কুলাউড়ায় ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ

কুলাউড়ায় ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ

ফন্ট সাইজ:

টিলাগাঁও ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল বাছিতের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং হোল্ডিং ট্যাক্সসহ বিভিন্ন খাতের ২০ লক্ষাধিক টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে ইউপি সদস্য সোহেল আহমদ মাসুদ, কয়ছর রশিদ ও আব্দুল আজিজ বেগ, স্থানীয় বাসিন্দা কেরামত আলী এই অভিযোগ তুলে ধরেন। এর আগে তারা পৃথকভাবে ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগ পেশ করেন। অভিযোগকারীরা বলেন, আব্দুল বাছিত ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাচিত সদস্য। প্যানেল চেয়ারম্যান-১ হিসেবে ২০২৪ সালের ১৫ই ডিসেম্বর তিনি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন।

এরপর থেকে তিনি প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। ইউনিয়ন পরিষদের মাসিক সভা, প্রকল্প প্রস্তাব বিষয়ক সভা, আর্থিক সভাসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সভা আহ্বান না করে বিভিন্ন প্রকল্প বণ্টনাদি বিষয়ক সিদ্ধান্ত এককভাবে নেন। তার একক সিদ্ধান্তে ইউনিয়ন পরিষদের হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ের জন্য একটি বেসরকারি সংস্থাকে দায়িত্ব দিয়ে ৩০ লক্ষাধিক টাকা আদায় করা হয়। ওই টাকা থেকে ১২ জন মেম্বারের বকেয়া মাসিক ভাতা বাবত ৯ লাখ টাকা ব্যয় হয়। অবশিষ্ট টাকা পরিষদের অ্যাকাউন্টে জমা না দিয়ে তিনি আত্মসাৎ করেছেন। তাছাড়া পরিষদের দৈনিক আয়-ব্যয় রেজিস্টারে নিয়মিত এন্ট্রি করে ব্যাংকে টাকা জমা রাখা এবং অনুমোদিত খরচের বিপরীতে চেক দ্বারা টাকা উত্তোলনের নিয়মও তিনি বন্ধ করে রেখেছেন। পরিষদের অভ্যন্তরীণ আয় থেকে প্রতিমাসে অন্তত ৪০-৫০ হাজার টাকা তিনি আত্মসাৎ করেছেন। এ ছাড়াও চলতি বছরের মে মাসে উপজেলার ১% এর বরাদ্দকৃত অর্থ থেকে ২ লাখ ৭৪ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন।

২ নম্বর ওয়ার্ডের বালিসিন্দ্রি গ্রামের একটি রাস্তার কাজে ইউনিয়ন উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের বরাদ্দের বিপরীতে সংশ্লিষ্ট মেম্বারের নিকট তিনি ১০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। এই টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় সেখানকার বরাদ্দ বাতিল করে দেন চেয়ারম্যান। এদিকে ইউপি সদস্য তছবির আলীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে তৎকালীন ইউএনও উপজেলা সমবায় কর্মকর্তাকে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের দায়িত্ব প্রদান করেন। তদন্তকালে উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা অভিযোগের আংশিক সত্যতা পান। ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল বাছিত বলেন, বিরোধিতার স্বার্থে বিরোধিতা করা হচ্ছে, এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন। উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা সোনামোহন বিশ্বাস বলেন, অভিযোগের তদন্তকালে আংশিক সত্যতা পাই এবং বিষয়টি নিয়ে অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত ব্যক্তিকে নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে বসে একটি সমঝোতা করে দেয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা আক্তার বলেন, একজন জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে পরিষদের অন্য সদস্যরা একাধিকবার অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন