‘এই গণঅভ্যুত্থান হোক আমাদের শেষ গণঅভ্যুত্থান’

‘এই গণঅভ্যুত্থান হোক আমাদের শেষ গণঅভ্যুত্থান’

ফন্ট সাইজ:

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে সমাবেশ ও গণমিছিল করা রাজপথের সংগঠন ‘বিক্ষুব্ধ কবি-লেখক সমাজ’-এর দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেছেন, গণঅভ্যুত্থান রাজনৈতিক বাস্তবতায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সূচনা করলেও সমাজ এবং সংস্কৃতির কাক্সিক্ষত রূপান্তর এখনো পুরোপুরি অর্জিত হয়নি। একটি মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও সংস্কৃতিমনস্ক রাষ্ট্র গঠনে সাংস্কৃতিক চর্চা, মুক্তবুদ্ধির বিকাশ এবং নাগরিক দায়িত্ববোধকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।

গতকাল রোববার রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ‘সমাজ ও সংস্কৃতি বদলের ভাবনা’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিক্ষুব্ধ কবি-লেখক সমাজের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তারা এসব কথা বলেন। এতে দেশের সাহিত্য, সংস্কৃতি, গণআন্দোলন ও নাগরিক সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
বক্তারা বলেন, গণঅভ্যুত্থান সফল হলেও বিপ্লব এখনো অপূর্ণ রয়ে গেছে। জুলাই শহীদদের আকাক্সক্ষার বিপরীতে হাঁটলে বিপর্যয় নেমে আসতে বাধ্য। অনৈক্য, বিভাজন ও সংশয়কে পায়ে দলে বাংলাদেশপন্থার পক্ষে কাজ করতে হবে। রাজনৈতিকভাবে ফ্যাসিবাদ পরাজিত হলেও আধিপত্যবাদী সাংস্কৃতিক শক্তি এখনো সক্রিয় রয়েছে। জুলাই গণহত্যার বিচার এবং ফ্যাসিবাদ পুনর্বাসনের বিরুদ্ধে প্রয়োজন গণঐক্য।

শহীদ আনাসের মা সানজিদা খান দীপ্তি বলেন, শহীদদের আকাক্সক্ষা বাস্তবায়ন করতে হবে। আর সমাজ বদলের আগে নিজেদের বদল করা জরুরি। এই সমাজ যদি না বদলায়, তাহলে শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেঈমানি করা হবে।
গীতিকবি শহীদুল্লাহ্ ফরায়জী বলেন, এই গণঅভ্যুত্থান হোক আমাদের জীবনের শেষ গণঅভ্যুত্থান। বারবার মানুষ জীবন দেবে কেন? জীবন কি এত সস্তা? কারা গণঅভ্যুত্থানকে ব্যর্থ করে দিতে চায়, তাদের চিনতে হবে। একই সঙ্গে তরুণদের বাস্তব সংকট নিয়ে কাজ করতে হবে।
লেখক ও চিন্তক ড. কাজল রশীদ শাহীন বলেন, কেবল কথার কথা কিংবা কবিতা দিয়ে সমাজ বদল হবে না। আমাদের সমাজের মূল ক্ষতের জায়গায় হাত দিতে হবে। তা না হলে আমাদের বারবার জীবন দিতে হবে, কিন্তু তাতেও কোনো লাভ হবে না। আর জীবন দিলে সমাজ কতটা এগোয়? আমি জীবন দিতে চাই, কিন্তু কেউ কি নিশ্চিত করতে পারবে-আমার জীবনের বিনিময়ে সমাজ সুন্দর হবে, আগামী নির্মিত হবে?

অনুষ্ঠানে কবিতা পড়েন কবি সাইয়েদ জামিল, কবি তানজীনা ফেরদৌস, কবি আহমেদ ইসহাক, জুলাইয়ে আহত সমন্বয়ক ও কবি ইব্রাহীম নীরব, শেরীফ ফারুকী, ফারুক খান, সুজন বিশ্বাস, রেজাউল করিম শেখ, রাসেল খান, ফারহানা সাদিকা,আবৃত্তি করেন কবি শাকিল মাহমুদ, কবি সরদার আব্বাস উদ্দীন ও কবি আরিফ হোসেন সবুজ। উপস্থিত ছিলেন লেখক ও শিক্ষক আমিনা রুমিয়াহ শিল্প-সাহিত্য অঙ্গনের তরুণ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল চর্চার মাধ্যমে একটি বৈষম্যহীন, মানবিক ও প্রগতিশীল বাংলাদেশ বিনির্মাণে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন জুলাই শহীদ আনাসের মা সানজিদা খান দীপ্তি ও বাবা শাহরিয়ার খান পলাশ। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন গীতিকবি শহীদুল্লাহ্ ফরায়জী, জাতিসংঘের সিভিল সোসাইটি প্রতিনিধি ড. আবুল কাশেম শেখ, সংবিধান বিশেষজ্ঞ আরিফ খান, লেখক ও চিন্তক ড. কাজল রশীদ শাহীন, প্রকাশক সৈয়দ জাকির হোসেন এবং কবি ও জুলাই সংগঠক বোরহান মাহমুদ। সমাপনী বক্তব্য দেন বিক্ষুব্ধ কবি-লেখক সমাজের প্রতিষ্ঠাকালীন আহ্বায়ক কবি আবিদ আজম।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন