সিরাজগঞ্জে ত্রাণের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

ফন্ট সাইজ:

চৌহালী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) হেকমত আলী ও নির্বাহী কর্মকর্তা কার্যালয়ের গোপনীয় সহকারী (সিএ) ইউসুফ আলীর বিরুদ্ধে ত্রাণের টিনের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করছেন বঞ্চিতরা।

২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের ২রা এপ্রিল উপজেলার খাষকাউলিয়া ইউনিয়নের ২৬টি হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে সরকারি বরাদ্দ হিসেবে ৪২ বান্ডিল ঢেউটিন বিতরণ করেন তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোদাদাদ হোসেন। এ টিন বিতরণকালে তিনি সুফলভোগীদের বলেন, প্রতি বান্ডিল টিনের বিপরীতে প্রত্যেক পরিবারকে ব্যাংক চেকের মাধ্যমে তিন হাজার টাকা প্রদান করা হবে। যা উপজেলা পিআইও হেকমত আলী দ্রুত সময়ের মধ্যে আপনাদের হাতে পৌঁছে দেবেন। কিন্তু ইউএনও বদলির দীর্ঘ আড়াই মাস পেরিয়ে গেলেও ২৬টি পরিবারের কাউকেই ওই অর্থ প্রদান করা হয়নি।

খাষকাউলিয়া মধ্য জোতপাড়া গ্রামের সুফলভোগী সাহেরা খাতুন বলেন, টিনের সঙ্গে প্রত্যেককে তিন হাজার টাকা দেয়ার কথা থাকলেও সেটা পিআইও অফিস থেকে আজও দেয়া হয়নি। দু’-একবার অফিসে গেলেও তাদের তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। একই গ্রামের আব্দুল ওহাব বলেন, সরকারি টিন পেলেও টাকার অভাবে সেটি এখনো কাজে লাগাতে পারি নাই। আগের ইউএনও বলেছিল প্রত্যেক বান্ডিল টিনের সঙ্গে তিন হাজার করে টাকা দেয়া হবে। কিন্তু সেটা আজও পাইনি। ইউএনও কার্যালয়ের গোপনীয় সহকারী (সিএ) ইউসুফ আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, টিনের ওই টাকার বিষয়ে আমি তেমন কিছু জানি না, পিআইও সব জানে।

এদিকে, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হেকমত আলী বলছেন, ওই টিন বিতরণের সময় আমি ছুটিতে ছিলাম। তখন শুধু টিনের বরাদ্দ ছিল, অর্থের বরাদ্দ ছিল না। পরবর্তীতে অর্থ বরাদ্দ হয়েছে। ওই সময় যারা ঢেউটিন পেয়েছে, তারা প্রত্যেকে অল্প ক’দিনের মধ্যেই টাকা পেয়ে যাবেন। এ প্রসঙ্গে বর্তমান উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূরুল আমিন বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে উল্লেখ করেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন