সিডনিতে গ্র্যানি ফ্ল্যাটে আগুনে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু

সিডনিতে গ্র্যানি ফ্ল্যাটে আগুনে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু

ফন্ট সাইজ:

অস্ট্রেলিয়ার সিডনির ওয়াইলি পার্কে একটি গ্র্যানি ফ্ল্যাটে অগ্নিকাণ্ডে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার রাত প্রায় ৯টা ৪৫ মিনিটে আগুন লাগার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় জরুরি সেবা সংস্থাগুলো।

নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ জানিয়েছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর গ্র্যানি ফ্ল্যাটের ভেতর থেকে তিনটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতদের আনুষ্ঠানিক পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা না হলেও প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তারা একই পরিবারের সদস্য। পুলিশের তথ্যমতে, মৃতদের মধ্যে একজন ৫২ বছর বয়সী পুরুষ, একজন ৪৩ বছর বয়সী নারী এবং একজন ১৬ বছর বয়সী কিশোর রয়েছে। পরিচয় নিশ্চিত করতে স্বজনদের সঙ্গে কাজ করছে পুলিশ।

ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ নিউ সাউথ ওয়েলস (এফআরএনএসডব্লিউ) জানিয়েছে, পাঁচটি অগ্নিনির্বাপক ইউনিট ও ২০ জন দমকলকর্মী ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পান, বাড়ির বাইরের অংশে তীব্র আগুন জ্বলছে। আগুনের তীব্রতার মধ্যেই তারা ভেতরে প্রবেশ করে আগুন নেভানোর চেষ্টা চালান। পরে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত গ্র্যানি ফ্ল্যাটে ঢুকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেন।

এফআরএনএসডব্লিউ কমিশনার জেরেমি ফিউট্রেল বলেন, ঘটনাস্থলে পৌঁছে দমকলকর্মীদের নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হয়। বাড়ির চারপাশে ছড়িয়ে থাকা জিনিসপত্র, বাগানের অংশে আগুন এবং গ্র্যানি ফ্ল্যাট থেকে বেরিয়ে আসা তীব্র আগুনের শিখা উদ্ধার কাজকে অত্যন্ত কঠিন করে তোলে। তিনি বলেন, আগুনে পুরো স্থাপনাটি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে।

কমিশনার ফিউট্রেল তিনজনের মৃত্যুকে অত্যন্ত মর্মান্তিক উল্লেখ করে বলেন, প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও দমকলকর্মীরা অসাধারণ সাহসিকতার সঙ্গে কাজ করেছেন। তিনি আরও জানান, আগুন লাগার কারণ উদ্‌ঘাটনে তদন্ত চলছে এবং এটি শেষ হতে সময় লাগবে। তার ভাষায়, এ ধরনের তদন্ত অনেকটা প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধানের মতো; ধ্বংসস্তূপের প্রতিটি স্তর সরিয়ে ঘটনার ধারাবাহিকতা খুঁজে বের করতে হয়।

এদিকে, সিডনির ক্যাম্পসি পুলিশ এরিয়া কমান্ডের গোয়েন্দারা স্টেট ক্রাইম আর্সন স্কোয়াড ও অগ্নি তদন্তকারীদের সঙ্গে যৌথভাবে আগুনের উৎস অনুসন্ধান করছেন। ঘটনাস্থলকে অপরাধস্থল হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এ ঘটনায় করোনারের কাছে একটি প্রতিবেদনও জমা দেওয়া হবে।

প্রতিবেশী এক বাসিন্দা জানান, রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঘুমাতে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় তিনি বাইরে অস্বাভাবিক শব্দ শুনতে পান। বারান্দায় গিয়ে দেখেন, আকাশ কমলা রঙের হয়ে গেছে এবং ছোট ফ্ল্যাটটির ছাদে আগুন জ্বলছে। তিনি বলেন, সাহায্য করতে বাইরে বের হলেও ততক্ষণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

আগুন লাগার কারণ এখনো নিশ্চিত না হলেও কমিশনার ফিউট্রেল সবাইকে বাড়ির স্মোক অ্যালার্ম নিয়মিত পরীক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি হিটার নিরাপদে ব্যবহার এবং ঘরের ভেতরে বারবিকিউ বা কাঠকয়লার চুলার মতো বহিরাঙ্গনের সরঞ্জাম ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়েছেন।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন