কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অভিমত, নিরাপদ বাংলাদেশের প্রত্যাশা

কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অভিমত, নিরাপদ বাংলাদেশের প্রত্যাশা

ফন্ট সাইজ:

বিএনপি সরকারের কাছে কিশোরগঞ্জের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা অনেক। তারা চায় ন্যায়বিচার, নিরাপত্তা, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ এবং সবার জন্য সমান অধিকার। বৃহস্পতিবার শহরের রিকশা ও অটোরিকশাচালক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে এমন ধারণা পাওয়া যায়। তাদের মতে, রাষ্ট্রের উন্নয়ন তখনই অর্থবহ হবে যখন গরিব ও অসহায় মানুষ নিরাপদে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করতে পারবে এবং আইন সবার জন্য সমানভাবে কার্যকর হবে। তারা এমন একটি বাংলাদেশ দেখতে চান, যেখানে পুলিশ বা কোনো প্রভাবশালী মহলের অন্যায় আচরণ থাকবে না, বিচারব্যবস্থা হবে নিরপেক্ষ, আর দূর হবে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি। কেউ কেউ বলেছেন, বহু বছর পর বিএনপিকে ক্ষমতায় এনেছে মানুষ। কাজেই মানুষের প্রতি বিএনপি’র দায়বদ্ধতা থাকতে হবে। নির্বাচনে বিএনপি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, যে স্বপ্ন দেখিয়েছিল এর প্রতিফলন তাদের কাজকর্ম ও দেশ পরিচালনায় থাকতে হবে। তারা মনে করেন, দেশকে এগিয়ে নিতে হলে বিএনপি’র প্রতিটি স্তরে সৎ, দক্ষ ও যোগ্য নেতৃত্ব নিশ্চিত করতে হবে। দেশে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। যেখানে বেকারত্ব কমে আসবে, শিক্ষা ও চিকিৎসার মান উন্নত হবে এবং সব শ্রেণি-পেশার মানুষ মর্যাদা ও নিরাপত্তার সঙ্গে বসবাস করতে পারবে।


মো. আলম, ব্যবসায়ী
আমি বাংলাদেশটা চাই বিচার-আচার ভালো হোক। গরিব যেন চলতে পারে, গরিবের প্রতি যেন অত্যাচার না করে। পুলিশ আছে। অন্য কিছু আছে তো এরা অত্যাচার করে। কাজেই গরিব যহন আমরা ব্যবসা কইরা খাইয়াম, আমরা নিরাপত্তা চাই। সরকারের কাছে এইডাই আবেদন, আমরা গরিব মানুষ, রিকশা চালাই, অটো চালাই, সবাই যেন একটু নিরাপদভাবে চলতে পারি। আর সরকারের কাছে অনুরোধ থাকবো- যেন গরিবের প্রতি লক্ষ্য থাকে। কারণ আমরা তো কিছু কইরা খাই, আমরার প্রতি সরকারের খেয়াল থাকলে তালেই আমরা খুশি। আর বাংলাদেশের আইনকানুন যেন ভালোভাবে চলে, এইডাই আমরা চাই।


মুস্তাকিম মাহমুদ, অনার্স ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী
আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই- আমাদেরকে এগিয়ে নিতে পারবে এবং বালাদেশের প্রতিটা সেক্টরে সৎ, দক্ষ ও যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তি থাকবে, যাদের দ্বারা রাষ্ট্রের উন্নতি হবে এবং সবার অধিকার তারা ফিরে পাবে। সকল প্রকার দুর্নীতি-চাঁদাবাজি যা আছে সকল কিছু দেশ থেকে দূরে চলে যাবে।


মো. সাগর মিয়া, রিকশাচালক
আমি এমন একটি সুন্দর বাংলাদেশ যেখানে সব মানুষ নিরাপদে চলতে পারবে, সব মানুুষ আইনকানুন ঠিকভাবে পাবে। যার জোর আছে টাকার কারণে আইনকানুন ঠিক থাকে না, সেই বাংলাদেশ চাই না। খালেদা জিয়া অনেক গরিব মানুষের জন্য খাটছেন এবং দেশটার জন্য গরিব মানুষের জন্য অনেক মায়া ছিল তার। তারেক রহমানের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ থাকবে তিনি যেন গরিব এবং সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য আইনকানুন ঠিক থাকে এবং জনমানুষের জন্য দেশটা ভালোভাবে এগিয়ে নিয়ে যায়।


হাফেজ মোহাম্মদ হযরত আলী, ব্যবসায়ী
আমরা চাঁদামুক্ত বাংলাদেশ চাই এবং যারা গরিব, যারা মধ্যবিত্ত, যারা চইলা খাইতা পারে যেমন আমরা অনেকে মাস্টার্সে পর্যন্ত লেখাপড়া কইরা আজকে বেকার হইয়া কাজ পাইতাছি না। লোকলজ্জায় চলতেও পারতাছি না, এই রকম চাই যেন ছোটোখাটো চাকরি সবাই করতে পারে। এক ফ্যামিলির মধ্যে দেখা গেল চারজন, পাঁচজন চাকরি করে, আরেক ফ্যামিলির দেখা গেল চাকরি বলতে কিছুই করতে পারে না, লেখাপড়া কইরা বেকার ঘুরতাছে, যেন সবাই একটা ছোটোখাটো চাকরি কইরা যাইতে পারে এবং ব্যবসা বাণিজ্য কইরা খাইতে পারে, চাঁদা ছাড়া এইরকম একটা বাংলাদেশ চাই যে সকলেই ভালোভাবে চলতে পারে, খাইয়া যাইতে পারে।


মারুফুল ইসলাম সানি, শিক্ষার্থী
জুলাই অভ্যুত্থানের পর যে নির্বাচন হইছে এরপর আমি চাই সকলে যেন স্বাধীনভাবে চলতে পারে, সবকিছুর দিক দিয়ে স্বাধীনতা পায়, কোনো ভয় যেন না পায়। আর আমরা স্টুডেন্ট, স্টুডেন্টদের ক্ষেত্রে যেন আমরা পড়াশোনার সব সুযোগ-সুবিধা পাই এবং ভালো করে পড়াশোনা করতে পারি- এমন সুবিধা আমরা পেতে চাই।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন