প্রযুক্তিহীন রাজনীতি শোষণের হাতিয়ার: রিজভী

প্রযুক্তিহীন রাজনীতি শোষণের হাতিয়ার: রিজভী

ফন্ট সাইজ:

কারিগরি শিক্ষার প্রসার ছাড়া দক্ষ জনশক্তি তৈরি সম্ভব নয় মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেছেন, প্রযুক্তিহীন রাজনীতি শোষণের হাতিয়ার। রাজনীতিবিদকে ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে এমন নয়, তবে কারিগরি বিদ্যা ও প্রযুক্তি সম্পর্কে তার আগ্রহ ও ধারণা থাকা প্রয়োজন। শনিবার রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে বাংলাদেশ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে ‘দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টিতে সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের ভূমিকা, সম্ভাবনা ও সমস্যা’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, একটি জাতিকে কারিগরি শিক্ষার ওপর দাঁড় করাতে না পারলে নানা দিক থেকে শোষণের শিকার হতে হবে। এই শোষণ শুধু দেশের ধনী-গরিবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, আন্তর্জাতিকভাবেও হতে পারে। একটি মানুষ তখনই সম্পদে পরিণত হবে, যখন তার দক্ষতা বাড়বে। আর দক্ষতা অর্জনের জন্য কারিগরি শিক্ষার প্রয়োজন।
তিনি বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকেই কিছু কারিগরি জ্ঞান দেয়া দরকার। মাধ্যমিক পর্যায়ে সেটি আরও জোরদার করতে হবে এবং কলেজ পর্যায়ে এর পরিধি আরও বাড়াতে হবে। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে হবে।

চীনের উন্নয়নের উদাহরণ তুলে ধরে রিজভী বলেন, ১৯৭৮ সাল থেকে চীন যেভাবে পরিবর্তনের পথে এগিয়েছে, সেখানে কারিগরি শিক্ষাকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। দেশটির রাস্তাঘাট, ভবন, শহর ও গ্রামীণ উন্নয়ন দেখে বোঝা যায়, তারা দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে গুরুত্ব দিয়েছে।
বাংলাদেশে কারিগরি শিক্ষার প্রতিষ্ঠান বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি আরও বলেন, বর্তমানে মাধ্যমিক ও কলেজ পর্যায়ে ১৬৪টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। অথচ, দেশে প্রায় ৪৫০টি উপজেলা। প্রত্যেক উপজেলায় কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকা উচিত। উপজেলার বড় বড় গঞ্জ, বাজার ও মার্কেট এলাকাতেও এ ধরনের প্রতিষ্ঠান থাকা প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, অনেক শিক্ষার্থী পারিবারিক ও অর্থনৈতিকসহ নানা কারণে স্কুল থেকে ঝরে পড়ে। তারা যদি কারিগরি জ্ঞান নিয়ে ঝরে পড়ে অথবা অন্তত মাধ্যমিক পর্যায়ে কারিগরি শিক্ষা নেয়, তাহলে তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। একজন ইলেকট্রিশিয়ান বা অন্য কোনো কারিগরি কাজে দক্ষ ব্যক্তি কাজ করে আয় করতে পারেন। কারিগরি শিক্ষার সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিও পরিবর্তন করা প্রয়োজন। শুধু জজ, ব্যারিস্টার, ইঞ্জিনিয়ার, ডাক্তার বা এমবিএ করার স্বপ্ন দেখলেই হবে না। যে শিক্ষার্থী নির্দিষ্ট বিষয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় মেধা বা যোগ্যতা অর্জন করতে পারছে না, তাকে কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ করে তুলতে হবে। কাজ করতে করতেই তার উচ্চশিক্ষার পথও তৈরি হতে পারে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন