ইতালির বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি ফ্রাঙ্কো বারেসির প্রয়াণ

ইতালির বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি ফ্রাঙ্কো বারেসির প্রয়াণ

ফন্ট সাইজ:

ইতালিয়ান তথা বিশ্ব ফুটবলের এক বর্ণাঢ্য অধ্যায়ের অবসান ঘটলো। এসি মিলান ও আজ্জুরিদের কিংবদন্তি ডিফেন্ডার ফ্রাঙ্কো বারেসি ৬৬ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। শুক্রবার তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে এসি মিলান জানিয়েছে, ফ্রাঙ্কো বারেসির প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো ক্লাবে। অবশ্য তার মৃত্যুর কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি।

গত বছর ফুসফুসের টিউমার অপসারণের জন্য বারেসির অস্ত্রোপচার হয় এবং চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে তার পুনর্বাসন প্রক্রিয়া চলছিল। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মিলানো-কর্তিনা উইন্টার গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অলিম্পিক শিখা বহন করতেও দেখা যায় এই আইকনকে।
১৯৬০ সালের মে মাসে লোম্বার্দিতে জন্ম নেয়া বারেসি ১৯৭৪ সালে মিলানের বয়সভিত্তিক দলে যোগ দেন। চার বছরের মাথায় স্রেফ ১৮ বছর বয়সে মূল দলে অভিষেক হয় তার। দীর্ঘ ২০ বছরের পুরো খেলোয়াড়ি জীবনটি তিনি উৎসর্গ করেন কেবল ‘রোজেনারি’দের লাল-কালো জার্সিকেই।

আশির দশকের শুরুতে ক্লাবটি দুবার ইতালি ফুটবলের দ্বিতীয় স্তর সিরি বি-তে নেমে গেলেও বারেসি দলত্যাগ করেননি। বরং অদম্য নেতৃত্ব দিয়ে দুবারই ক্লাবকে শীর্ষ লীগে ফিরিয়ে আনেন তিনি। মিলানের জার্সিতে তিনি ৬টি সিরি আ শিরোপা ও তিনটি ইউরোপিয়ান কাপ (পরবর্তীতে চ্যাম্পিয়নস লীগ) জিতেছেন। ক্লাবটির হয়ে ১৫ মৌসুমসহ মোট ১৯টি শিরোপা জিতেছেন তিনি। ১৯৯৭ সালে তার অবসরের পর মিলান তার ঐতিহ্যবাহী ৬ নম্বর জার্সিটি চিরতরে তুলে রাখে, যা ক্লাবটির ইতিহাসে প্রথম কোনো খেলোয়াড়ের প্রাপ্ত সর্বোচ্চ সম্মান।

জাতীয় দলের জার্সিতেও বারেসির অবদান স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে। ১৯৮২ সালে ইতালি দলের সদস্য হিসেবে বিশ্বকাপ জয়ের পর, ১৯৯০ বিশ্বকাপে তিনি অল-স্টার দলে জায়গা পান। সবচেয়ে আশ্চর্যজনক ঘটনা ঘটে ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে। হাঁটুর অস্ত্রোপচারের মাত্র ২৫ দিন পর ফাইনালে ব্রাজিলের বিপক্ষে ১২০ মিনিটের পুরোটা সময় মাঠে থেকে তিনি অবিশ্বাস্য নৈপুণ্য প্রদর্শন করেন। যদিও টাইব্রেকারে তার শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় শিরোপা হাতছাড়া হয়।

ইতালি জাতীয় দলের হয়ে তিনি মোট ৮১টি ম্যাচ খেলেছেন। মিলানের জার্সিতে ৭১৯টি ম্যাচ খেলে ১৯৯৭তে অবসর নেন তিনি। ক্লাবের ইতিহাসে বারেসির চেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ড রয়েছে শুধু পাওলো মালদিনির (৯০২)।

শারীরিক শক্তির ওপর নির্ভর না করে অসাধারণ ফুটবল মেধা, টেকনিক এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ আগেভাগে বুঝে নেয়ার অদ্ভুত ক্ষমতার জন্য বারেসি ‘সুইপার’ পজিশনের সংজ্ঞাই বদলে দিয়েছিলেন। পাওলো মালদিনি, আলেসান্দ্রো কোস্তাকুর্তা ও মাউরো তাসোত্তিকে নিয়ে গড়া তার রক্ষণভাগ এসি মিলানকে গড়ে দেয় অজেয় এক দুর্গ। ফ্যাবিও কাপেলোর অধীনে মিলানের সেই ঐতিহাসিক টানা ৫৮ ম্যাচ অপরাজিত থাকার পেছনে তিনিই ছিলেন মূল কাণ্ডারি।

জার্মানির ফ্রাঙ্ক বেকেনবাওয়ারের সঙ্গে তুলনা করে ভক্তরা বারেসিকে ভালোবেসে ‘কাইজার ফ্রাঞ্জ’ উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন। তার সততা, আদর্শ এবং ক্লাবের প্রতি নিখাদ আনুগত্য চিরকাল ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে অমর হয়ে থাকবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন