অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি হামলায় আরও অন্তত ৮ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গাজার সিভিল ডিফেন্স এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’ গাজায় যুদ্ধবিরতি, বন্দিমুক্তি ও হামাসের অস্ত্রসংবরণের জন্য ১৫ দফা রোডম্যাপ প্রকাশের মাত্র দুই দিনের মাথায় আবার এই প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়। এ খবর দিয়েছে সংবাদ সংস্থা রয়টার্স। রবিবার ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্স জানায়, দেইর আল-বালাহের দক্ষিণে একটি অ্যাপার্টমেন্টে ইসরাইলি হেলিকপ্টার হামলায় এক পুরুষ ও এক নারী নিহত হন। এছাড়া খান ইউনূসে তিনজন এবং গাজা সিটির ওল্ড সিটিতে একজনসহ উপত্যকা জুড়ে পৃথক হামলায় আরও কয়েকজন প্রাণ হারান।
এর আগে শনিবার মধ্য গাজায় ইসরাইলি হামলায় একটি চিকিৎসাসামগ্রীর গুদাম পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়। মার্কিন প্রশাসনের উন্মোচিত নতুন রূপরেখা অনুযায়ী, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং ইসরাইলি বাহিনী প্রত্যাহারের কথা বলা হলেও তা এখনো বাস্তবে প্রয়োগ করা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে হামাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইসরাইল তাদের সব ধরনের সামরিক অভিযান সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করলেই কেবল তারা অস্ত্র জমা দেওয়ার বিষয় বিবেচনা করবে। তবে এক ইসরাইলি কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, হামাসের সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ না হওয়া পর্যন্ত ইসরাইলি বাহিনী বর্তমান অবস্থান থেকে একচুলও সরবে না। এই শান্তি উদ্যোগ নিয়ে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু প্রকাশ্যে এখনো কোনো মন্তব্য করেননি।
তবে দেশটির অতি-ডানপন্থী চরমপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন গভির একে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি হামাস নেতাদের ওপর হামলা অব্যাহত রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন। এদিকে মার্কিন এই উদ্যোগের অন্যতম জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের সাথে কথা বলেন সাবেক জ্যেষ্ঠ ফাতাহ নেতা মোহাম্মদ দাহলান। তিনি জানান, কুশনার তাকে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি গাজায় হামলা বন্ধে ইসরাইলের সাথে কাজ করছেন। দাহলান উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং এই চুক্তির সাফল্য এখন সম্পূর্ণ নির্ভর করছে গাজায় প্রতিদিনের ইসরাইলি হামলা পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার ওপর।
