রাজধানীতে ১০ হাজার সিমসহ ৪ চীনা নাগরিক গ্রেপ্তার

রাজধানীতে ১০ হাজার সিমসহ ৪ চীনা নাগরিক গ্রেপ্তার

ফন্ট সাইজ:

রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা ও অনলাইন প্রতারণার অভিযোগে তিন চীনা নাগরিকসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। গত শনিবার রাতে পরিচালিত এই অভিযানে প্রায় ১০ হাজার সক্রিয় সিমকার্ড, বিপুল প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম, বিদেশি মদ ও নগদ টাকা জব্দ করা হয়েছে।

রোববার রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) শফিকুল ইসলাম অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরেন।

ডিবি পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা একটি বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করে অবৈধ ভিওআইপি এবং অনলাইন জুয়া ও প্রতারণার নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছিলেন।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) শফিকুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবির সাইবার ক্রাইম বিভাগের একটি দল বসুন্ধরা এলাকার একটি ছয়তলা ভবনের চতুর্থ ও পঞ্চম তলায় শনিবার রাতে এই অভিযান চালায়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন ঝর্না চাকমা জিয়ানা (২৭) এবং তিন চীনা নাগরিক লিউ হুই জাং (৪৬), ওয়ে ইউজি (৩০) ও শে ই রান (৪২)। অভিযানে ১৪টি ল্যাপটপ, ১৬টি স্মার্টফোন, ২০টি জিএসএম গেটওয়ে ডিভাইস, ২৬ বোতল বিদেশি মদ, নগদ ২ লাখ ৯ হাজার ৭০০ টাকা এবং প্রায় ১০ হাজার সক্রিয় সিমকার্ড উদ্ধার করা হয়। জব্দ করা সিমের মধ্যে প্রায় ৪ হাজার বাংলালিংক অপারেটরের বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ডিবির তথ্য অনুযায়ী, ঝর্না চাকমা নামের ওই নারী পুরো ভবনটি ভাড়া নিয়ে সেটির দুটি ফ্লোর চীনা নাগরিকদের কাছে সাবলেট দেন। সেখানে অবস্থান করেই চীনা নাগরিকেরা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অবৈধ ভিওআইপি ও অনলাইন জুয়ার কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন।

পুলিশ জানায়, চক্রটি সাধারণ মানুষের মোবাইল ফোনে ঘরে বসে বাড়তি আয়, চাকরি কিংবা বিশেষ অফারের প্রলোভন দেখিয়ে এসএমএস পাঠাত। বার্তার ভেতরে থাকা লিংকে ক্লিক করলেই ব্যবহারকারীরা প্রতারণার ফাঁদে পড়তেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে চক্রটি একটি ডিভাইসের সঙ্গে বাহ্যিকভাবে একাধিক সিম স্লট যুক্ত করে একযোগে ১২টি সিম পরিচালনা করত। এর ফলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করলেও কারিগরি জটিলতার কারণে সংশ্লিষ্ট ডিভাইসের আইএমইআই নম্বর দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হতো না।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে এই চক্রটি অনলাইন প্রতারণার মাধ্যমে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা করেছিল।

তিনি আরও বলেন, জব্দ করা বিপুলসংখ্যক সক্রিয় সিম অবৈধভাবে বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। এই অবৈধ সিম বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার কাজ চলছে।

গ্রেপ্তার চারজনের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়েরসহ পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চালু রয়েছে বলে জানিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন