গাজার বিভিন্ন এলাকায় ইসরাইল ধারাবাহিক বিমান ও গোলাবর্ষণে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। এতে কমপক্ষে দু’জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। ফিলিস্তিনি ইনফরমেশন সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, গাজার দেইর আল-বালাহ শহরের আল-আকসা হাসপাতালের পশ্চিমে একটি স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ইসরাইলি বিমান হামলা চালায়। এতে আশপাশের এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টি হয় এবং বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের আশ্রয় হিসেবে ব্যবহৃত বহু তাঁবু ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস শহরের পূর্বাঞ্চলেও ইসরাইলি কামান থেকে গোলাবর্ষণ করা হয়েছে।
এদিকে উত্তর গাজার গাজা সিটিতে একটি আবাসিক বাড়িতে ইসরাইলি বিমান হামলায় একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। হামলায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গাজার বোর্ড অব পিস-এর শান্তি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে হামাস নিরস্ত্রীকরণে সম্মত হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গাজাজুড়ে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল।
চিকিৎসকদের সূত্রে জানা গেছে, মধ্য গাজার সালাহ আল-দিন সড়কে ইসরাইলি বিমান হামলায় একজন নিহত হন হয়েছেন। এছাড়া গাজা সিটির সাবরা এলাকায় ইসরাইলি ড্রোন হামলায় আরও একজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ইসরাইল প্রায় ১২০ বছর পুরোনো ফিলিস্তিনি একটি বাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়েছে। বাড়িটি ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠারও প্রায় ৪০ বছর আগে নির্মিত হয়েছিল। ফিলিস্তিনিদের অভিযোগ, এটি তাদের ঐতিহ্য, ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক পরিচয় মুছে ফেলার চলমান অভিযানেরই অংশ।
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা ও ইসরাইলি বাহিনীর অভিযান শুক্রবারও অব্যাহত ছিল। ওয়াফা বার্তা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীরা আল-মুঘাইয়ির গ্রামে হামলা চালিয়ে ১০ বছর বয়সী এক ফিলিস্তিনি শিশুকে গুলি করে আহত করেছে। এছাড়া নাবলুসের দক্ষিণে আওয়ারতা চেকপয়েন্টের কাছে ইসরাইলি সেনারা এক ফিলিস্তিনিকে মারধর করেছে।
নাবলুসে ফিলিস্তিন রেড ক্রিসেন্টের অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি কেন্দ্রের পরিচালক আমজাদ আহমেদ বলেছেন, তাদের চিকিৎসাকর্মীরা হামলায় আহত ২২ বছর বয়সী এক যুবককে চিকিৎসা দিয়েছেন। নাবলুসের কাছে তেল এলাকায় ইসরাইলি বাহিনী প্রায় দিনই অভিযান ও গ্রেপ্তার চালিয়ে যাচ্ছে। গত সপ্তাহান্তে সেখানে বসতি স্থাপনকারীদের এক হামলায় চার ফিলিস্তিনি ও দুই ইসরাইলি নিহত হয়েছিলেন।
