রাজধানী ঢাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় গত ছয় বছরে ১ হাজার ৩৮৪ জন নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন ২ হাজার ৪৮৮ জন। নিহতদের মধ্যে পুরুষ ৭৪.৭১ শতাংশ, নারী ১৫.৮২ শতাংশ এবং শিশু ৯.৪৬ শতাংশ। শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের একটি প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে ২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত সময়ের দুর্ঘটনার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে পথচারী ৫৯২ জন, মোটরসাইকেল আরোহী ৫৩৬ জন এবং বাস, রিকশা, সিএনজি ইত্যাদি যানবাহনের চালক ও যাত্রী ২৫৬ জন। সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে রাতে। অর্থাৎ ৩৭.৫ শতাংশ দুর্ঘটনাই রাতে সংঘটিত হয়েছে। ভোরে ১০.২৬ শতাংশ, সকালে ১৮.৬৪ শতাংশ, দুপুরে ১৪.০৮ শতাংশ, বিকালে ১২.৫ শতাংশ এবং সন্ধ্যায় ৬.৯৩ শতাংশ দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২১.৭৫ শতাংশ বাস, ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-পিকআপ-ট্যাংকার-ময়লাবাহী ট্রাক ৩৩.২৫ শতাংশ, মোটরসাইকেল ২৬ শতাংশ, মাইক্রোবাস-প্রাইভেটকার-জিপ ৬.২৫ শতাংশ এবং অটোরিকশা-সিএনজি-লেগুনা ১২.৭৩ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটিয়েছে।
প্রতিবেদনে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন উল্লেখ করেছে, বাইপাস রোড না থাকার কারণে রাত ১০টা থেকে ভোর পর্যন্ত রাজধানীতে মালবাহী ভারী যানবাহন বেপরোয়া গতিতে চলাচল করে। ফলে রাস্তা পারাপারে পথচারীরা বেশি নিহত হচ্ছেন। এ ছাড়া, দীর্ঘসময় যানজটের কারণে যানবাহন চালকদের আচরণে অসহিষ্ণুতা ও ধৈর্যহানি ঘটছে, যা সড়ক দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে কাজ করছে। রাজধানীতে যানবাহনের তুলনায় অপ্রতুল সড়ক, একই সড়কে যান্ত্রিক-অযান্ত্রিক, স্বল্প ও দ্রুত গতির যানবাহনের চলাচল, ফুটপাথ হকারের দখলে থাকা, ফুটওভার ব্রিজ যথাস্থানে নির্মাণ না হওয়া ও ব্যবহার উপযোগী না থাকা এবং সড়ক ব্যবহারকারীদের অসচেতনতার কারণে অতিমাত্রায় দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটছে। রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, ডেমরা, মোহাম্মদপুর, কুড়িল বিশ্বরোড এবং বিমানবন্দর সড়ক দুর্ঘটনার হটস্পট হয়ে উঠেছে।
