সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ১২৫, বাড়ছে বিচরণ

সর্বশেষ জরিপ

সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ১২৫, বাড়ছে বিচরণ

ফন্ট সাইজ:

২৯শে জুলাই বিশ্ব বাঘ দিবস। ‘সবাই হই সচেতন, বাঘ করি সংরক্ষণ’। এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বাগেরহাটের শরণখোলা রেঞ্জসহ সুন্দরবনের চারটি রেঞ্জে একযোগে পালিত হচ্ছে বিশ্ব বাঘ দিবস। সুন্দরবনে সম্প্রতি বাঘের উপস্থিতি ও দৃশ্যমানতা বৃদ্ধি পাওয়ায় বনবিভাগের কর্মী ও পর্যটকদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। বনবিভাগ সূত্রে জানা যায়, মাত্র তিনদিনের ব্যবধানে পূর্ব সুন্দরবনের পৃথক দু’টি এলাকায় খুব কাছ থেকে বাঘের দেখা পেয়েছেন বনরক্ষীরা। গত ২৬শে জুলাই পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের অভয়ারণ্য কেন্দ্রের ‘টাইগার পয়েন্ট’ এলাকায় একটি বাঘকে নদী পার হতে দেখেন বনরক্ষীরা; ঘটনাটির ভিডিও চিত্র ধারণ করেন বনকর্মী বিএম সাইফুর রহমান। এর আগে ২৩শে জুলাই চাঁদপাই রেঞ্জের আন্ধারমানিক ইকো ট্যুরিজম কেন্দ্র ও বনবিভাগের টহল ফাঁড়ি অফিস সংলগ্ন এলাকায় একটি রয়েল বেঙ্গল টাইগার এসে প্রায় ১৫ মিনিট ঘোরাফেরা করে আবার বনে ফিরে যায়। এ ছাড়া গত ২০ মাসেও একাধিকবার বনরক্ষীদের চোখে পড়েছে বাঘ।

গত আড়াই দশকে পূর্ব সুন্দরবনের অন্তত ৯১টি বাঘের মৃত্যু হয়েছে এমন তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে। এ ছাড়া উদ্ধার হওয়া বাঘের চামড়ার সূত্র ধরে আরও কয়েকটি বাঘ শিকারি চক্রের হাতে হত্যা হলেও তা নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। সর্বশেষ ২০২৪ সালের বাঘ জরিপ অনুযায়ী, সুন্দরবনে বর্তমানে ১২৫টি বাঘ রয়েছে, যার ৫৯ শতাংশ অবস্থান করছে বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবনে। ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের মার্চ পর্যন্ত ৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে সর্বাধুনিক ক্যামেরা ট্র্যাকিং পদ্ধতিতে এই জরিপ পরিচালিত হয়।

২০১৪ সালে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ছিল ১০৬টি, যা ২০১৮ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ১১৪টিতে এবং সর্বশেষে ২০২৪ সালে সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী বাঘ বৃদ্ধি পেয়ে ১২৫টিতে উন্নীত হয়। সুন্দরবন সংলগ্ন বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের তাফালবাড়ি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আব্দুল মালেক রেজা বলেন, শুধু আইন করলেই বাঘ রক্ষা করা যাবে না। বাঘ রক্ষা করতে হলে আগে হরিণ রক্ষা করতে হবে। তবে সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় বন্যপ্রাণী নিধনকারী চক্রগুলো এখন আর বাঘ শিকার করে না মাঝেমধ্যে হরিণ শিকার করে এমন তথ্য পাওয়া যায়। সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, বনের দু’টি এলাকায় বনরক্ষীদের খুব কাছ থেকে দু’টি বাঘের দেখা মেলা এবং আন্ধারমানিক এলাকায় বন অফিস চত্বরে বাঘের মুক্ত বিচরণ বিচরণ বৃদ্ধিরই স্পষ্ট প্রমাণ। তিনি বলেন, গত ১৩ই জুলাই চিকিৎসা শেষে বনে অবমুক্ত করা হয় একটি বাঘিনীকে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন