সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সহকারী নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. আরিফুল্লাহ জেলিন নিখোঁজের প্রায় তিন সপ্তাহ পর তার সন্ধান দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে পরিবার। শনিবার সিলেটে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে জেলিনের মা ফরিদা ইয়াসমীন অভিযোগ করেন, নিখোঁজের সময় থানায় দায়ের করা জিডি তথ্যের সঙ্গে তার জানা ঘটনার অসঙ্গতি রয়েছে। তিনি বিষয়টি গভীরভাবে তদন্তের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে জেলিনের মা ফরিদা ইয়াসমীনসহ পরিবারের সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি দ্রুত ও জীবিত উদ্ধারের জোর দাবি জানিয়ে বলেন, গত ৮ই জুলাই সিলেটের এয়ারপোর্ট থানাধীন খাদিমনগর ইউনিয়নের বিমানবন্দর আবাসিক এলাকার জি-টাইপ কোয়ার্টার থেকে আরিফুল্লাহ জেলিন নিখোঁজ হন। এরপর সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরিবার জানায়, তারা ঠাকুরগাঁও থেকে সিলেটে পৌঁছানোর আগেই জেলিনের সহকর্মী ও বন্ধু পরিচয়ে ধনঞ্জয় কুণ্ডু পিয়াস এয়ারপোর্ট থানায় জিডি করেন। সংবাদ সম্মেলনে জেলিনের মা ফরিদা ইয়াসমীন বলেন, ‘আমার ছেলে যেদিন নিখোঁজ হয়, সেদিন বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত তার সঙ্গে আমার ভিডিও কলে কথা হয়েছে। তখন সে তার বিমানবন্দর আবাসিক কোয়ার্টারেই ছিল।
কিন্তু জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ৮ই জুলাই বিকাল ৩টা ৪৫ মিনিট থেকে রাত ১১টার মধ্যের কোনো এক সময় সে নিখোঁজ হয়েছে। আমার সঙ্গে যখন বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত কথা হয়েছে, তখন বিকাল ৩টা ৪৫ মিনিট থেকে নিখোঁজ হওয়ার কথা কীভাবে বলা হলো- এ প্রশ্নের উত্তর আমরা এখনো পাইনি।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই তথ্যগত অসঙ্গতির কারণে আমার সন্দেহ হচ্ছে, আমার ছেলের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে কেউ প্রকৃত ঘটনা জানেন, কিন্তু তা গোপন করা হচ্ছে। এ কারণে আমি সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থার কাছে অনুরোধ করছি, ওই সময়ে আমার ছেলের সঙ্গে যোগাযোগে থাকা ব্যক্তিদের, বিশেষ করে যিনি জিডি করেছেন, তার বক্তব্যসহ সব তথ্য গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন করা হোক।’ লিখিত বক্তব্যে জেলিনের মা বলেন, ‘আমরা প্রতিটি মুহূর্ত চরম উৎকণ্ঠা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে কাটাচ্ছি। একজন মায়ের একমাত্র আকুতি- আমার সন্তানকে জীবিত অবস্থায় আমাদের কাছে ফিরিয়ে দিন।’
