞ্জ সীমান্ত পর্যন্ত ১ হাজার ২২৫ মিটার অংশের প্রাক্কলিত ব্যয় ১৭ লাখ ৮০ হাজার ৯২০ টাকা। দ্বিতীয় দফার কাজ চলতি বছরের ১৫ই মার্চ শুরু হয়ে ৩১শে মে শেষ হওয়ার কথা ছিল। ফলে একই খালের জন্য দুই দফায় সরকারি বরাদ্দের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ কোটি ৮২ লাখ ১৫ হাজার টাকা।

কার্যাদেশ অনুযায়ী খালের উপরিভাগের প্রস্থ ২২ থেকে ৩২ ফুট, তলদেশের প্রস্থ ১০ থেকে ১২ ফুট এবং গভীরতা ৮ দশমিক ৫ থেকে ১১ ফুট রাখার কথা। পাশাপাশি ১৩টি জইই ও ২৬টি ঞইগ নির্মাণের নির্দেশনা ছিল। তবে সরজমিন দেখা গেছে, অধিকাংশ স্থানে খালের গভীরতা মাত্র প্রায় ৬ ফুট, উপরিভাগের প্রস্থ ১৬ থেকে ১৮ ফুট এবং তলদেশের প্রস্থ প্রায় ৮ ফুট। কোথাও শুধু উপরের পলি সরিয়ে কাজ শেষ দেখানো হয়েছে। প্রকল্প এলাকায় কোনো সাইনবোর্ডও পাওয়া যায়নি। কার্যাদেশে উল্লেখিত জইই ও ঞইগ-এরও কোনো অস্তিত্ব মেলেনি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের অন্তত ৫০ শতাংশ কাজ শ্রমিক দিয়ে করার শর্ত থাকলেও পুরো কাজই ৬টি ভেকু মেশিন দিয়ে করা হয়েছে। এতে স্থানীয় দিনমজুররা কাজ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। মাত্রাই মুন্নাপাড়া গ্রামের রুহুল আমিন বলেন, ইস্টিমেট অনুযায়ী কাজ হয়নি। শুধু কিছু জায়গার মাটি তুলে ও ঘাস পরিষ্কার করে কাজ শেষ দেখানো হয়েছে। একই গ্রামের মোনোয়ার হোসেন বলেন, ৬টি ভেকু চালিয়ে গরিব শ্রমিকদের কাজ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। কয়েক মাসের মধ্যেই খাল আবার ভরাট হয়ে যাবে।

প্রকল্পটির তদারকি কর্মকর্তা ও এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী আবু জাফর বলেন, শ্রমিক ব্যবহার করা হয়নি তো কী হয়েছে! ৬টি ভেকু মেশিন দিয়েই কাজ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ৫৫ শতাংশ বিল পরিশোধ করা হয়েছে। তবে জইই ও ঞইগ না থাকার বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
কানমনা-হারাবতী পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মফিদুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সরকারি নকশা অনুযায়ী কাজ হয়েছে। স্থানীয় বাস্তবতার কারণে কিছু জায়গায় সামান্য সমন্বয় করা হয়েছে। কালাই উপজেলা প্রকৌশলী সুমন কুমার দেবনাথ বলেন, চূড়ান্ত বিল দেয়ার আগে পোস্ট-ওয়ার্ক মেজারমেন্ট করা হবে। কোথাও কাজ কম হলে বিল কেটে সরকারি কোষাগারে জমা দেয়া হবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন