কাতার জয়ের উন্মাদনা পেছনে ফেলে আমেরিকা-কানাডা-মেক্সিকো বিশ্বকাপে মাঠে নামে আর্জেন্টিনা। তবে ট্রফি ধরে রাখার মিশন ফাইনালে এসে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে থমকে যায়। এরপর নিউ ইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ঘটে যায় কিছু অনভিপ্রেত ঘটনা। ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই দুদলের খেলোয়াড়দের মধ্যে হাতাহাতি ও তুমুল সংঘর্ষ বেধে যায়। এই ঘটনার জেরে এবার আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ), বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় এবং কোচিং স্টাফের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক ডিসিপ্লিনারি বা শাস্তিমূলক প্রক্রিয়া শুরু করেছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।
ফিফার ডিসিপ্লিনারি কোডের ১৪ নম্বর ধারা অনুযায়ী, গুরুতর অ্যাসল্ট বা শারীরিক লাঞ্ছনার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার নাহুয়েল মোলিনা (দুটি অভিযোগ), মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস (তিনটি অভিযোগ) এবং সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালা (একটি অভিযোগ)। এছাড়া অপর ফুটবলার থিয়াগো আলমাদা ও স্পেনের মিডফিল্ডার গাভির বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষী প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের লম্বা নিষেধাজ্ঞা ও বড় অঙ্কের জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে।
এক বিবৃতিতে ফিফা বলে, ‘ফিফা শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী অভিযুক্তদের নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ দেয়া হয়েছে। এরপর ফিফা শৃঙ্খলাবিধি কমিটি যথাসময়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে।’
ফকল্যান্ড ইস্যু
ফিফার এই পদক্ষেপে শুধু মাঠের মারামারিতেই সীমাবদ্ধ নেই। বরং পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে আর্জেন্টিনার অন্যান্য বিতর্কিত কর্মকাণ্ডও উঠে এসেছে তদন্তে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনাল জয়ের পর মাঠে ‘ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ’ নিয়ে রাজনৈতিক ব্যানার প্রদর্শন।
‘লাস মালভিনাস সন আর্জেন্টিনা’, অর্থাৎ ‘ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার’- এই স্লোগান সম্বলিত ব্যানার নিয়ে সেমিতে জয়ের পর উল্লাস করেন আলবিসেলেস্তেরা। ফিফার ডিসিপ্লিনারি কোডের ১৩ নম্বর ধারা অনুযায়ী, খেলাধুলাকে রাজনৈতিক বা অসদুপায়ে প্রদর্শনের জন্য ব্যবহারের দায়ে এএফএ-র বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে।
এছাড়া বর্ণবাদী আচরণ, ম্যাচ চলাকালীন দর্শকদের বস্তু ছোঁড়া, দেরিতে খেলা শুরু করা এবং শৃঙ্খলা ভঙ্গের মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগও যুক্ত হয়েছে এই চার্জশিটে।
স্পেনের কাছে ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ের গোলে স্বপ্নভঙ্গ হওয়ার পর মাঠের বাইরের এসব আইনি জটিলতা সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের জন্য বড় এক ধাক্কা হয়ে এসেছে। এখন দেখার বিষয়, ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি এই শাস্তির খড়গ কীভাবে প্রয়োগ করে।
