সিলেটে প্রবাসীর বাসায় মদের আড়ত

ফন্ট সাইজ:

সিলেট নগরের বালুচরে এক প্রবাসীর বাসায় মদের আড়তের সন্ধান মিলেছে। বুধবার ভোররাতে র‌্যাব সদস্যরা অভিযান চালিয়ে ওই প্রবাসীর বাসা থেকে প্রায় ৮৮২ বোতল বিদেশি মদ ও বিয়ার আটক করেন। এ সময় গ্রেপ্তার করা হয়েছে প্রবাসীর ভাইসহ দুইজনকে। র‌্যাব জানায়Ñ ভোররাতে নগরীর ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের বালুচর নতুনবাজার সংলগ্ন একটি বাসায় অভিযান পরিচালনা করে এই মদ উদ্ধার করা হয়। অভিযানের সময় বিদেশি মদ সংরক্ষণ ও সরবরাহের জন্য ওই বাসার মালিকের ছোট ভাই আবু সাদাত ও সিএনজিচালিত এক অটোরিকশা চালককে গ্রেপ্তার করা হয়। উদ্ধার হওয়া বিভিন্ন নামিদামি ব্র্যান্ডের বিদেশি মদের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় কোটি টাকার কাছাকাছি হতে পারে বলে ধারণা করছে র‌্যাব।

অভিযানের সময় মদ সংরক্ষণ ও সরবরাহের জন্য বাড়ি দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা প্রবাসীর ছোট ভাই আবু সাদাতের সম্পৃক্ততা পায় র‌্যাব। তার হেফাজতেই এসব বিদেশি মদ সংরক্ষণ করা হতো এবং সেখান থেকে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় তাকে প্রাথমিকভাবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অভিযান চলাকালে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ চালককে হেফাজতে নেয়া হয়েছে। উদ্ধারকৃত বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিদেশি মদের মধ্যে রয়েছে- ৭৫০ মিলি রয়েল গ্রিন ৫৯ বোতল, রয়েল স্ট্রং ৮ বোতল, ব্লেন্ডার প্রাইড ১২৭ বোতল, স্ট্রেলিং রিসার্ভ (বি-৭) ৬ বোতল, সিগনেচার ৬৪ বোতল, আইকনিক হোয়াইট ৫২ বোতল, ওল্ড মন্ক ৬ বোতল, ৩৭৫ মিলি ব্লেন্ডার প্রাইড ১৪৭ বোতল, আইকনিক হোয়াইট ৬৭ বোতল, রয়েল গ্রিন ৫৭ বোতল, সিগনেচার ২৩ বোতল, ওল্ড মন্ক ৭৭ বোতল, আইস ভদকা ১১ বোতল, ম্যাজিক মোমেন্ট ১৬ বোতল, ১৮০ মিলি রয়েল স্ট্রং ৩৫ বোতল এবং সিগনেচার ৩৩ বোতল এবং কিং ফিসার (স্ট্রং) বিয়ার ৯৫ বোতল। র‌্যাব-৯’র মেজর সাদমান বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মহানগরীর বালুচর এলাকায় মধ্যরাতে একটি আবাসিক বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বাসার নিচতলার একটি স্টোররুম থেকে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ ও বিয়ার উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি জানান, ঘটনায় বাড়িটির দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা প্রবাসীর ছোট ভাই আবু সাদাতকে প্রাথমিকভাবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তার হেফাজতেই এসব বিদেশি মদ সংরক্ষণ করা হতো এবং সেখান থেকে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হতো বলে প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।
এছাড়া অভিযান চলাকালে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালককে হেফাজতে নেয়া হয়েছে। মেজর সাদমান বলেন, এটি একটি আবাসিক এলাকায় পরিচালিত গোপন মদের গুদাম। দীর্ঘদিন ধরে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদের চালানের তথ্য পাওয়া গেলেও গুদামটির অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছিল না। গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে এবার সেই গুদাম শনাক্ত করে অভিযান চালানো হয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন