রাঙ্গামাটিতে এক কৃষকের ফলন্ত পেঁপে বাগান কেটে ধ্বংস করার ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি) রাঙ্গামাটি জেলা শাখা। সংগঠনটির নেতারা অভিযোগ করেছেন, চাঁদার দাবিতে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে এবং এর সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। শনিবার সকালে রাঙ্গামাটি শহরের বনরূপা সিএনজি স্টেশন চত্বরে আয়োজিত মানববন্ধন ও সমাবেশে পিসিসিপি’র নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতারাও অংশ নেন। সমাবেশে পিসিসিপি রাঙ্গামাটি জেলা সভাপতি তাজুল ইসলাম তাজ সভাপতিত্ব করেন এবং সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন।
এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পিসিসিপি’র কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য মো. হাবীব আজম। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন- পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ (পিসিএনপি) রাঙ্গামাটি জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, সহ-সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ইব্রাহিমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, রাঙ্গামাটি শহরের আসামবস্তি এলাকার ব্রাহ্মণ টিলায় কৃষক খলিলুর রহমান দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে একটি বাণিজ্যিক পেঁপে বাগান গড়ে তুলেছিলেন। তাদের দাবি, জেএসএসের কথিত অর্থসংগ্রাহক (কালেক্টর) শান্তি রঞ্জন চাকমা কৃষকের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।
সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করায় গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে দুর্বৃত্তরা বাগানে হামলা চালিয়ে প্রায় ১ হাজার ৪০০টি ফলন্ত পেঁপে গাছ কেটে ফেলে। মানববন্ধনে উপস্থিত হয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিজের ক্ষতির বর্ণনা দেন কৃষক খলিলুর রহমান। তিনি বলেন, পাঁচ বছরের জন্য লিজ নেয়া জমিতে প্রায় ১ হাজার ৮০০টি পেঁপে গাছ রোপণ করেছিলেন। এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৪০০টি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। তার অভিযোগ, চাঁদা না দেয়ার কারণেই এ ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি তিনি প্রাণনাশের হুমকিও পাচ্ছেন বলে দাবি করেন।
ঘটনার বিচার এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। সমাবেশে আরও অভিযোগ করা হয়, লংগদু উপজেলার ৪ নম্বর বগাচত্বর ইউনিয়নের শিবেরআগা এলাকার পরিত্যক্ত পুলিশ ক্যাম্প সংলগ্ন একটি দোকানঘরকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানান বক্তারা। এদিকে পেঁপে বাগান ধ্বংসের ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত কার্যক্রম চলছে জানিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই ঘটনায় ভুক্তভোগী কৃষক থানায় শুক্রবার রাতেই মামলা দায়ের করেছেন এবং পরবর্তী পদক্ষেপ চলমান রয়েছে।
