সেই অস্ট্রেলিয়া এই বাংলাদেশ এক নয়

সেই অস্ট্রেলিয়া এই বাংলাদেশ এক নয়

ফন্ট সাইজ:

দীর্ঘ ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ায় লাল বলের লড়াইয়ে নামবে বাংলাদেশ। আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হিসেবে ডারউইন ও ম্যাকাইয়ে আয়োজিত এই সিরিজ সফরকারী বাংলাদেশ দলের জন্য মহা পরীক্ষা। সবশেষ পাকিস্তান বধের টাটকা স্মৃতি নিয়ে সফরকারীরা টেবিলের ৪র্থ স্থানে থাকলেও জিম্বাবুয়ের কাছে সাম্প্রতিক হারের ধাক্কা এবং ইনজুরি চিন্তায় ফেলেছে দলকে। সবশেষ ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলা দলের সদস্য ও সাবেক উইকেটরক্ষক-ব্যাটার খালেদ মাসুদ পাইলট জানিয়েছেন নিজের অভিজ্ঞতার কথা। তার মতে সেই সময় যে অস্ট্রেলিয়া দল আর এ সময়ের বাংলাদেশকে এক করে দেখলে হবে না। তিনি বলেন, ‘সেদিনের মাত্র ৩ বছর টেস্ট খেলা বাংলাদেশের ঝুলিতে এখন ২৬ বছরের অভিজ্ঞতা। তখন অজি দলে ছিল স্টিভ ওয়াহ, অ্যাডাম গিলক্রিস্ট, জাস্টিন ল্যাঙ্গার, ম্যাথিউ হেইডেন ও গ্লেন ম্যাকগ্রাদের মতো কিংবদন্তিরা। অস্ট্রেলিয়ার ড্রিম টিমের সামনে দাঁড়ানো সেই দলের চেয়ে বর্তমান নাজমুল হোসেন শান্তর দল অনেক বেশি পরিপক্ক। ডারউইনের উইকেট কিছুটা মন্থর এবং আবহাওয়া এশিয়ার মতো হওয়ায় মূল লড়াইয়ে সুযোগ থাকবে সমানে সমান পারফর্ম করার। আমি বড় কোনো চ্যালেঞ্জ দেখছি না এই কারণেই।’
এই সফরের আগে প্রস্তুতি ও কন্ডিশন নিয়ে তিনি বলেন, ‘টেস্টের আগে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাওয়াটি অত্যন্ত ইতিবাচক দিক, যা কন্ডিশনের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে সাহায্য করবে। তবে প্রথম টেস্টে আগে বড় ধাক্কা হলো পেস বোলিংয়ের সেরা অস্ত্র নাহিদ রানার অনুপস্থিতি।

তবে প্রশ্ন থাকছে, এক রানাকে ছাড়া কি বাংলাদেশ এতটাই দুর্বল যে হাহাকার করতে হবে! এ নিয়ে পাইলটের মূল্যায়ন ভিন্ন। তিনি বলেন, ‘দেখুন, নাহিদ রানা ছাড়াও দল খেলেছে। মূল বিষয় হলো একজন খেলোয়াড়ের রিদম বা ছন্দ। রানা এখন দারুণ ছন্দে আছে, বোলিং উপভোগ করছে এবং নিয়মিত উইকেট পাচ্ছে। আত্মবিশ্বাসের এই তুঙ্গ অবস্থানটাই বড় বিষয়। যেমন বিশ্বকাপ ফুটবলে মেসির পায়ে বল গেলে ৯০ শতাংশ সম্ভাবনা তৈরি হয় যে গোল হতে পারে। নাহিদ রানার বর্তমান উপস্থিতি বোলিং আক্রমণে ঠিক তেমনই একটি বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাতো। পিক টাইমে থাকা একজন পেসারকে আসলে মিস করবে বাংলাদেশ দল।’ প্যাট কামিন্সের নেতৃত্বে স্কট বোল্যান্ড, জশ হ্যাজলউড, ট্রাভিস হেড, স্টিভ স্মিথ, মিচেল স্টার্ক ও নাথান লায়নকে নিয়ে গঠিত আয়োজকদের পূর্ণ শক্তির স্কোয়াডের বিপক্ষে লড়াইটা মোটেও সহজ হবে না এটাও অবশ্য জানিয়েছেন পাইলট। ২০০৩ অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সবশেষ টেস্ট সিরিজ খেলেছিল বাংলাদেশ দল। সেই স্কোয়াডে ছিলেন খালেদ মাসুদ পাইলটও। অতীতের সেই স্মৃতি হাতড়ে পাইলট দুই যুগের বড় পার্থক্য খুঁজে পান। সেই সময় প্রথম টেস্টে ডারউইনে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ১৩২ রানে এবং দ্বিতীয় টেস্টে কেয়ার্নসে ইনিংস ও ৯৮ রানে জয়ী হলেও এবার খুব সহজ হবে না বিশ্বাস পাইলটের। ওপেনিংয়ে হান্নান সরকার দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে হাঁকান সর্বোচ্চ ৭৬ রান এবং ওপেনার জাভেদ ওমর বেলিম ২৬৫ বল খেলে ২২১ মিনিট ক্রিজে টিকে থেকে করেন ২৬ রান। মিডল অর্ডারে হাবিবুল বাশার সুমন প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে সর্বোচ্চ ৫৪ ও পরেরটিতে ৪৬ রান করেন। বল হাতে মাশরাফি বিন মর্তুজা প্রথম টেস্টে ৭৪ রানে তিন উইকেট নেন, যার শিকার ছিলেন হেইডেন, পন্টিং ও গিলক্রিস্ট। দ্বিতীয় টেস্টে মাশরাফি নেন ২ উইকেট। অজিদের তোপের মুখেও সেদিন লড়েছিল টাইগারদের সেই পাইওনিয়ার দলটি। পাইলট বলেন, ‘এখন তো দলটা আমাদের চেয়ে আরও পরিপক্ক। যদিও বোলিং ইউনিটটা একটু দুর্বল, আবার প্রথম টেস্টে লিটনও নেই।

কিন্তু নিজেদের ভালো আর সেরা ক্রিকেটটা খেলতে পারলে ভেন্যু কিংবা প্রতিপক্ষ কোনোটাই চ্যালেঞ্জ হবে না বলেই আমার বিশ্বাস।’
টাইগারদের বর্তমান স্কোয়াডে পেস আক্রমণে ১৯ ম্যাচে ৫৫ উইকেট নেওয়া তাসকিন আহমেদ ও হাসান মাহমুদের কাঁধে থাকবে বড় দায়িত্ব। ১০৩ টেস্টে ৩৯.১১ গড়ে ৬৮০৬ রান করা অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহীম এবং ৭৮ টেস্টে ১৩টি শতকে ৫১৩১ রান তোলা মুমিনুল হকের ব্যাটিং হবে মূল ভরসা। অধিনায়ক শান্ত ৪২ ম্যাচে ৯টি সেঞ্চুরিসহ ২৪৮৬ রান নিয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেবেন। পাশাপাশি সহ-অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ ৫৮ টেস্টে ২২৩১ রান ও ২১৯ উইকেট নিয়ে অলরাউন্ড ভারসাম্য জোগাবেন। সাকিববিহীন স্পিন আক্রমণে ৬০ টেস্টে ২৭০ উইকেট নেয়া তাইজুল ইসলাম ১৯ বার ৫ উইকেট শিকারের চতুরতায় ট্রাম্পকার্ড হতে পারেন। লিটন দাস ও রানার ইনজুরি সত্ত্বেও লাল বলের সুশৃঙ্খল ক্রিকেট খেলতে পারলে শক্তিশালী অজি ডেরায় দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়বে বাংলাদেশ দল। এ নিয়ে পাইলট বলেন, ‘খুব বড় কোনো চ্যালেঞ্জ ফেস করতে হবে বলে মনে হয় না। ডারউইনের উইকেট সাধারণত মূল অস্ট্রেলিয়ার মতো খুব বেশি বাউন্সি বা গ্রাসি হয় না, কিছুটা মন্থর হয়। সেখানকার আবহাওয়াও বেশ গরম, অনেকটা বাংলাদেশ বা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কন্ডিশনের কাছাকাছি। তবে বোলিং বিভাগে নাহিদ রানা থাকলে ভালো হতো। যেকোনো ম্যাচ জিততে হলে রান করার পাশাপাশি প্রতিপক্ষকে অলআউট করার মতো বোলিং আক্রমণ প্রয়োজন হয়।’


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন