মাত্র কয়েক দিন আগেও ফিফা সভাপতি হিসেবে ফুটবলের সবচেয়ে ক্ষমতাধর অবস্থানে ছিলেন জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তবে বেসরকারি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে ফিফা টুর্নামেন্টের অংশীদারত্ব বিক্রির গোপন প্রচেষ্টাকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন রাজনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছেন তিনি। ইনফান্তিনোর এই বিতর্কিত মাস্টারপ্ল্যান ফাঁস হওয়ার পর থেকেই নড়েচড়ে বসেছে বিশ্ব ফুটবল।
ইউরোপিয়ান ফুটবলের নিয়ন্ত্রণ সংস্থা- উয়েফা এই সুযোগে ইনফান্তিনোকে হটাতে কঠোর অবস্থান নেয়। বিশ্বকাপসহ ফিফার সমস্ত প্রতিযোগিতা বয়কট করার হুমকি দেয় তারা। এমনকি উয়েফা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের ওপর তাদের আর কোনো আস্থা নেই।
উয়েফার পাশাপাশি এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন- এফসি এবং উত্তর, মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান অ্যাসোসিয়েশন- কনকাক্যাফ ফিফার এই একচেটিয়া সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে। এর মধ্যেই পদত্যাগ করেন ইনফান্তিনোর দুই ঘনিষ্ট সহযোগী- সিনিয়র উপদেষ্টা কার্লোস করদেইরো এবং চিফ অপারেটিং অফিসার কেভিন লামৌর। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ইনফান্তিনো তার বিতর্কিত পরিকল্পনা থেকে সরে আসলেও সংকট এখনো কাটেনি। এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি হলো- ফিফা ও ইনফান্তিনোর ভবিষ্যৎ কী? সে বিষয়ে আলোচনা করেছে বৃটিশ গণমাধ্যম বিবিসি।
ইনফান্তিনোকে ক্ষমতাচ্যুত করার সবচেয়ে দ্রুত পথ হতে পারে ২০১৫ সালে সেপ ব্লাটারের মতো তার স্বেচ্ছায় পদত্যাগ। তবে তিনি এখনই হাল ছাড়তে নারাজ। মার্চ মাসে তার চতুর্থ ও শেষ মেয়াদের নির্বাচন পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
অন্যান্য পথের মধ্যে রয়েছে ফিফা কাউন্সিলের জরুরি সভা আহ্বান করা। ৩৭ জন সদস্যের মধ্যে ১৯ জনের সমর্থন পেলে এই সভা ডাকা সম্ভব। এছাড়া উয়েফা চাইলে বিশ্বজুড়ে ফিফার ২১১টি সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের পাঁচ ভাগের এক ভাগ বা ৪৩ জনের লিখিত অনুরোধে একটি বিশেষ কংগ্রেস ডাকার ক্ষমতা রাখে। তবে অনাস্থা ভোটে জয়ী হতে প্রয়োজন হবে ১০৬টি ভোট। যদিও কাতার ও মরক্কোর মতো কিছু দেশ ইতিমধ্যেই ইনফান্তিনোর পাশে দাঁড়িয়েছে, যা তার অবস্থানকে কিছুটা শক্ত করেছে।
যদি শেষ পর্যন্ত নির্বাচন বা অনাস্থা ভোট হয়, তবে উয়েফাকে একজন গ্রহণযোগ্য বিকল্প মুখ খুঁজতে হবে। সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন কনকাক্যাফ সভাপতি ভিক্টর মন্টোগ্লিয়ানি অথবা এএফসি সভাপতি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফা।
বিশ্লেষকদের মতে, ফুটবলের জটিল রাজনীতিতে সাধারণ ব্যবসার মতো পরিস্থিতি সবসময় কাজ করে না। ইনফান্তিনো যদি প্রতিদিন নতুন করে বিভিন্ন দেশের সমর্থন আদায় করতে সক্ষম হন, তবে এই ঝড় কাটিয়ে ওঠার সুযোগ তার রয়েছে। তবে বড় কোনো স্পন্সর প্রতিষ্ঠান ফিফা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলে তার পতন ত্বরান্বিত হতে পারে। সব মিলিয়ে, ফিফার মসনদে ইনফান্তিনোর টিকে থাকা এখন পুরোপুরি নির্ভর করছে আগামী কয়েক সপ্তাহের সমীকরণের ওপর।
ফিফার এই নজিরবিহীন সংকট শুধু একজন সভাপতির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎই নির্ধারণ করবে না, বরং বিশ্ব ফুটবলের শাসনব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। অতীতে দুর্নীতির দায়ে সেপ ব্লাটারের পতনের পর ফুটবলে স্বচ্ছতা আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ইনফান্তিনো। অথচ বর্তমান পরিস্থিতি প্রমাণ করে যে, ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে অস্বচ্ছ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রবণতা এখনো পুরোপুরি দূর হয়নি।
যদি শেষ পর্যন্ত উয়েফা এবং তাদের সমমনা দেশগুলো অনাস্থা ভোটে সফল হয়, তবে ফিফার ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা হতে পারে। অন্যথায়, ফুটবলের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে- তা নিয়ে ইউরোপ এবং অন্যান্য মহাদেশের এই স্নায়ুযুদ্ধ বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনকে দীর্ঘকাল ধরে প্রভাবিত করবে।

জনতা
৪৬ মিনিট আগেকাতার এবং মরক্কো নিজেদের মুসলিম দেশ হিসাবে দাবী করলেও সবসময়ই তারা চোর এবং ইসরাইলের পক্ষ নেয়।