গাছে ঝুলে প্রাণে বাঁচলেন স্বামী, স্রোতে ভেসে গেল স্ত্রী ও দুই কন্যা

বন্যার মর্মান্তিক ট্র্যাজেডি

গাছে ঝুলে প্রাণে বাঁচলেন স্বামী, স্রোতে ভেসে গেল স্ত্রী ও দুই কন্যা

ফন্ট সাইজ:

ভারতের মহারাষ্ট্রে ইয়াভতমাল জেলার দরওহা তালুকায় বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়া একটি সেতু পার হওয়ার সময় একটি মারুতি এরটিগা গাড়ি প্রবল স্রোতে নদীতে ভেসে গেছে। এ ঘটনায় এক নারী ও তার দুই কন্যার মৃত্যু হয়েছে। তবে গাড়ির চালক ও নিহতদের স্বামী- বাবা অবিনাশ খান্ডারে অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে যান। তিনি নদীর মাঝখানে একটি গাছ আঁকড়ে ধরে সারা রাত কাটান। নিহতরা হলেন মাধবী অবিনাশ খান্ডারে, সাচি অবিনাশ খান্ডারে এবং প্রাচি অবিনাশ খান্ডারে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন টাইমস অব ইন্ডিয়া।

ঘটনাটি ঘটে দরওহা-আর্নি সড়কের দাহেলি গ্রামের কাছে। দুই দিনের টানা ভারী বৃষ্টিতে পাডান নদীর ওপরের সেতুটি পানিতে তলিয়ে যায়। রাতের অন্ধকারে পানির গভীরতা ও স্রোতের তীব্রতা বুঝতে না পেরে অবিনাশ গাড়ি চালিয়ে সেতু পার হওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু মুহূর্তেই প্রবল স্রোত গাড়িটিকে সেতু থেকে নদীতে ভাসিয়ে নিয়ে যায়।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, অবিনাশ তার স্ত্রী মাধবী ও দুই মেয়েকে নিয়ে রালেগাঁওয়ে শ্বশুরবাড়িতে গিয়েছিলেন। দিনভর সেখানে কাটিয়ে রাতের খাবার শেষে তারা বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। পথে বোরি আরব গ্রামে এক আত্মীয় ও তার স্ত্রীকে নামিয়ে দিয়ে মধ্যরাতের দিকে দরওহা হয়ে লোনি যাওয়ার পথে দাহেলি গ্রামের কাছে পৌঁছালে দুর্ঘটনাটি ঘটে। গাড়িটি নদীতে ভেসে যাওয়ার সময় অবিনাশ দ্রুত গাড়ি থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। তিনি নদীর মাঝখানে একটি গাছ ধরে প্রাণ বাঁচান। এ সময় তিনি তার এক মেয়ের হাতও ধরেছিলেন। কিন্তু বন্যার পানির প্রবল স্রোতে মেয়েটি তার হাত থেকে ছিটকে গিয়ে ভেসে যায়। গাছের ওপর আটকে থাকা অবস্থায় অবিনাশ সারা রাত চিৎকার করে সাহায্য চাইতে থাকেন।

খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। অন্ধকার ও তীব্র স্রোতের মধ্যেও অভিযান চালিয়ে রাত ১টা ৩০ মিনিটের দিকে অবিনাশকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শুক্রবার ভোরে নিখোঁজ স্ত্রী ও দুই শিশুর খোঁজে আবার উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। দুপুর প্রায় ১টা ৩০ মিনিটে ইয়াভতমাল তালুকার বোরি গোসাভি গ্রামের সীমানা থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্ত শেষে পুলিশ মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।

এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। হাসপাতালে এবং মরদেহ শনাক্তের সময় স্বজনদের কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। স্ত্রী ও দুই মেয়ের মরদেহ দেখে অবিনাশ এবং তার পরিবারের সদস্যরা ভেঙে পড়েন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন