হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থেকে চুনারুঘাট উপজেলার সীমান্তবর্তী বাল্লা পর্যন্ত পরিত্যক্ত রেলপথের দুই পাশের শত শত একর সরকারি ভূমি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের অবৈধ দখলে রয়েছে। এসব ভূমির উপর গড়ে উঠেছে অসংখ্য দোকানপাট, মার্কেট, বসতঘর, গুদামঘর, বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য স্থাপনা। একই সঙ্গে পরিত্যক্ত রেললাইনের কোটি কোটি টাকার মূল্যবান যন্ত্রপাতি, রেললাইন, স্লিপার, লোহার সামগ্রী, সিগন্যালিং সরঞ্জাম এবং স্টেশন ভবনের মূল্যবান মালামাল চোরাকারবারিদের মাধ্যমে লুট হয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রেলপথটি পরিত্যক্ত ও অরক্ষিত থাকায় সংঘবদ্ধ দখলদার চক্র সরকারি সম্পদ দখল ও লুটপাট চালিয়ে আসছে। প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি ও নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান না থাকায় দিন দিন বেড়েই চলেছে অবৈধ দখল ও স্থাপনা নির্মাণের ঘটনা।
এদিকে শায়েস্তাগঞ্জ থেকে হবিগঞ্জ সদর পর্যন্ত রেলপথের পাশ ঘেঁষে নির্মিত সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের হবিগঞ্জ বাইপাস সড়কের দুই পাশেও অসংখ্য অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে। এসব স্থাপনার কারণে সড়কের সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে উন্নয়ন কার্যক্রমেও জটিলতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। সূত্র জানায়, বৃটিশ শাসনামলে ১৯২৮ সালে হবিগঞ্জ সদর থেকে বাল্লা পর্যন্ত প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দীর্ঘ রেললাইন নির্মাণ করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের যাতায়াত, কৃষিপণ্য পরিবহন ও বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান মাধ্যম ছিল এই রেলপথ। কিন্তু লোকসান ও বিভিন্ন প্রশাসনিক কারণে ২০০৩ সালে এ পথে ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয় বাংলাদেশ রেলওয়ে। এরপর থেকেই অরক্ষিত হয়ে পড়ে পুরো রেলপথ।
রেল চলাচল বন্ধ হওয়ার পর একের পর এক লুট হয়ে যায় রেললাইনের মূল্যবান সামগ্রী। এ ছাড়া রেলপথের আওতাধীন সাতটি স্টেশন ভবনের অধিকাংশ সম্পদও লুট হয়ে যায়। বর্তমানে অনেক জায়গায় রেললাইনের অস্তিত্ব পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। সরজমিন দেখা গেছে, শায়েস্তাগঞ্জ থেকে বাল্লা পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে রেলের জায়গা দখল করে নির্মাণ করা হয়েছে দোকানপাট, মার্কেট, গ্যারেজ, গুদামঘর, বসতবাড়ি ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক স্থাপনা।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, রেলের শত শত একর সরকারি ভূমি স্থানীয় প্রভাবশালীরা বছরের পর বছর ধরে অবৈধভাবে দখল করে রেখেছেন। কেউ দোকানপাট, কেউ মার্কেট, আবার কেউ বসতবাড়ি নির্মাণ করেছেন।
একইসঙ্গে রেললাইনের কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতি ও মূল্যবান মালামাল চোরাকারবারিদের মাধ্যমে লুট হয়ে গেছে। অথচ এসব দেখার যেন কেউ নেই। তাদের দাবি, অবিলম্বে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে রেলের ভূমি উদ্ধার করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে শায়েস্তাগঞ্জ-বাল্লা রেলপথ পুনরায় চালু করতে হবে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা শিমুল কুমার সাহা বলেন, সরকারি সম্পত্তি কেউ অবৈধভাবে দখল করে রাখতে পারবে না। ইতিমধ্যে অবৈধ দখলের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। খুব শিগগিরই পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে রেলের ভূমি উদ্ধার করা হবে। অন্যদিকে হবিগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জাকির হোসেন বলেন, আমরা ইতিমধ্যে অভিযান চালিয়ে কিছু পাকা স্থাপনা উচ্ছেদ করেছি। অবশিষ্ট অবৈধ স্থাপনাগুলোও পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ করা হবে।
