বান্দরবানে হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় জরুরি সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সকালে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট মাধবী মার্মা। সভায় হামের সংক্রমণ প্রতিরোধ, টিকাদান কার্যক্রম জোরদার, আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্তকরণ, চিকিৎসাসেবা ও জরুরি রোগী পরিবহনের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এমপি মাধবী মার্মা শিশুদের সময়মতো টিকা নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান এবং সংশ্লিষ্টদের সমন্বিতভাবে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন।
সভায় পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক থানজামা লুসাই, জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফরহাদ সর্দার, সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ শাহীন হোসাইন সহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে এমপি মাধবী মার্মা, পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, জেলা প্রশাসক ও সদর জোন কমান্ডার বান্দরবান সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হাম রোগীদের পরিদর্শন করেন এবং তাদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন।
এদিকে, সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হাম রোগীদের পরিদর্শন করেছেন বান্দরবান সেনা জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ হুমায়ুন রশীদ, পিএসসি। দুপুর সাড়ে ১২টায় তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে রোগীদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন। পরিদর্শনকালে জোন কমান্ডার কর্তব্যরত চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন এবং রোগীদের সার্বিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। পরিদর্শন শেষে তিনি চিকিৎসাধীন সকল হাম রোগীর দ্রুত ও পূর্ণ সুস্থতা কামনা করেন। এ সময় চিকিৎসাধীন রোগী ও তাদের স্বজনরা সেনাবাহিনীর এ মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পরিদর্শন শেষে তিনি জানান, উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হলে সেনা জোনের মেইন ড্রেসিং স্টেশন (এমডিএস)-এর মাধ্যমে চিকিৎসা সহায়তা এবং জরুরি রোগী স্থানান্তরে সেনাবাহিনীর এম্বুলেন্স সুবিধা দেয়া হবে।
জানা গেছে, বর্তমানে বান্দরবানে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৩৬ জন। এর মধ্যে ২৪ জনই শিশু। তবে জেলার স্বাস্থ্যসেবার বাস্তব চিত্র নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। জেলা পর্যায়ে এম্বুলেন্স সংকটের পাশাপাশি অধিকাংশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এম্বুলেন্স দীর্ঘদিন ধরে অকেজো থাকায় দুর্গম এলাকা থেকে জরুরি রোগীদের ভাড়ায় গাড়িতে করে হাসপাতালে আনতে হচ্ছে। হামের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে এই সংকট দ্রুত নিরসনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
