কলা চুরির প্রতিবাদ করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন পটিয়া এডভোকেট ক্লার্কস এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ তোহা (৪৪)। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধের জের ধরে এই তুচ্ছ ঘটনাই শেষ পর্যন্ত ভয়াবহ সংঘর্ষে রূপ নেয়। শুক্রবার দিবাগত রাত প্রায় ১২টার দিকে উপজেলার হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মোনাফ হাজীর পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত তোহা ওই এলাকার মৃত আবুল বশরের ছেলে। তিনি এক ছেলে ও তিন মেয়ের জনক। জানা গেছে, গভীর রাতে তোহার বাড়ির একটি কলা গাছ থেকে কলার ছড়ি কেটে নেয়ার সময় প্রতিবেশী এজাহার মিয়ার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
একপর্যায়ে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, পূর্বশত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের কয়েকজন মিলে তোহাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। হামলার সময় লোহার রডসহ শক্ত বস্তু দিয়ে তার মাথায় আঘাত করা হলে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। নিহতের ভাতিজা মো. ইসহাক অভিযোগ করে বলেন, চাচার গাছ থেকে রাতের আঁধারে কলার ছড়ি কেটে নিয়ে যাচ্ছিল আনোয়ার ও তার সহযোগীরা। চাচা বাধা দিলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে বাটাম, কিল-ঘুষি ও লোহার রড দিয়ে নির্মমভাবে মারধর করে। আমরা দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। ঘটনার পর এলাকাবাসী অভিযুক্ত এজাহার মিয়ার ছেলে আনোয়ার হোসেন (৩০) কে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, হামলার সঙ্গে জড়িত পরিবারের অন্য সদস্যরা ঘটনার পর থেকেই আত্মগোপনে রয়েছে। ঘটনার পর শনিবার সকাল থেকেই এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিহত তোহা দীর্ঘদিন ধরে আদালতের পেশার, পাশাপাশি এলাকায় একজন শান্ত স্বভাবের মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সামান্য একটি কলার ছড়াকে কেন্দ্র করে একজন মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় তারা বিস্মিত ও মর্মাহত। ব্যক্তিগত বিরোধ ও তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সহিংসতার প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। তারা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জিয়াউল হক বলেন, নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনসহ অন্যান্য আলামত পর্যালোচনা করে ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
