বাল্যবিয়ের অভিযোগে কনের পিতার জরিমানা

ফন্ট সাইজ:

কুলিয়ারচরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের হস্তক্ষেপে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীর বাল্যবিয়ে বন্ধ হয়েছে। শনিবার বিকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইয়াসিন খন্দকার রামদী ইউনিয়নের মনোহরপুর গ্রামে এক অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় রামদী ইউনিয়নের মনোহরপুর গ্রামের মৃত মো. গাজীউর রহমানের ছেলে সৌদি প্রবাসী আব্দুল মান্নান (৪৭) ও মোছা. নাসিমা বেগম (৪০) দম্পতির ১৩ বছর বয়সী মেয়ে স্থানীয় আগরপুর দিশারী প্রি-ক্যাডেট স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ইসরাতুল জান্নাতের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী বাজিতপুর উপজেলার মধ্য গজারিয়া (ছোট গজারিয়া) গ্রামের মো. মাহফুজ আহমেদ অন্তরের (২২) বিয়ের প্রস্তুতি চলছিল। বাড়িতে প্যান্ডেল বানিয়ে অতিথিদের আপ্যায়নের কাজও চলছিল এবং বরযাত্রীর অপেক্ষায় ছিলেন।

কিন্তু উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইয়াসিন খন্দকার পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে বিয়ে বাড়িতে উপস্থিত হন।
জিজ্ঞাসাবাদে কনের বাবা-মা স্বীকার করেন, তাদের ১৩ বছর বয়সী অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের সঙ্গে তার খালাতো ভাইয়ের বিয়ের আয়োজন করা হয়েছে। কনের বয়স ১৮ বছরের নিচে হওয়ায় এটি ‘বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।’ অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের বিয়ের আয়োজন অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইয়াসিন খন্দকার কনের বাবা আব্দুল মান্নানকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ৩ মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করেন। একইসঙ্গে কনে ১৮ বছর বয়সে পদার্পণ না করা পর্যন্ত বিয়ে দেবেন না মর্মে অভিভাবকদের কাছ থেকে লিখিত মুচলেকা আদায় করা হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইয়াসিন খন্দকার জানান, বাল্যবিবাহ সামাজিক ব্যাধি এবং এটি একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। শিশু ও কিশোরীদের সুরক্ষায় এবং আইন প্রয়োগে উপজেলা প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন