কয়েক দফায় টানা বৃষ্টির ফলে কলকাতার বাজারে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম লাফিয়ে বেড়ে চলছে। সেইসঙ্গে রয়েছে সরবরাহের ঘাটতি। শুধু সবজির দামই নয়, পোলট্রি মুরগির ডিমের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রতিটি ৯ রুপি। ব্যবসায়ীদের মতে, কয়েক দিনের মধ্যে তা ১০ রুপি ছুঁতে পারে। বাজারে গেলে ৮০ রুপির নিচে তেমন কোনো সবজি কেনা যাচ্ছে না। বেশ কিছু সবজির দাম ১০০ রুপির ওপরে। এক মাসের ব্যবধানে সবজিভেদে কেজিতে ৩০ থেকে ৪০ রুপি পর্যন্ত দাম বেড়েছে।
কলকাতার মানিকতলা, গড়িয়াহাট, শ্যামবাজারসহ কলকাতার উত্তর দক্ষিণের সব বাজারেই দাম বৃদ্ধির আঁচে মধ্যবিত্তের মাথায় হাত। অভিযোগ, কোনো নজরদারি নেই বাজারে সবজির দামের ওপর। ফলে পাইকারি ও খোলা বাজারে দামের বিশাল পাথর্ক্য দেখা যাচ্ছে। পাইকারি বাজারের এক বিক্রেতা অভিযোগ করেছেন, তারা যে দামে সরজি বিক্রি করছেন খোলা বাজারে তা প্রায় ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ বা তারও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। তিনি উদাহরন দিয়ে বলেন, পাইকারি বাজারে পটল ও ঢেঁড়সের দাম ৩০-৩৫ রুপি। কিন্তু খেলা বাজারে সেগুলো বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ৫০-৬০ রুপিতে।
কলকাতার কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেগুন সবর্ত্রই বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১৩০ রুপি দরে। অথচ পাইকারি বাজারে বেগুনের দাম ৭০-৮০ রুপি। বিক্রেতারা অবশ্য জানিয়েছেন, বর্ষায় বেগুনের দাম এমনিতেই খানিকটা বাড়ে। তবে এবারের বৃদ্ধি অনেকটাই বেশি। বরবটি, চিচিঙ্গা, ঝিঙে, ঢেঁড়স, করলা প্রভৃতি ৮০ থেকে ১০০ রুপিতে বিক্রি হচ্ছে। ক্যাপসিকাম ১২০ রুপি, বিনস প্রায় ২০০ রুপিতে বিক্রি হচ্ছে। টমেটো ১১৫-১২০ রুপিতে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা মরিজের দামও বেড়ে প্রায় একশোর কাছাকাছি । দাম বেড়েছে পিঁয়াজেরও। পিঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮০-৮৫ রুপি কেজি দরে।
ব্যবসায়ীদের একাংশের অভিযোগ, আগে নজরদারির একটা ব্যবস্থা ছিল। এখন পালাবদলের পর সেই ব্যবস্থা অকেজো হয়ে রয়েছে। ওয়েস্টবেঙ্গল চাষী ভেন্ডার্স অ্যাসোসিয়েশনের এক কর্তার মতে, বাজারে নজরদারি থাকাটা খুবই জরুরি।
এদিকে গত কয়েকদিনে ডিমের দাম ধাপে ধাপে বেড়ে প্রতিটি ৭ রুপি থেকে ৯ রুপিতে পৌঁছেছে। পশ্চিমবঙ্গ পোলট্রি অ্যাসোশিয়েশনের সম্পাদক মদন মোহন মাইতি জানান, মুরগির খাবার, বিশেষ করে সয়াবিন ও ভুট্টার দাম বেড়ে গেছে। আগে বিদেশ থেকে এগুলো আমদানি হতো। কিন্তু এখন দেশেই উৎপাদন হয়। তবে এবার দেশে এগুলোর উৎপাদন কম হয়েছে। তিনি আরও জানান, মুরগি প্রতিপালনের ব্যয় বৃদ্ধির কারণেই ডিমের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে তিনি আশা প্রকাশ করে বলেছেন, দাম খুব শিগগিরই কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে মাছের বাজারেও দাম বেড়েছে । কিছুদিন আগের তুলনায় দাম বেড়েছে ২০-২৫ শতাংশ। কলকাতায় খাসির মাংসের দাম কোথাও কোথাও বেড়ে প্রতি কেজি ১,১০০ রুপি হয়েছে। পাইকারি গবাদি পশুর দাম নতুন করে বৃদ্ধির ফলেই খোলাবাজারে মাংসের দামে এই লাফ। অন্যত্র দাম অবশ্য ৯০০ থেকে ১০০০ রুপির মধ্যে রয়েছে। পোলট্রির মুরগির মাংস বিক্রি হচ্ছে ২৬৫-২৭০ রুপি প্রতি কেজি দরে। অন্যদিকে সরকারি বিধিনিষেধের ফলে কলকাতার বাজারে গরুর মাংস বিক্রির ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা চলছে। তৈরি হয়েছে সরবরাহের ক্ষেত্রে সংকট। ফলে খোলাবাজারে বিক্রেতারা যে যার মতো ৫০০-৬০০ রুপি দাম নিচ্ছেন বলে এক ক্রেতা জানান। অথচ আগে এই দাম ছিল ২৫০ রুপি। শহরজুড়ে কসাই ও রেস্তোরাঁ মালিকরা বলছেন, নিয়মকানুন নিয়ে বিভ্রান্তি, গুজব এবং জরিমানার ভয়ে গরুর মাংসের সরবরাহ মারাত্মকভাবে কমে গেছে। ফলে দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। কলকাতার রেস্তোরাঁগুলোতে নো বিফ বোর্ড লাগাতে দেখা গেছে। ছোট বড় রেস্তোঁরাগুলো তাদের মেন্যু থেকে বিফের জনপ্রিয় সব পদ বাদ রেখেছেন। পার্ক স্ট্রিটের অলি পাব রেস্তোঁরা বিফ স্টেক মেনু থেকে বাদ দিতে বাধ্য হয়েছে।
