জেলা ছাত্রদল সভাপতিসহ ১০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা, হবিগঞ্জে ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার

জেলা ছাত্রদল সভাপতিসহ ১০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা, হবিগঞ্জে ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার

ফন্ট সাইজ:

হবিগঞ্জে এনসিপি নেতাদের ওপর হামলার ঘটনায় ছাত্রদল ও এনসিপি’র পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে ঘিরে গতকাল বুধবার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য জারি করা ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার করেছেন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জি এম সরফরাজ ১৪৪ ধারা প্রত্যাহারের আদেশ দেন। হামলার ঘটনায় হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগনসহ ১০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

এর আগে গতকাল বুধবার সকাল ১০টায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছিল। প্রশাসনের জারি করা ১৪৪ ধারার কারণে পুলিশি বাধায় এদিন বিকালে হবিগঞ্জ শহরে প্রবেশ করতে পারেননি এনসিপি’র কেন্দ্রীয় নেতারা। প্রায় চার ঘণ্টা সড়কে অপেক্ষার পর হবিগঞ্জে প্রবেশের অনুমতি না পেয়ে বাহুবলের কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে বসেই হামলার ঘটনায় অভিযোগ দায়ের করেন তারা। পরে নেতারা মৌলভীবাজারের উদ্দেশে রওনা দেন। বিকাল ৫টা থেকে বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়ির পাশের মুছাই এলাকায় এনসিপি নেতাদের বহনকারী গাড়িবহর আটকে দেয় পুলিশ। নেতারা হবিগঞ্জ শহরে প্রবেশের অনুমতি চাইলেও ১৪৪ ধারা কার্যকর থাকায় পুলিশ তাদের প্রবেশ করতে দেয়নি।

হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদ বলেন, ‘নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় এনসিপি নেতাদের শহরে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। পরে তারা কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে বসে মঙ্গলবারের হামলার ঘটনায় একটি মামলার অভিযোগ দায়ের করেন। মামলার অভিযোগে হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগন, বৃন্দাবন কলেজ ছাত্রদলের সেক্রেটারি রিয়াজ, জেলা ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (১ম) আসিফুল ইসলাম ইমন, ছাত্রদল নেতা মোজাক্কির হোসেন ইমন, আল সাইমুন, মাহফুজ চৌধুরী, ইশতিয়াক রহমান, শেখ সাব্বির, নাজমুল হোসেন অনিস ও রক্সি ইসলামের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার বাদী হয়েছেন জেলা যুবশক্তির আহ্বায়ক তন্ময় তানভীর রুয়েল। এ ছাড়া ২০ লাখ টাকার যন্ত্রপাতি, নগদ ৫ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ করা হয়।

মামলার আবেদনের পর এনসিপির নেতারা গাড়িবহর নিয়ে মৌলভীবাজারে ফিরে যান। মৌলভীবাজার জেলা এনসিপির আহ্বায়ক খালেদ হাসান জানান, কেন্দ্রীয় নেতারা রাতে মৌলভীবাজার সার্কিট হাউসে অবস্থান করেন। বৃহস্পতিবার সকালে সিলেটে নির্ধারিত কর্মসূচিতে অংশ নিতে তারা সেখানে রওনা হবেন।

এর আগে মঙ্গলবার হবিগঞ্জে কর্মসূচি শেষে ফেরার পথে বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের হামলায় এনসিপি’র কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করে দলটি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বুধবার সকাল থেকেই হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন।

পুলিশ জানিয়েছে, হামলার সময় কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের গাড়িও ভাঙচুর করা হয়। এ সময় এনসিপি’র উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিরাপত্তার জন্য শহরের সোনালী ব্যাংকের একটি শাখায় আশ্রয় নেন। পরে পুলিশ তাদের সেখান থেকে উদ্ধার করে মৌলভীবাজারে নিয়ে যায়।

পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এনসিপি পূর্বঘোষিত মৌলভীবাজারের দুটি ‘জুলাই পদযাত্রা’ স্থগিত করে হবিগঞ্জে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দেয়। অপরদিকে জেলা বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের পৃথক কর্মসূচি ঘোষণা করে। এতে শহরে উত্তেজনা সৃষ্টির আশংকায় প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে।

বুধবার বিকাল ৪টার দিকে মৌলভীবাজার সার্কিট হাউস থেকে এনসিপি নেতাদের গাড়ি বহর হবিগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হয়। প্রথমে শ্রীমঙ্গলের চা-কন্যা এলাকায় তাদের আটকে দেয়া হলেও পরে তারা আবার হবিগঞ্জের দিকে অগ্রসর হন। তবে মুছাই এলাকায় এসে পুনরায় পুলিশের বাধার মুখে পড়েন।

গাড়িবহরে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং যুগ্ম সদস্যসচিব মাহমুদা মিতুসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সারজিস আলম অভিযোগ করেন, বিকেল থেকে তাদের গাড়িবহর আটকে রাখা হয়। সন্ধ্যায় শুধু মামলা দায়েরের জন্য হবিগঞ্জ থানায় যেতে চাইলেও পুলিশ অনুমতি দেয়নি। পরে রাত ৮টার দিকে কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে বসেই অভিযোগ দিতে বাধ্য হন তারা। তার দাবি, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনে পুলিশ বাধা দিয়েছে।

অন্যদিকে, কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়ির সামনে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করেন। এছাড়া বিকেলে হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির কার্যালয়ে জেলা যুবদল প্রতিবাদ সভা আয়োজন করে।
পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদ বলেন, ‘এনসিপি ও বিএনপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এড়াতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। এনসিপি নেতারা শহরে প্রবেশ করে সমাবেশ করতে চাইলে সংঘাতের আশঙ্কা ছিল। তাই জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে তাদের কামাইছড়া এলাকায় আটকে দেয়া হয়।’

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন