ঢাকার কেরানীগঞ্জে গত ৫ দিনে বিভিন্ন ঘটনায় ৪ জনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসব ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থাকার অভিযোগে ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- মো. মিন্টু (৪৫) ও মো. রানা (৩২)। তবে এসব লাশ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। জানা যায়, গত ৩১শে জুলাই সকালে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের ঝিলমিল আবাসিক এলাকা থেকে অজ্ঞাতনামা নারীর গলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতলে প্রেরণ করে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শী জানায়, প্রতি শুক্রবার ছুটির দিনে সকালে আমরা ঝিলমিল আবাসিক এলাকার ভেতর ফুটবল খেলতে আসি।
আজকেও খেলার সময় একটি পরিত্যক্ত জঙ্গলে অর্ধগলিত নারীর লাশটি দেখতে পাই। পরে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশকে জানালে তারা লাশ উদ্ধার করে। এদিকে গত ৩০শে জুলাই কেরানীগঞ্জ মডেল থানার হযরতপুর এলাকা থেকে অজ্ঞাত এক অটোচালকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। স্থানীয়দের ধারণা ছিনতাইকারীরা তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে লাশটি ফেলে পালিয়ে যায়। তবে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। গত ২৮শে জুলাই মডেল থানার ব্রাহ্মণ কিত্তা এলাকায় একটি পরিত্যক্ত জমি থেকে তানজিলা নামে এক কিশোরীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় ঢাকা জেলা পিবিআই গত বৃহস্পতিবার রানা নামে মূল ঘাতককে গ্রেপ্তার করে। পিবিআই জানায়, কিশোরী তানজিলার সঙ্গে অটোচালক রানার প্রেম ছিল।
কিন্তু কিশোরী তানজিলার বাবা এই প্রেম মেনে নেয়নি। ইতিপূর্বে তানজিলা প্রেমিক অটোচালক রানাকে ৩০ হাজার টাকা ধার দিয়েছিল। কিন্তু তানজিলার পরিবার রানাকে প্রত্যাখ্যান করায় এবং ৩০ হাজার টাকা প্রেমিকা তানজিলাকে যাতে ফেরত না দিতে হয় সেজন্য তানজিলাকে হত্যা করার পরিকল্পনা করে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গত ২৭শে জুলাই রানা রাতে কৌশলে তানজিলাকে ডেকে এনে ব্রাহ্মণ কিত্তায় একটি পরিত্যক্ত জায়গায় গলা কেটে পালিয়ে যায়। পরে মডেল থানা পুলিশ বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে রানাকে গ্রেপ্তার করে। নিহত কিশোরী তানজিলার বাড়ি কেরানীগঞ্জের রাজেন্দ্রপুর এলাকায়। এ ছাড়া গত ২৮শে জুলাই রাতে মডেল থানার খোলামোড়া এলাকায় মমতাজ বেগম নামে এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় মিন্টু (৪৫) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার রাতে নিহত গৃহবধূকে মিন্টু তার বাসায় ডেকে আনে।
এ সময় ওই গৃহবধূকে কৌশলে জুসের সঙ্গে নেশাজাতীয় দ্রব্য মিশিয়ে পান করিয়ে অজ্ঞান করে। পরে মিন্টু গৃহবধূকে ধর্ষণ করে ঘটনাকে ধামাচাপা দেয়ার জন্য বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে নিহতের চুল কেটে এবং তার চেহারায় বিভিন্নভাবে আঘাত করে বিকৃত করে লাশটি তার ভাড়া বাসার পাশেই ফেলে রাখে। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। গ্রেপ্তারকৃত মিন্টুকে হত্যাকাণ্ডের আলামতসহ আদালতে প্রেরণ করে। মমতাজ মিন্টুর ভাইয়ের বাড়ির পাশেই এক বাড়িতে ভাড়া থাকতো। এদিকে খোলামোড়া এলাকায় গত ২১শে জুলাই রাতে ৪ সন্তানের জনক আলামিন নামে একজনের কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে না পেরে অভিমানে আত্মহত্যা করে।
