ঢাকার ‘ওয়াশিংটন পরীক্ষা’

ঢাকার ‘ওয়াশিংটন পরীক্ষা’

ফন্ট সাইজ:

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির জন্য নতুন এক পরীক্ষার মুহূর্ত তৈরি করেছে ওয়াশিংটন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বেইজিং সফরের ৩৩ দিনের মাথায় ঢাকায় আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গর। তিনদিনের এই সফরকে দুই দেশের নিয়মিত কূটনৈতিক যোগাযোগের বাইরে বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেখছেন কূটনীতিক ও বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, বাংলাদেশের নতুন সরকারের পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকার, বিশেষ করে চীনের সঙ্গে সম্পর্কের গতি-প্রকৃতি এবং কৌশলগত অবকাঠামো প্রকল্প নিয়ে ঢাকার অবস্থান বোঝার চেষ্টা করবে ওয়াশিংটন।

পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আজ দুপুরে সার্জিও গরের ঢাকায় পৌঁছানোর কথা। সফরের শুরুতেই তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এরপর বেশ কয়েকজন মন্ত্রীর সঙ্গেও তার সাক্ষাতের কথা রয়েছে। দ্বিতীয় দিনে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের কথা রয়েছে তার। সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠককে, যা সফরের শেষ দিন আগামী শনিবার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সূত্রের তথ্যমতে, ঢাকা সফর শেষে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্রিফিং ছাড়াই ঢাকা ছাড়বেন তিনি।

সার্জিও গরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিচয় হচ্ছে, তিনি ভারতে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বও পালন করছেন। ফলে তার সফরকে ঘিরে ঢাকা, নয়াদিল্লি ও বেইজিং- এই ত্রিভুজের ভূরাজনৈতিক সমীকরণও আলোচনায় উঠে এসেছে। যদিও সরকারি পর্যায়ে সফরটিকে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অংশ হিসেবেই তুলে ধরা হচ্ছে।
ঢাকার কূটনৈতিক মহলে আলোচনা হচ্ছে, এই সফরের অন্যতম লক্ষ্য হতে পারে নতুন সরকারের পররাষ্ট্রনীতির দিকনির্দেশনা সম্পর্কে সরাসরি ধারণা নেয়া। বিশেষ করে বেইজিংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠতা, অবকাঠামো সহযোগিতা এবং কৌশলগত প্রকল্পে চীনের অংশগ্রহণ নিয়ে ওয়াশিংটনের মূল্যায়নই আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতার মধ্যে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে ভারসাম্য রক্ষা করা। তাদের ভাষায়, ওয়াশিংটন এখন ঢাকার সামনে এক ধরনের কৌশলগত পরীক্ষা হাজির করেছে। বেইজিং সফরের পর বাংলাদেশ কোন কূটনৈতিক পথে এগোচ্ছে, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এই সফর গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

যদিও সরকারি সূত্রগুলো বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন- উভয় দেশের সঙ্গেই জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায় সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিই হবে এক্ষেত্রে প্রধান ভিত্তি।
সফরের আগে গত সপ্তাহে ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত আসিয়ান রিজিওনাল ফোরামের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের ফাঁকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং সার্জিও গরের সঙ্গে বৈঠক করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও উপস্থিত ছিলেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সেখানে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আরও জোরদার করা এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্র নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।

তিস্তা নিয়ে নতুন সমীকরণ: ঢাকার কূটনৈতিক সূত্রগুলোর দাবি, তিস্তা মহাপরিকল্পনায় চীনের অংশগ্রহণের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের অবস্থানে উল্লেখযোগ্য মিল রয়েছে। তাদের মতে, এই প্রকল্পকে শুধু উন্নয়ন প্রকল্প হিসেবে নয়, আঞ্চলিক নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকেও বিবেচনা করছে নয়াদিল্লি। ফলে তিস্তা নিয়ে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত ওয়াশিংটনেরও বিশেষ আগ্রহের বিষয়।

সূত্রগুলো বলছে, প্রধানমন্ত্রীর বেইজিং সফরের আগেই তিস্তা প্রকল্প নিয়ে নিজেদের অবস্থান অনানুষ্ঠানিকভাবে ঢাকাকে জানিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্যসহ নানা বিষয়ে টানাপড়েন থাকলেও দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা ও কৌশলগত বিষয়ে দুই দেশের সিদ্ধান্ত অভিন্ন। অর্থাৎ এক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের কাছে নয়াদিল্লির উদ্বেগ বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে চীনের একটি পর্যবেক্ষক দল তিস্তা মহাপরিকল্পনার বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে নিজেদের সক্ষমতা ও আগ্রহের কথা বেইজিং একাধিকবার প্রকাশ করেছে। প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের আগে ও পরে চীনের বিভিন্ন সরকারি বক্তব্যেও সেই আগ্রহের প্রতিফলন দেখা গেছে।

সরকারও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে দৃঢ় অবস্থানের কথা স্পষ্ট করেছে। গত ২৬শে জুন চীন সফর শেষে দেশে ফেরার তিনদিন পর, ২৯শে জুন জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী তিস্তা মহাপরিকল্পনাকে ‘জাতীয় অগ্রাধিকার’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং যেকোনো মূল্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এর আগে সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারেও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি অন্যতম অঙ্গীকার হিসেবে স্থান পেয়েছিল। তবে কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পথে যদি যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত আপত্তি বা চাপ তৈরি হয়, তাহলে বেইজিং ও ওয়াশিংটনের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে এগিয়ে যাওয়া সরকারের জন্য বড় কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। এক্ষেত্রে দেশের অর্থায়নে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথাও আলোচনায় আছে।

চীনের প্রভাব মোকাবিলায় ঢাকার দিকে ওয়াশিংটনের নজর: শুধু তিস্তা বা আঞ্চলিক ভূরাজনীতি নয়, বাংলাদেশের ডিজিটাল খাতেও চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন ট্রাম্প প্রশাসন। কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, সার্জিও গরের ঢাকা সফরে পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি (এআরটি) বাস্তবায়ন এবং ডিজিটাল খাতে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নীতিমালাও গুরুত্ব পেতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র চায়, বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নীতি, টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো এবং প্রযুক্তি খাতের আইন ও বিধিমালা এমনভাবে প্রণীত হোক, যাতে মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য অনুকূল বিনিয়োগ পরিবেশ নিশ্চিত হয়।

ঢাকার একাধিক কূটনৈতিক সূত্র বলেছে, বাংলাদেশের ডিজিটাল খাতে চীনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি ওয়াশিংটনের অন্যতম উদ্বেগের বিষয়। বিশেষ করে টেলিযোগাযোগ অবকাঠামোয় চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ের ব্যাপক সম্পৃক্ততা এবং ভবিষ্যতের ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নে বেইজিংয়ের সম্ভাব্য ভূমিকা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের আশঙ্কা, এই খাতে চীনের প্রভাব আরও বিস্তৃত হলে তা শুধু বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতাই নয়, কৌশলগত ভারসাম্যের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলোর ভাষ্য, বাংলাদেশ বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নীতিমালা প্রণয়নের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। এই প্রক্রিয়াতেও যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ রয়েছে। তাদের প্রত্যাশা, ডিজিটাল খাতসংক্রান্ত ভবিষ্যৎ আইন, নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রক কাঠামো এমন হবে, যাতে মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা পরিচালনায় কোনো বৈষম্যের মুখে না পড়ে।

এদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় স্বাক্ষরিত বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির (এআরটি) ডিজিটাল বাণিজ্যসংক্রান্ত ধারাগুলোর পূর্ণ বাস্তবায়নের বিষয়টিও সার্জিও গরের সফরে আলোচনায় আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ওই চুক্তিতে ডিজিটাল পণ্য ও সেবার ক্ষেত্রে মার্কিন কোম্পানির বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক কর বা বিধিনিষেধ আরোপ না করার বিষয়ে বাংলাদেশের অঙ্গীকার রয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে বাংলাদেশ যদি তৃতীয় কোনো দেশের সঙ্গে এমন কোনো ডিজিটাল বাণিজ্য চুক্তি করে, যা যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থকে প্রভাবিত করতে পারে, সেক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের সঙ্গে পরামর্শ করার বিধানও চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ঢাকার অবস্থান: সার্জিও গরের ঢাকা সফরকে ইতিবাচকভাবেই দেখছে সরকার। সফরের আগের দিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেন, ম্যানিলায় আসিয়ান রিজিওনাল ফোরামের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের ফাঁকে সার্জিও গরের সঙ্গে তার ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক বহুমাত্রিক এবং উভয় দেশই সেই সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে আগ্রহী। সার্জিও গর শুধু ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত নন, তিনি প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূতও। বাংলাদেশে এটিই তার প্রথম সফর। ফলে তিনি বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতি ও অগ্রাধিকারগুলো সম্পর্কে প্রত্যক্ষ ধারণা নিতে চাইবেন। রোহিঙ্গা সংকটের প্রসঙ্গ তুলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র সবচেয়ে বড় সহায়তাকারী দেশ এবং গরও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত। সফরে রোহিঙ্গা ইস্যুসহ বিভিন্ন পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। মার্কিন বিশেষ দূতের সফরের আগের দিন ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে তার বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে ড. খলিলুর রহমান বলেন, দু’টি ঘটনার মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই। বৈঠকটি প্রয়োজনীয় ছিল বলেই যত দ্রুত সম্ভব অনুষ্ঠিত হয়েছে। অন্যদিকে সার্জিও গরের সফর বাংলাদেশের ওপর কোনো কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করবে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার এ ধরনের কোনো চাপ অনুভব করছে না।

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গেও গরের সফর নিয়ে এই প্রতিবেদকের কথা হয়েছে। যেখানে সফরের নানা দিক নিয়ে সরকারের অবস্থান উঠে এসেছে। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, সার্জিও গর মার্কিন প্রেসিডেন্টের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত। ফলে তার ঢাকা সফর অত্যন্ত সময়োপযোগী। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার। একই সঙ্গে ঢাকা ও ওয়াশিংটনের বর্তমান প্রশাসন বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং কৌশলগত সহযোগিতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে আগ্রহী। পাশাপাশি দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ গড়ে তোলার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আমাদের প্রশাসনের শুরুতেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ব্যক্তিগত দূতের বাংলাদেশ সফর একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। এটি দুই দেশের মধ্যে নতুন ধরনের কৌশলগত বিনিয়োগ অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার সম্ভাবনাও সৃষ্টি করবে।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা এবং ওয়াশিংটন-বেইজিংয়ের মধ্যে ভারসাম্য নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, এই সফরকে ভারত বা অন্য কোনো দেশের প্রেক্ষাপটে দেখার সুযোগ নেই। সার্জিও গর বাংলাদেশ সফর করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত হিসেবে, ভারতে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নয়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণের দেয়া শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ম্যান্ডেট নিয়ে বর্তমান সরকার আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কাজ করছে। বেইজিং ও ওয়াশিংটন- উভয়ই বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার পারস্পরিক শ্রদ্ধা, জাতীয় স্বার্থ এবং বাস্তববাদী কূটনীতির ভিত্তিতে উভয় দেশের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাবে। পররাষ্ট্র উপদেষ্টার ভাষায়, বাংলাদেশের জনগণের দেয়া গণতান্ত্রিক বৈধতাই সরকারকে এমন অবস্থানে রেখেছে, যেখান থেকে জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ওয়াশিংটন ও বেইজিং- দুই পক্ষের সঙ্গেই ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা সম্ভব।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন