স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ছিটমহল সেউতা সীমান্তে গত দুইদিনে স্থল ও সমুদ্রপথে অন্তত ৬০ হাজার অভিবাসীর ঢলের পর পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। শনিবার (১ আগস্ট) স্পেন সরকার এই দাবি করেছে। দেশটি জানিয়েছে, সীমান্ত অতিক্রম করে সেউতায় প্রবেশ করা প্রায় সবাই স্বেচ্ছায় আবার মরক্কোতে ফিরে গেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এই তথ্য জানিয়েছে।
এনিয়ে শনিবার স্প্যানিশ কর্মকর্তারা জানান, সেউতায় প্রবেশের চেষ্টা করতে গিয়ে অন্তত ৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। মরক্কোর সীমান্তের অপর পাশেও আরও হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিহতদের মধ্যে কেউ সাঁতার কাটতে গিয়ে ডুবে মারা গেছেন, আবার কেউ সীমান্তের ব্রেকওয়াল বেয়ে কাঁটাতারের বেড়া টপকানোর সময় পদদলিত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন।
স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেস শুক্রবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেন, সেউতায় প্রবেশ করা প্রায় সবাই এখন মরক্কোতে ফিরে গেছে।
ইউরোপজুড়ে উদ্বেগ
হঠাৎ করে এত বিপুলসংখ্যক অভিবাসীর অনুপ্রবেশের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বিভিন্ন দেশ, বিশেষ করে শেনজেন অঞ্চলের সদস্য রাষ্ট্রগুলো।
ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি উরসুলা ফন ডার লেয়েন সেউতার পরিস্থিতিকে “গ্রহণযোগ্য নয়” বলে মন্তব্য করেছেন। এদিকে ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানিয়েছেন, স্পেনের সঙ্গে ফ্রান্সের সীমান্তে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হবে।
অন্যদিকে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দেশের সীমান্ত ও নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে স্পেনের সঙ্গে উন্মুক্ত শেনজেন ব্যবস্থা সাময়িকভাবে স্থগিত করার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। যদিও ইতালির সঙ্গে স্পেনের কোনো স্থলসীমান্ত নেই।
স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ সীমান্ত অতিক্রম করেছে। তবে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৪৮ হাজার ৩০০ জন মরক্কোতে ফিরে গেছে।
সেউতার স্থানীয় সরকারের প্রধান হুয়ান জেসুস ভিভাস জানিয়েছেন, গত কয়েক দিনে ৬০ হাজার পর্যন্ত মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করেছে।
এমন পরিস্থিতিতে শুক্রবার সেউতা সফর করা স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেন, এই গণঅনুপ্রবেশ “স্পেনের আঞ্চলিক সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন।”
দেশটি এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সমুদ্রের দিকে থাকা সীমান্ত বেড়ার সঙ্গে একটি বিশেষ প্রতিরোধক ব্যারিয়ার স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে শুক্রবার রাতে মরক্কোর দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ পুলিশ সীমান্ত এলাকায় জড়ো হওয়া লোকজনকে ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে এবং তাদের সীমান্ত থেকে পেছনে ঠেলে দেয়।
সেউতা এবং মেলিয়া- উভয়ই উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত স্পেনের দুটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল। এই দুইটি অঞ্চল ইউরোপীয় ইউনিয়নের আফ্রিকার সঙ্গে একমাত্র স্থলসীমান্ত। ফলে ইউরোপে প্রবেশের আশায় প্রায়ই এসব এলাকায় অভিবাসীদের ঢল নামে।
অভিবাসীরা সাধারণত মরক্কোর ফনিদেক শহর থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার সাঁতরে সেউতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। আবার কেউ কাছের বেলইউনেশ এলাকা থেকেও সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করেন, যেখানে দূরত্ব তুলনামূলক কম।
সেউতা কর্তৃপক্ষের দাবি, স্পেনের সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক এক রায়ের পর এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ওই রায়ে সমুদ্রপথে আসা অভিবাসীদের তাৎক্ষণিকভাবে ফেরত পাঠানো যাবে না বলে উল্লেখ করা হয়। তবে স্থলপথে সীমান্ত অতিক্রমকারীদের ক্ষেত্রে এই রায় প্রযোজ্য নয়।
এদিকে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী সানচেজের অভিযোগ, মানবপাচারকারী চক্র আদালতের রায় নিয়ে গুজব ছড়িয়ে মানুষকে সীমান্ত পার হতে উৎসাহিত করেছে।
