লিটন-আসাদসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয়ার আবেদন

রাজশাহীতে জুলাই হত্যাকাণ্ড

লিটন-আসাদসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয়ার আবেদন

ফন্ট সাইজ:

রাজশাহীতে জুলাই বিপ্লব চলাকালে সংঘটিত হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সাবেক মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন, সাবেক এমপি মো. আসাদুজ্জামান আসাদসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আমলে নেয়ার আবেদন করা হয়েছে। বিষয়টি মানবজমিনকে নিশ্চিত করেছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

আবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩-এর ১৯(৩) ধারার অধীনে ট্রাইব্যুনাল সংশ্লিষ্ট অপরাধসমূহকে Common Knowledge ও Judicial Notice হিসেবে গ্রহণের এখতিয়ার রাখে।

তদন্ত প্রতিবেদন এবং দালিলিক ও মৌখিক সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনায় অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়, জুলাই বিপ্লব চলাকালে ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট ২০২৪ পর্যন্ত সময়ের ধারাবাহিক ঘটনায় বিশেষ করে ৫ আগস্ট দুপুর আনুমানিক ১টা ১০ মিনিটে রাজশাহী মহানগরের বোয়ালিয়া থানাধীন শেখেরচক স্বচ্ছ টাওয়ারের বিপরীতে লবঙ্গ রেস্টুরেন্টের সামনে শটগান ও পিস্তল থেকে গুলি ছোড়া হয়। এতে আন্দোলনকারী রায়হান আলী নিহত হন। একই সময়ে শাহ মখদুম কলেজের সামনে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন আনজুম সাকিব। এছাড়া সালমান ওরফে শিমুলসহ প্রায় ৪৫ জন গুরুতর আহত হন।

আবেদনে আরও বলা হয়, শেখেরচক স্বচ্ছ টাওয়ার এলাকা, শাহ মখদুম কলেজের সামনের সড়ক, পদ্মা নদীর বেড়িবাঁধ, আলুপট্টি মোড়সহ আশপাশের এলাকায় সংঘটিত এসব ঘটনা মানবতাবিরোধী অপরাধের অংশ। তদন্তে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩-এর ৩(২)(এ), (এফ), (জি), (এইচ) এবং ৪ ধারার অপরাধের অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে, যা আইনের ২০(২) ও ২০এ ধারায় শাস্তিযোগ্য।

প্রসিকিউশনের ভাষ্য, জুলাই বিপ্লব চলাকালে সারা দেশে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর সংঘটিত পদ্ধতিগত (Systematic) ও ব্যাপক (Widespread) হামলার অংশ হিসেবেই রাজশাহীর এসব ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। ফলে মামলাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারাধীন।

আবেদনে ট্রাইব্যুনালের কাছে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩-এর ৯ (১) ধারায় দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে ৩৮ আসামির বিচার শুরু করার আবেদন জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে আইনের ২০ (২) ও ২০এ ধারায় সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান এবং ২০এ ধারার বিধান অনুযায়ী আসামিদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে ক্ষতিগ্রস্তদের অনুকূলে অর্পণেরও আবেদন করা হয়েছে।

আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন, সাবেক এমপি মো. আসাদুজ্জামান আসাদ, বিপ্লব বিজয় তালুকদার, মো. হুমায়ুন কবির, রকি কুমার ঘোষ, রাশিক দত্ত, মো. জহিরুল ইসলাম রুবেলসহ মোট ৩৮ জন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন