দেশ গড়ার কাজে যারা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন ও আমরা বিএনপি পরিবারের যৌথ উদ্যোগে ফ্যাসিবাদের ১৫ বছর: চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনীর এক অনুষ্ঠানে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন। ক্লাবের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে আলোকচিত্র প্রদর্শনী হয়। এতে ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদের শাসনের নির্মমতা এবং জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের আলোকচিত্র স্থান পেয়েছে। আলোকচিত্র প্রদর্শনীটি চলবে তিনদিন সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত। অনুষ্ঠানে উদ্বোধন করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান।
তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ উৎপাতের পর্ব শেষ। এখন আমাদের দেশ গড়ার পালা। যারা তখনো চক্রান্ত ষড়যন্ত্র করেছিল অথবা কেবলমাত্র কৈশোরের বিভ্রান্তিতে ছিল তারা এখন দেশ গড়ার কাজে, গঠনমূলক কাজে তারা মন দিতে চায় না। আন্দোলন করা কারও কারও জন্য পেশা হতে পারে। কিন্তু আমাদের জন্য তা কেবলমাত্রই ভোটাধিকার গণতান্ত্রিক চেতনা এবং একটি স্বাধীন স্বনির্ভর সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার কাজ। সেই আন্দোলনকে আমরা সমাপ্ত করেছি। অতএব, এখন আমাদের কাজ হলো দেশ গড়ার দায়িত্ব। যারা সমস্যা তৈরি করবেন আমরা তাদের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে সমাধানের চেষ্টা করবো। কিন্তু আঙ্গুল যদি বাঁকা করতে হয় রাষ্ট্রের প্রয়োজনে, দেশের প্রয়োজনে, জনগণের প্রয়োজনে সরকারকে তো অবশ্যই তা করতে হবে। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আমরা চেষ্টা করবো শান্তিপূর্ণভাবে এই বিষয়গুলোকে সমাধান করতে।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, তারুণ্যের উচ্ছলতার মধ্যে সাহস থাকতে পারে কিন্তু অভিজ্ঞতা এবং প্রজ্ঞার জন্য যে সময় দরকার তা থাকার কথা না। একথা স্বীকার করার মধ্যে কোনো অপরাধ নেই, এই কথা অস্বীকার করার মধ্যে কোনো হীনম্মন্যতা থাকা উচিত না, কোনো ভুল থাকা উচিত না। বরঞ্চ একথা যারা বোঝে না, যারা অস্বীকার করে ভবিষ্যৎ তাদের জন্য অন্ধকার হতে বাধ্য। ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে আমরা যখন গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি চর্চা করতে চাই, জাতীয় সংসদকে যখন আমরা একটা এফেক্টিভ পার্লামেন্টারি কালচারের মধ্যে নিতে চাই আমরা খেয়াল করেছি পার্লামেন্টের চাইতে রাজপথকেই অনেকের বেশি পছন্দ। আমরা খেয়াল করেছি পার্লামেন্টের ছোটখাটো নাটককে রাজপথে এনে আরও বেশি ওটাকে বাষ্প দিয়ে দেন। সোশ্যাল মিডিয়াতে নানান রকম যুদ্ধে লিপ্ত করার একটা প্রকল্প কেউ কেউ হাতে নিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এ কথা মনে করার কোনো কারণ নাই তারেক রহমানের সরকার এই ষড়যন্ত্রের গভীরতা বোঝে না। একথা ঠিক আমরা বুঝি বলেই কিন্তু আমরা দায়িত্বশীল আচরণ করি, আমরা বুঝি বলেই কিন্তু আমাদের ভাষায় কথা বলি, আমরা বুঝি বলেই কিন্তু আমাদেরকে গঠনমূলক সমাধানের কথা চিন্তা করতে হয়। কেবলমাত্র প্রতিক্রিয়াধর্মী উত্তেজনাকর অশ্লীল বক্তব্য এবং সোশ্যাল মিডিয়াতে এ ধরনের একটা দূষিত পরিবেশ তৈরি করার লক্ষ্যে আমরা আমাদের দায়িত্বকে নিয়োজিত করতে পারি না। বিশেষ করে জনগণ যখন আমাদেরকে রাষ্ট্রের অভিভাবকের দায়িত্ব দিয়েছে, আমাদের নেতা তারেক রহমানকে শহীদ জিয়া-খালেদা জিয়ার ধারাবাহিকতার রিলে রেসের দণ্ডটি দিয়েছে তখন আমাদেরকে এ দায়িত্ব অবশ্যই পালন করতে হবে।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, আমাদের নেতা তারেক রহমান আজ পর্যন্ত কিন্তু কোনো আত্মকেন্দ্রিক ব্যাখ্যা আন্দোলন সম্পর্কে দেন নাই। এই কৃতিত্ব জনগণের। বরঞ্চ তিনি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিয়ে যখন আন্দোলনের প্রধান সেনাপতির দায়িত্ব নিয়েছেন হাজার মাইল দূর থেকে তিনি ধীরে ধীরে আন্দোলনকে বিভিন্ন পর্বে প্রবেশ করেছেন। শুরুতেই তিনি বলেছেন, দেশে যখন সংগ্রাম আন্দোলন চলে তখন তরুণদের, দেশের সংগ্রামী মানুষদের, আমাদেরকে সাহস দেয়ার জন্য সেøাগান তুলেছিলেন ‘যদি তুমি ভয় পাও, তবে তুমি শেষ, যদি তুমি রুখে দাঁড়াও, তবে তুমি বাংলাদেশ’।
আমরা বিএনপি পরিবারের আহ্বায়ক ও প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাছির জামাল, ভিআইপি মোটরসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ভাস্কর নাজম, ফটো জার্মালিস্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি কেএম মহসিন, সাধারণ সম্পাদক বাবুল তালুকদার বক্তব্য রাখেন।
