টাঙ্গুয়ার হাওরে ইঞ্জিনচালিত নৌযান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা

জেলা প্রশাসনের ১৩ দফা নির্দেশনা

টাঙ্গুয়ার হাওরে ইঞ্জিনচালিত নৌযান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা

ফন্ট সাইজ:

দেশের দ্বিতীয় রামসার সাইট খ্যাত টাঙ্গুয়ার হাওরের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ১৩ দফা জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন। নতুন নির্দেশনায় প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ)’তে ইঞ্জিনচালিত নৌযান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা, হাউজবোটের বাধ্যতামূলক নিবন্ধন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণ এবং পর্যটন কার্যক্রমে কঠোর শৃঙ্খলা অনুসরণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সোমবার রাতে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এসব নির্দেশনা জারি করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নির্দেশনাগুলো অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং আগামী ১০ই আগস্টের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ নির্ধারিত ফরমে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে হাউজবোট নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন না করলে বা অনুমতি না থাকলে কোনো হাউজবোট বা নৌযান পরিচালনা করা যাবে না। সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মতিউর রহমান খান বলেন, ইতিমধ্যে হাউজবোট ও পর্যটকবাহী নৌযানের মালিকদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। পুরো টাঙ্গুয়ার হাওরে নয়, কেবল প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) হিসেবে ঘোষিত অংশে কোনো ইঞ্জিনচালিত নৌযান প্রবেশ বা চলাচল করতে পারবে না।

তবে হাওরের অন্যান্য এলাকায় হাউজবোট ও পর্যটকবাহী নৌযান চলাচলে কোনো বাধা নেই। পর্যটকদের নিয়ে নৌযান মাটিয়ান হাওর, বৌলাই নদী হয়ে টেকেরঘাটের শহীদ সিরাজ লেক (নীলাদ্রি) পর্যন্ত চলাচল করতে পারবে। তিনি আরও বলেন, এর আগে গত বছরের ২১শে জুন পর্যটকদের জন্য ১২ দফা নির্দেশনা জারি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে গত বছরের ৬ই নভেম্বর সরকার ‘টাঙ্গুয়ার হাওর ও হাকালুকি হাওর সুরক্ষা আদেশ, ২০২৫’ জারি করে। নতুন নির্দেশনা ওই সুরক্ষা আদেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দেয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সব হাউজবোটের বাধ্যতামূলক নিবন্ধন করতে হবে এবং অনুমতি ছাড়া কোনো হাউজবোট বা নৌযান পরিচালনা করা যাবে না। এ ছাড়া হাউজবোটে উচ্চস্বরে গান, মাইক ব্যবহার ও পার্টির আয়োজন নিষিদ্ধ থাকবে। একবার ব্যবহারযোগ্য (সিঙ্গেল ইউজ) প্লাস্টিক বহন করা যাবে না। প্রতিটি নৌযানে পানি বিশুদ্ধকরণ ফিল্টার রাখতে হবে এবং হাউজবোটে বাধ্যতামূলক সেপটিক ট্যাংক ও অন্তত দু’টি ডাস্টবিন থাকতে হবে। হাওর বা জলাশয়ে কোনো ধরনের বর্জ্য ফেলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। হাউজবোটের দৈর্ঘ্য সর্বোচ্চ ১০০ ফুটের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট, লাইফবয় রিং, অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র এবং গ্যাস সিলিন্ডারের নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। পর্যটকদের জন্য আচরণবিধি দৃশ্যমান স্থানে টানিয়ে রাখতে হবে এবং ভ্রমণ শুরুর আগে তা অবহিত করতে হবে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং হাসপাতালের জরুরি যোগাযোগ নম্বর দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শনের পাশাপাশি প্রতিটি ট্যুরে কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।

ঝড়, প্রবল বৃষ্টি, বজ্রপাত বা দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় পর্যটক পরিবহন বন্ধ রেখে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন