এবিএম মূসার ৯৫তম ও সেতারা মূসার ৮৬তম জন্মবার্ষিকী আজ

এবিএম মূসার ৯৫তম ও সেতারা মূসার ৮৬তম জন্মবার্ষিকী আজ

ফন্ট সাইজ:

আজ ২৮শে ফেব্রুয়ারি প্রখ্যাত সাংবাদিক, রাজনীতিক ও বিশ্লেষক এবিএম মূসার ৯৫তম এবং তার সহধর্মিণী, নারী সাংবাদিকতার অগ্রদূত সেতারা মূসার ৮৬তম জন্মবার্ষিকী। প্রখ্যাত সাংবাদিক, রাজনীতিক ও বিশ্লেষক এবিএম মূসা ১৯৩১ সালের এই দিনে ফেনী জেলার ধর্মপুর গ্রামে নানার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। দীর্ঘ ৬৪ বছরের সাংবাদিকতা জীবনে তিনি দেশের গণমাধ্যম অঙ্গনে অনন্য অবদান রেখে গেছেন। ২০১৪ সালের ৯ই এপ্রিল চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ১৯৫০ সালে দৈনিক ইনসাফ-এ কাজের মাধ্যমে তার সাংবাদিকতা জীবন শুরু হয়। একই বছর তিনি ইংরেজি দৈনিক পাকিস্তান অবজারভারে যোগ দেন এবং ১৯৭১ সাল পর্যন্ত রিপোর্টার, স্পোর্টস রিপোর্টার ও বার্তা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় তৎকালীন পাকিস্তান সরকার পত্রিকাটি বন্ধ করে দিলে তিনি দৈনিক সংবাদ-এ যোগ দেন; ১৯৫৪ সালে পুনরায় অবজারভারে ফিরে আসেন।
মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি বিবিসি ও সানডে টাইমসের সংবাদদাতা হিসেবে রণাঙ্গন থেকে প্রতিবেদন পাঠান। ১৯৭৮ সালে ব্যাংককে জাতিসংঘের পরিবেশ কার্যক্রম (এসকাপ) এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে যোগ দেন। ১৯৮৫ থেকে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার মহাব্যবস্থাপক ও প্রধান সম্পাদক ছিলেন। ২০০৪ সালে তিনি দৈনিক যুগান্তর-এর সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
এবিএম মূসা জাতীয় প্রেস ক্লাবের চারবার সভাপতি ও তিনবার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। তিনি পাকিস্তান সাংবাদিক ইউনিয়নের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং পূর্ব পাকিস্তান সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। একুশে পদকসহ দেশি-বিদেশি বহু সম্মাননায় ভূষিত এই সাংবাদিক জীবনের শেষ দিনগুলোতেও টেলিভিশনের জনপ্রিয় আলোচক ও বিশ্লেষক হিসেবে সক্রিয় ছিলেন। তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘মুজিব ভাই’ এবং ‘আমার বেলা যে যায়’। অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছে ‘এবিএম মূসা স্মারক গ্রন্থ’।
সেতারা মূসা: ১৯৪০ সালের ২৮শে ফেব্রুয়ারি তিনি কুমিল্লার লাকসামে তার নানার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। ২০২৩ সালের ১৪ই মার্চ ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। নবম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত অবস্থায় এবিএম মূসার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
সাংবাদিকতা জীবনে তিনি দৈনিক পূর্বদেশ-এর নারী পাতার দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া দৈনিক জনতাসহ বিভিন্ন দৈনিক ও সাপ্তাহিকে কাজ করেন। সাংবাদিকতার পাশাপাশি সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও ছিলেন সক্রিয়। তিনি রেড ক্রিসেন্ট, বাংলাদেশ পরিবার পরিকল্পনা সমিতি, বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সমিতি, সুরভি সংগীত একাডেমি ও গার্লস গাইডসহ বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। নিজ উদ্যোগে ‘সুরুচি সংসদ’ গড়ে তুলে এলাকার নারীদের সম্পৃক্ত করেন এবং পথশিশুদের জন্য বিনা বেতনে একটি বিদ্যালয় পরিচালনা করেন। সাংবাদিকতা ও সমাজসেবায় তার অবদান বাংলাদেশে নারী অগ্রযাত্রার ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন