সীতাকুণ্ডে নূর মার্কেটের সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ ঝুঁকিপূর্ণ ভবন তদন্তে ইউএনও’র নির্দেশ

ফন্ট সাইজ:

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড পৌর বাজারের নূর মার্কেটের ওয়ারিশসূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি বণ্টন, ‘মিথ্যা’ মামলায় হয়রানি এবং ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের নিরাপত্তা নিয়ে সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন মৃত নূর মোহাম্মদের সাত উত্তরাধিকারী। গতকাল সকাল ১১টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত শুনানিতে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি উপজেলা প্রকৌশলীকে নূর মার্কেট ভবনের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা সরজমিন তদন্ত করে এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। অভিযোগকারীদের মধ্যে রয়েছেন- মৃত নূর মোহাম্মদের ছেলে মো. আবু তাহের ও মো. ইউসুফ, মেয়ে জাহানারা বেগম, ছেনোয়ারা বেগম, মৃত ফাতেমা বেগমের উত্তরাধিকারীরা, ফিরোজা আক্তার ও বেবী আক্তার।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, তারা দীর্ঘদিন ধরে পৈতৃক নূর মার্কেটের সম্পত্তি ও আয়ের ন্যায্য অংশ থেকে বঞ্চিত। বিষয়টি পারিবারিকভাবে, পরে পৌরসভা, থানা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, বাজার কমিটি এবং বিএনপি ও জামায়াতের কয়েকজন নেতার উপস্থিতিতে সমাধানের চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি। অভিযোগকারীদের দাবি, অভিযুক্ত নিজাম ও রাশেদ তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, নূর মার্কেট ভবনের তৃতীয় ও চতুর্থ তলা জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সেখানে আবাসিক হোটেল পরিচালিত হওয়ায় এবং নিচতলায় মাছের বাজার থাকায় পর্যটক ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে তারা শঙ্কা প্রকাশ করেন। ভবনের ছাদ, পিলার ও গ্রেড বিমে ফাটল দেখা দিয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

এ ছাড়া প্রধান সিঁড়ি ভাড়া দিয়ে চলাচলের পথ বন্ধ রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। অভিযোগকারীদের দাবি, ভবন থেকে অর্জিত আয় ৮ জন ওয়ারিশের মধ্যে ৭ জনকে বঞ্চিত করে নিজাম ও রাশেদ এককভাবে ভোগ করছেন। ভবনের প্রায় ৯ লাখ টাকা পৌরকর বকেয়া রয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। তারা ভবনের আয় আইনানুগভাবে সব ওয়ারিশের মধ্যে বণ্টনের দাবি জানান।

অন্যদিকে শুনানিতে অভিযুক্ত নিজাম ও রাশেদ দাবি করেন, ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ নয় এবং অভিযোগকারীদের জন্য বিকল্প জায়গা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। তবে অভিযোগকারীরা এ দাবি অস্বীকার করেন। এ সময় ইউএনও অভিযুক্তদের দাবির সমর্থনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিলের নির্দেশ দেন। শুনানি শেষে অভিযোগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের দ্রুত কারিগরি পরীক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ওয়ারিশদের সম্পত্তির ন্যায়সংগত বণ্টনে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন